দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পদ্মা নদীর এক পাড়ে পাবনার নাজিরগঞ্জ, অন্য পাড়ে রাজবাড়ীর ধাওয়াপাড়া। দুই জেলার মানুষের যোগাযোগের গুরুত্বপূর্ণ এই নৌরুটে আবারও বন্ধ হয়ে গেছে ফেরি চলাচল। নদীতে স্রোত বেড়ে যাওয়ায় ফেরি চলাচল ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে—এমন কারণ দেখিয়ে ৫ অক্টোবর থেকে ফেরি সার্ভিস বন্ধ রেখেছে কর্তৃপক্ষ।
এর আগে গত ৭ সেপ্টেম্বর থেকে টানা ১৬ দিন ফেরি চলাচল বন্ধ ছিল এই রুটে। পরে ২৩ সেপ্টেম্বর ফেরি সার্ভিস চালু হলেও মাত্র ১২ দিনের মাথায় আবারও তা বন্ধ হয়ে যায়। এতে দুই জেলার মানুষের সরাসরি যোগাযোগ ব্যাহত হওয়ায় বিকল্প পথে যাতায়াত করতে হচ্ছে যাত্রী ও যানবাহনকে। ফলে বাড়ছে সময় ও পরিবহন খরচ।
যাত্রী ও স্থানীয়দের অভিযোগ, এই নৌরুটে ফেরি চলাচল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঘটনা নতুন নয়। নদীতে স্রোত বাড়লেই পারাপারে দেখা দেয় সমস্যা। তাদের দাবি, পর্যাপ্ত সক্ষমতার ফেরি না থাকা, পুরোনো ও দুর্বল ফেরি, ঘাটের অব্যবস্থাপনা এবং নাব্যতা-সংক্রান্ত সমস্যার কারণে প্রায়ই ব্যাহত হয় পারাপার।
স্থানীয়দের ভাষ্য, নদীতে স্রোত থাকা স্বাভাবিক। তাই স্রোতের মধ্যেও নিরাপদে চলাচলের উপযোগী ফেরি ও প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। বারবার ফেরি বন্ধের কারণে এই নৌরুট ব্যবহারকারী মানুষকে দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।
রাজবাড়ীর যাত্রী আলতাফ হোসেন বলেন, বহুদিন ধরে এই পথে চলাচল করছেন তিনি। মাঝেমধ্যে ফেরি বন্ধ থাকায় ভোগান্তিতে পড়তে হয়। এই পথে চলাচলে সময় ও খরচ দুটোই কম লাগে বলে জানান তিনি।
পাবনার আতাইকুলার ব্যবসায়ী ইয়াছিন আলী শেখ বলেন, নিয়মিত এই পথে যাতায়াত করেন তিনি। কয়েক দিন বন্ধ থাকার পর ফেরি আবার চালু হয়েছিল। এখন ফেরি বন্ধ থাকায় খুবই বিপদে পড়েছেন। দ্রুত ফেরি চলাচল চালু হলে সবার জন্য সুবিধা হবে বলে জানান তিনি।
স্থানীয় বাসিন্দা আকিব মন্ডল বলেন, এই রুটে চলাচলকারী ফেরিগুলোর অবস্থা খুবই খারাপ। ঝড় এলে ফেরিগুলো ভেঙে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। যাত্রীদের দুর্ভোগ কমাতে নতুন ফেরি দেওয়ার দাবি জানান তিনি।
বিআইডব্লিউটিসির নাজিরগঞ্জ-ধাওয়াপাড়া ফেরি সার্ভিসের ব্যবস্থাপক এম এন এ আল শিবলী বলেন, যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থেই ফেরি চলাচল বন্ধ রাখা হয়েছে। নদীতে আবারও স্রোত বেড়ে যাওয়ায় আপাতত ফেরি সার্ভিস বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, ফেরিগুলো যথেষ্ট শক্তিশালী এবং এই নৌপথে চলাচলের উপযোগী ফেরি রয়েছে। ফেরি চলাচলের ক্ষেত্রে অবকাঠামোগত কোনো সমস্যা নেই। তবে নদীর স্রোত স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত ঝুঁকি নিয়ে ফেরি চালানো হবে না। পরিস্থিতি অনুকূলে এলে পুনরায় ফেরি সার্ভিস চালু করা হবে।
ফেরি চলাচল বন্ধ থাকায় এই নৌপথ ব্যবহারকারী যাত্রী ও যানবাহনগুলোকে বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে। এতে বাড়তি সময় ও খরচের পাশাপাশি দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রী ও পরিবহন সংশ্লিষ্টরা। নদীর স্রোত কমে গেলে দ্রুত ফেরি সার্ভিস চালুর দাবি জানিয়েছেন তারা।
এমএস/