দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শরীয়তপুর জেলা ও দায়রা জজ আদালত চত্বরে তিন আইনজীবীকে মারধর ও চেম্বার ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে বিএনপির একটি পক্ষের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। হামলার শিকার আইনজীবীরা হলেন সানোয়ার মল্লিক, শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানা। তারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ-সমর্থিত বঙ্গবন্ধু আওয়ামী আইনজীবী পরিষদের সদস্য।
বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কয়েকজন আইনজীবীর কেক কাটার প্রস্তুতির প্রতিবাদে বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে মিছিল করেন। সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ ওরফে টিপু মাদবরের নেতৃত্বে মিছিলটি বের হয় বলে জানা গেছে।
অভিযোগ রয়েছে, মিছিল থেকে কয়েকজন আইনজীবী সমিতির সাবেক নির্বাহী সদস্য সানোয়ার মল্লিকের ওপর হামলা করেন। তাঁকে জেলা ও দায়রা জজ আদালতের সিঁড়ি থেকে টেনে-হিঁচড়ে আদালত ভবনের সামনে নিয়ে মারধর করা হয়।
সানোয়ার মল্লিক অভিযোগ করেন, দুই দিন আগে কয়েকজন আইনজীবী শেখ হাসিনার জন্মদিন উপলক্ষে কেক কেটেছিলেন। এর জেরে বিএনপির নেতাকর্মীরা আদালত চত্বরে মিছিল করেন। ওই মিছিল থেকে বিএনপি নেতা মাহবুব মোর্শেদ টিপু মাদবর ও তাঁর ছেলে মিহির তাঁকে মারধর করেন। রড দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে জখম করা হয়েছে বলেও দাবি করেন তিনি। পরে স্থানীয় একটি ক্লিনিকে চিকিৎসা নেন সানোয়ার।
এদিকে মিছিল শেষে বিএনপির কয়েকজন নেতাকর্মী আইনজীবী সমিতির পাশের একটি ভবনে গিয়ে আইনজীবী শাহীন খান ও তানিয়া সুলতানার চেম্বারে হামলা ও ভাঙচুর চালান বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।
অ্যাডভোকেট শাহীন খান জয় বলেন, তিনি চেম্বারে থাকা অবস্থায় ২০ থেকে ৩০ জন লোক সেখানে ঢুকে তাঁকে মারধর করেন। তাঁকে কিল-ঘুষি মারতে মারতে চেম্বার থেকে নিচে নামানো হয় এবং ফাইলপত্র ফেলে দেওয়া হয়। তাঁকে রক্ষা করতে এগিয়ে এলে আইনজীবী তানিয়াকেও মারধর করা হয়। এ ঘটনায় জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
আইনজীবী তানিয়া সুলতানা অভিযোগ করেন, প্রায় ৩০ থেকে ৩৫ জন ব্যক্তি তাদের চেম্বারে প্রবেশ করেন। এ সময় ভয়ে শাহীন খান টয়লেটে আশ্রয় নিলে হামলাকারীরা দরজা ভেঙে তাঁকে মারধর করেন। পরে তাকেও গালিগালাজ ও মারধর করা হয়। বিষয়টি তাঁরা জ্যেষ্ঠ আইনজীবী ও আইনজীবী সমিতিকে জানিয়েছেন। এ ঘটনায় আইনি পদক্ষেপ না নিতে তাদের হুমকি দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
অভিযোগের বিষয়ে সদর উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মাহবুব মোর্শেদ বলেন, আওয়ামী লীগ একটি নিষিদ্ধ সংগঠন। সংগঠনটির নামে কিছু লোক অস্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে এমন অভিযোগের প্রতিবাদে বিএনপি আদালত চত্বরে মিছিল করেছে। মিছিল থেকে কেউ সংক্ষুব্ধ হয়ে কোনো ঘটনা ঘটিয়ে থাকতে পারেন। তবে কারা এ ঘটনা ঘটিয়েছে, তা তিনি বলতে পারবেন না।
শরীয়তপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মৃধা নজরুল ইসলাম বলেন, আদালত চত্বরে আইনজীবীদের সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনার তথ্য তারা পেয়েছেন। বিষয়টি নিয়ে জ্যেষ্ঠ আইনজীবীদের সঙ্গে আলোচনা করা হয়েছে। ভুক্তভোগীদের কাছ থেকেও ঘটনার বিষয়ে জানা হয়েছে। আইনজীবী সমিতির সভায় আলোচনা করে পরবর্তী পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
পালং মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহ আলম বলেন, আদালত চত্বরে আইনজীবীদের ওপর হামলার খবর পেয়ে পুলিশ সেখানে যায়। পুলিশ পৌঁছানোর আগেই পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে যায়। এ ঘটনায় এখনো কোনো পক্ষ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
যে আই