দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চিকিৎসা ও পুনর্বাসনের জন্য তিন মাসের জন্য রিহ্যাবে পাঠানো হয়েছে বরিশালের উজিরপুরের আলোচিত শিশু তুবা বিনতে অর্ণির বাবা রায়হানুল হক অনিককে। এ সময়ে তাঁর পরিবারের দেখভালের দায়িত্ব নিয়েছেন উজিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আলী সুজা। অনিকের স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করতে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা এবং তুবার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে।
পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে আলোচনা করে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সহায়তায় সোমবার একটি গাড়িতে করে অনিককে পুনর্বাসন কেন্দ্রে (রিহ্যাব) পাঠানো হয়।
ইউএনও মো. আলী সুজা বলেন, অনিককে তিন মাসের জন্য রিহ্যাবে পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসা শেষে সুস্থ হয়ে তিনি যাতে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারেন, সে জন্যই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এ সময়ে তাঁর পরিবারের যাবতীয় বিষয় তিনি দেখভাল করবেন। খাবার থেকে শুরু করে প্রয়োজনীয় সবকিছুর ব্যবস্থা করা হবে বলেও জানান তিনি।
অনিকের স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করে তোলার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে উপজেলা প্রশাসন। ইউএনও বলেন, পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতা ফেরাতে তাঁর স্ত্রীকে আয়ের ব্যবস্থা করে দেওয়া হবে। তিনি সেলাইয়ের কাজ করতে চাইলে সেলাই মেশিন দেওয়া হবে। এ ছাড়া যে কাজ করে তিনি আয় করতে পারবেন, সে অনুযায়ীও সহযোগিতা করা হবে।
পরিবারটির পাশে দাঁড়াতে বিত্তবান ব্যক্তিদেরও আহ্বান জানিয়েছেন ইউএনও। তিনি বলেন, ইতিমধ্যে অনেকে সহযোগিতার জন্য এগিয়ে এসেছেন। কেউ পরিবারটিকে সহায়তা করতে চাইলে প্রশাসনের মাধ্যমে সেই সহযোগিতা পৌঁছে দেওয়া হবে।
তুবার পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে জানান ইউএনও।
সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তুবাকে তাঁর বাবাকে চা ও রুটি খাওয়াতে দেখা যায়। ভিডিওতে দেখা যায়, বাজারের একটি খুঁটির সঙ্গে বাঁধা ছিলেন তাঁর বাবা। চারপাশে মানুষের ভিড়ের মধ্যে ছোট্ট তুবা বাবার কাছে ছুটে যায়। এরপর নিজের হাতে তাঁকে চা ও রুটি খাইয়ে দেয়।
বাবা-মেয়ের এই দৃশ্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর তুবার পরিবারের আর্থিক ও পারিবারিক পরিস্থিতি নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। অনেকেই পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানান। কেউ তুবার বাবার কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার কথা বলেন, আবার কেউ শিশুটির ভবিষ্যৎ ও পড়াশোনার দায়িত্ব নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
এরপর পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর উদ্যোগ নেয় স্থানীয় প্রশাসন। অনিককে চিকিৎসার জন্য রিহ্যাবে পাঠানোর পাশাপাশি তাঁর স্ত্রীকে স্বাবলম্বী করা এবং তুবার পড়াশোনা অব্যাহত রাখার বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
এমএম/