দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝিনাইদহ বিআরটিএ কার্যালয়ে প্রয়োজনীয় সেবা নিতে এসে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করতে হচ্ছে সাধারণ মানুষকে। নির্ধারিত সময়ে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের কার্যালয়ে না পাওয়া, দাপ্তরিক কাজে ধীরগতি এবং এক ডেস্ক থেকে অন্য ডেস্কে ঘোরানোর অভিযোগে ভোগান্তিতে পড়ছেন সেবাপ্রত্যাশীরা।
রোববার (৪ অক্টোবর) দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, সকাল থেকেই বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ বিআরটিএ কার্যালয়ে ভিড় করছেন। কেউ এসেছেন ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদন বা নবায়ন করতে, কেউ যানবাহনের নিবন্ধন, মালিকানা বদলি কিংবা ফিটনেস-সংক্রান্ত কাজে। তবে দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করেও অনেকে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের দেখা পাচ্ছেন না।
এদিন দুপুর দেড়টা পর্যন্ত ঝিনাইদহ বিআরটিএ কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস, মোটরযান পরিদর্শক সোহাগ হোসেন ও উচ্চমান সহকারী আবু সাঈদকে কার্যালয়ে দেখা যায়নি।
সেবা নিতে আসা কয়েকজন অভিযোগ করেন, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে নির্ধারিত সময়ে অফিসে এলেও দীর্ঘ সময় ধরে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের পাওয়া যাচ্ছে না। কখনো কর্মকর্তারা সভায় আছেন, আবার কখনো দাপ্তরিক কাজে বাইরে রয়েছেন বলে জানানো হচ্ছে। ফলে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করেও কাজ না হওয়ায় হতাশ হয়ে ফিরে যেতে হচ্ছে তাদের।
কোটচাঁদপুর উপজেলার লক্ষ্মীপুর এলাকা থেকে আসা রাকিব হাসান বলেন, সকাল থেকে মোটরসাইকেলের কাগজ নবায়নের জন্য অপেক্ষা করছেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার সঙ্গে দেখা করার সুযোগই পাচ্ছেন না। সরকারি অফিসে এসে এভাবে সময় নষ্ট করা খুবই কষ্টকর।
আরেক সেবাপ্রত্যাশী বলেন, অনলাইনে অনেক সেবা চালু হলেও বাস্তবে বিভিন্ন পর্যায়ে কর্মকর্তাদের সহযোগিতার প্রয়োজন হয়। কিন্তু কর্মকর্তা না থাকলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে, সেটিই বড় প্রশ্ন।
জেলা সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধি ড. আনোয়ারুজ্জামান আজাদ বলেন, বিআরটিএর মতো গুরুত্বপূর্ণ সেবা প্রতিষ্ঠানে কর্মকর্তাদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করা জরুরি। ড্রাইভিং লাইসেন্স, যানবাহনের নিবন্ধন ও ফিটনেস সনদসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সেবা সরাসরি পরিবহন ব্যবস্থার সঙ্গে যুক্ত। একটি সেবা পেতে দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হলে এর প্রভাব সাধারণ মানুষের কর্মজীবনেও পড়ে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে সহকারী পরিচালক দেবাশীষ বিশ্বাস বলেন, তিনি ছুটিতে রয়েছেন। মোটরযান পরিদর্শকও পারিবারিক কারণে ছুটি নিয়েছেন। তবে অন্যরা কেন অফিসে ছিলেন না, সে বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না।
বিষয়টি সম্পর্কে বিআরটিএ খুলনা বিভাগীয় পরিচালক প্রকৌশলী তানভির হোসেন বলেন, তিনি বিষয়টি শুনেছেন। একসঙ্গে এতজন কর্মকর্তা অফিসে অনুপস্থিত থাকার কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
এমএস/