দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নওগাঁয় সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক ও বাসশ্রমিকদের মধ্যে সংঘর্ষের পর চতুর্থ দিনের মতো বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ রয়েছে। গত রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকাল থেকে জেলার অভ্যন্তরীণ ও কয়েকটি আন্তজেলা রুটে যান চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রীরা।
বাস ও অটোরিকশার মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গত শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে নওগাঁ শহরের বালুডাঙ্গা বাসস্ট্যান্ডে যাত্রী ওঠানোকে কেন্দ্র করে সিএনজিচালিত অটোরিকশার এক চালকের সঙ্গে মহন্ত পরিবহনের বাসচালক ও সহকারীর বাগ্বিতণ্ডা হয়। এর জেরে দুপুর ১টার দিকে পত্নীতলার নজিপুর বাসস্ট্যান্ড এলাকায় কয়েকজন সিএনজি চালক সংঘবদ্ধ হয়ে বাসচালক রুবেল হোসেন ও তার সহকারীকে মারধর করেন।
এর প্রতিবাদে পরদিন রোববার সকাল থেকে নওগাঁ-রাজশাহী, নওগাঁ-চাঁপাইনবাবগঞ্জ, নওগাঁ-জয়পুরহাট ও নওগাঁ-বগুড়া রুটে অনির্দিষ্টকালের জন্য বাস চলাচল বন্ধ ঘোষণা করে জেলা মোটর শ্রমিক ইউনিয়ন। একই সঙ্গে বাসশ্রমিকেরা সড়কে সিএনজিচালিত অটোরিকশা চলাচলও বন্ধ করে দেন। শ্রমিকদের বাধা উপেক্ষা করে অটোরিকশা চালানোর চেষ্টা করলে কয়েকজন চালক হামলার শিকার হন বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) রাতে প্রশাসনের সঙ্গে দফায় দফায় বৈঠকের পর অভ্যন্তরীণ রুটে বাস চলাচল শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। তবে দুই ঘণ্টার মধ্যেই তা আবার বন্ধ হয়ে যায়। মঙ্গলবার সকালে বদলগাছীতে একটি যাত্রীবাহী বাস চলাচল করলে সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালকেরা বাসচালকের ওপর হামলা করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এরপর তাৎক্ষণিকভাবে ফের বাস চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়।
এদিকে টানা চতুর্থ দিন বাস ও অটোরিকশা চলাচল বন্ধ থাকায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। বিকল্প যানবাহন ব্যবহার করতে গিয়ে তাদের অতিরিক্ত ভাড়া গুনতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সময়ও নষ্ট হচ্ছে।
রাজশাহীগামী যাত্রী ইকবার হোসেন বলেন, স্ত্রীকে নিয়ে চিকিৎসার জন্য রাজশাহী যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাসস্ট্যান্ডে এসে জানতে পারেন বাস বন্ধ। সিএনজি চালকেরা কয়েক গুণ বেশি ভাড়া চাচ্ছেন। এভাবে আকস্মিকভাবে যান চলাচল বন্ধ থাকলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা অচল হয়ে পড়বে।
আদালতে হাজিরা দিতে আসা পোরশার তারিক হোসেন বলেন, বাড়ি থেকে বের হয়ে জানতে পারেন বাস নেই। তিন দফায় বিকল্প যানবাহন পরিবর্তন করে আসায় অতিরিক্ত ১৫০ টাকা ভাড়া গুনতে হয়েছে। এতে সময়ও নষ্ট হয়েছে। দ্রুত এ ভোগান্তির অবসান চান তিনি।
নওগাঁ জেলা বাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক রফিকুল ইসলাম চৌধুরী বলেন, প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে যেসব সিদ্ধান্ত হয়েছিল, তার কোনো লিখিত রূপ তারা পাননি। ফলে সাধারণ শ্রমিকদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা ও আস্থার সংকট তৈরি হয়েছে। লিখিত সিদ্ধান্ত পেলে বাস চলাচল স্বাভাবিক হবে।
নওগাঁর পুলিশ সুপার মোহাম্মদ তারিকুল ইসলাম বলেন, মালিক-শ্রমিকদের অভ্যন্তরীণ কিছু দ্বন্দ্বের কারণে সাময়িকভাবে এ সমস্যা তৈরি হয়েছে। শ্রমিকদের দাবিগুলো পূরণের বিষয়ে জোরালো আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে মালিক-শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। দ্রুত সমস্যার সমাধান হবে বলে আশা করছি।
এমএস/