দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঝিনাইদহ শহরকে যানজটমুক্ত ও সৌন্দর্যবর্ধনের লক্ষ্যে নেওয়া ৪০ কোটি টাকা ব্যয়ের সড়ক উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। সড়ক ও জনপথ (সওজ) বিভাগের আওতাধীন সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ প্রকল্পে সাববেজ নির্মাণে নির্ধারিত মানের খোয়ার পরিবর্তে আস্ত ইট ও মাটি ব্যবহারের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
রোববার (৪ অক্টোবর) বিকেলে সরেজমিনে প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে এমন চিত্র দেখা যায়। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতি টের পেয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের লোকজন ভেকু দিয়ে সড়ক থেকে আস্ত ইট তুলে নিতে শুরু করেন বলেও অভিযোগ রয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, ঝিনাইদহ কেন্দ্রীয় বাসটার্মিনাল থেকে আড়াপপুর হয়ে হামদাহ পর্যন্ত সাড়ে চার কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণে দুই প্যাকেজে ৪০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী ১৮ ফুট প্রশস্ত সড়কটি ৩০ ফুটে উন্নীত করার কথা। এর মধ্যে ১৬ কোটি টাকা ব্যয়ে রিজিড পেভমেন্ট এবং ২৪ কোটি টাকা ব্যয়ে ফ্লেক্সিবল পেভমেন্ট নির্মাণের কথা রয়েছে।
মূল কাজ পেয়েছে হাসান টেকনো ও মাসুদ হাইটেক নামের দুটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, মূল ঠিকাদাররা কাজটি সাব-ঠিকাদারের মাধ্যমে করাচ্ছেন। প্রকল্প এলাকায় বাবু পাটোয়ারীর নেতৃত্বে কাজ পরিচালিত হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ঘটনাস্থলে উপস্থিত স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হান্নান, ওলিয়ার রহমান ও সবুজ হোসেন অভিযোগ করে বলেন, শুরু থেকেই প্রকল্পের কাজে অনিয়ম করা হচ্ছে। সাববেজ নির্মাণে বালি ব্যবহার না করে মাটি ও নিম্নমানের আস্ত ইট দিয়ে রোলার চালানো হচ্ছে। সরকারি অর্থে বাস্তবায়নাধীন প্রকল্পে এভাবে কাজ করা হলে জনগণের অর্থের অপচয় হবে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তাঁরা।
অভিযোগ রয়েছে, নির্মাণকাজে তদারকির জন্য সওজের উপসহকারী প্রকৌশলী হাসান আল মামুনের সার্বক্ষণিক উপস্থিত থাকার কথা থাকলেও কাজ চলার সময় তাঁকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর বিকেলেই প্রকল্প এলাকা পরিদর্শনে যান ঝিনাইদহ সওজের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জিয়া উদ্দীন ও নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন। কাজের ধরন এবং ভেকু দিয়ে ইট তুলে নেওয়ার দৃশ্য দেখে তাঁরা অসন্তোষ প্রকাশ করেন।
উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জিয়া উদ্দীন বলেন, যেভাবে কাজটি করা হচ্ছে, তা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। নির্দিষ্ট গ্রেডের খোয়া ব্যবহার না করে আস্ত ইট বিছিয়ে সড়কের ভিত্তি প্রস্তুত করা অত্যন্ত দুঃখজনক।
নির্বাহী প্রকৌশলী তুহিন আল মামুন বলেন, আস্ত ইট ও মাটি দিয়ে সড়ক নির্মাণের কোনো সরকারি বিধান নেই। তাঁরা তাৎক্ষণিকভাবে সাইট পরিদর্শন করে কাজ বন্ধ করে দিয়েছেন। সিডিউল অনুযায়ী সঠিক গ্রেডের খোয়া ও বালি দিয়ে সাববেজ প্রস্তুত না করা পর্যন্ত কোনো বিল দেওয়া হবে না।
এদিকে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে জানতে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মাসুদ হাইটেক ও হাসান টেকনোর কোনো প্রতিনিধিকে ঘটনাস্থলে পাওয়া যায়নি।
তবে কাজের দায়িত্বে থাকা সাব-ঠিকাদার এসআর ইন্টারপ্রাইজের মালিক বাবু পাটোয়ারীর সাইট ম্যানেজার মাসুদ ও সুপারভাইজার লিটন বলেন, সাইট বাড়ানোর জন্য এভাবে কাজ করা হচ্ছে। এটি সিডিউলে নেই এবং স্থায়ী কাজও নয়। মূল কাজ শেষ হলে এসব ইট তুলে নিয়ে নির্ধারিত পদ্ধতিতে কাজ করা হবে।
এমএস/