দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কক্সবাজারের টেকনাফের সেন্টমার্টিন দ্বীপে একটি বেসরকারি ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর ২২ শিশুর শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। এ ঘটনায় উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের একটি চিকিৎসক দল সেন্টমার্টিনে গিয়ে শিশুদের পরীক্ষা ও চিকিৎসা দিয়েছে।
বুধবার (৭ অক্টোবর) সকাল ১০টার দিকে টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল কর্মকর্তা ডা. নওশাদ আলম কাননের নেতৃত্বে তিন সদস্যের চিকিৎসক দল শাহপরীরদ্বীপ থেকে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। পরে দলটি সেন্টমার্টিন ২০ শয্যাবিশিষ্ট হাসপাতালে পৌঁছে খতনা করা শিশুদের চিকিৎসা দেয়।
চিকিৎসক দলের তথ্যমতে, খতনা করা ১২০ শিশুকে পরীক্ষা করা হয়। এর মধ্যে ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে। উপজেলা প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, পরীক্ষায় ২২ শিশুর শরীরে সংক্রমণ শনাক্ত হয়েছে। তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে তারা ভালো আছে।
ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খতনা করানোর পর কয়েকজন শিশুর ক্ষতস্থানে ব্যথা, ফুলে যাওয়া, পুঁজ ও সংক্রমণের মতো উপসর্গ দেখা দেয়। কোনো কোনো শিশুর ক্ষতস্থান থেকে রক্তক্ষরণও হয়েছে। পরে পরিস্থিতির অবনতি হলে পরিবারের সদস্যরা শিশুদের চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যান।
এর আগে ৪ অক্টোবর সেন্টমার্টিন দ্বীপের অবকাশ রিসোর্টে আল-মোমিন সমাজকল্যাণ ফাউন্ডেশনের উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা, ওষুধ বিতরণ ও শিশুদের খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। শায়খ মুফতী মাহবূবুল্লাহ কাসেমীর তত্ত্বাবধানে এ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।
আয়োজকদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের একটি চিকিৎসক দল কর্মসূচিতে অংশ নেয়। সেখানে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করা হয়। পরে শিশুদের বিনামূল্যে ওষুধ দেওয়ার কথাও জানানো হয়। কর্মসূচিতে অংশ নিতে চিকিৎসক দলটি টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয় থেকে অনুমতি নিয়ে সেন্টমার্টিনে যায়।
খতনা করার কয়েকদিন পর কিছু শিশুর শারীরিক সমস্যা দেখা দিলে বিষয়টি স্বাস্থ্য বিভাগের নজরে আসে।
সেন্টমার্টিনে পাঠানো চিকিৎসক দলের প্রধান ডা. নওশাদ আলম কানন বলেন, খতনা করা শিশুদের মধ্যে কয়েকজনের সংক্রমণের খবর পাওয়ার পর তারা সেন্টমার্টিনে যান। সেখানে ১২০ শিশুকে প্রাথমিকভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১০ শিশুর ক্ষতস্থানে নতুন করে ড্রেসিং করা হয়েছে।
তিনি বলেন, খতনার পর নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ না খাওয়ানো, সময়মতো ড্রেসিং না করা এবং খতনা কার্যক্রমে নিয়োজিতদের অসচেতনতার কারণে এসব সমস্যা হয়ে থাকতে পারে।
ডা. নওশাদ আলম কানন আরও বলেন, উপকূলীয় ও দুর্গম এলাকায় এ ধরনের চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে শিশুদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও প্রেসক্রিপশন দেওয়া জরুরি। খতনার পর নিয়ম অনুযায়ী ওষুধ খাওয়ানো এবং নির্দিষ্ট সময়ে ড্রেসিং করা হলে এ ধরনের সমস্যা অনেকটাই এড়ানো সম্ভব।
তিনি জানান, বর্তমানে অসুস্থ শিশুদের অন্য কোথাও নেওয়ার প্রয়োজন নেই। সেন্টমার্টিনেই তাদের প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব।
টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, শিশুদের চিকিৎসার জন্য বুধবার সকালে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে তিন সদস্যের একটি চিকিৎসক দল সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। তারা শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দিয়েছে।
ইউএনও জানান, পরীক্ষায় ২২ শিশুর শরীরে সংক্রমণ পাওয়া গেছে। তাদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। বর্তমানে শিশুরা ভালো আছে। নিয়ম অনুযায়ী চিকিৎসা ও ড্রেসিং করা হলে আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে তারা সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, চিকিৎসক দলের তথ্য অনুযায়ী, সময়মতো ড্রেসিং না করা, প্রয়োজনীয় সতর্কতা না নেওয়া এবং পর্যাপ্ত ওষুধ না দেওয়ার কারণে শিশুদের মধ্যে সংক্রমণ হয়ে থাকতে পারে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দুর্গম দ্বীপ এলাকায় এ ধরনের স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচি আয়োজনের ক্ষেত্রে আরও সতর্কতা প্রয়োজন। বিশেষ করে শিশুদের খতনা করার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ, ড্রেসিং ও প্রয়োজনীয় পরবর্তী চিকিৎসা নিশ্চিত করা জরুরি।
যে আই