দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনার ফরিদপুরে অভিযান চালিয়ে চায়না রাইফেলের ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করেছে পুলিশ। রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার হাদল ইউনিয়নের কুচলিয়া গ্রামের একটি বটগাছের নিচে লুকিয়ে রাখা বস্তা থেকে এসব গুলি ও অস্ত্র উদ্ধার করা হয়।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) দুপুরে প্রেস ব্রিফিংয়ে এ তথ্য জানান ফরিদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুরুল হাসান মাসুদ।
ওসি জানান, হাদল ইউনিয়নের প্রত্যন্ত ও বিল অধ্যুষিত এলাকায় সর্বহারা-নকশালপন্থী একটি সশস্ত্র গোষ্ঠীর তৎপরতা রয়েছে—এমন তথ্য ছিল পুলিশের কাছে। ওই এলাকায় আধিপত্য বিস্তার, গোলাগুলি ও বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালানো হয়।
তিনি বলেন, গত ২৯ আগস্ট ফরিদপুর থানায় যোগদানের পর থেকেই হাদল ইউনিয়নের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে কাজ করছে পুলিশ। প্রত্যন্ত ও বিল অধ্যুষিত হওয়ায় ওই এলাকায় কয়েকটি সশস্ত্র গ্রুপের তৎপরতা রয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এসব গ্রুপ অস্ত্রের মুখে সাধারণ মানুষকে জিম্মি করে খাল-বিল ও জলাশয় দখল, ভূমি দখল, চাঁদাবাজি, লুটতরাজ, চুরি ও ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িত বলে পুলিশের দাবি।
ওসি আরও জানান, তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তা ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, একটি সশস্ত্র গ্রুপ অস্ত্র ও গোলাবারুদ মজুত করছে। এ তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাতে স্থানীয় লোকজনের সহায়তায় কুচলিয়া এলাকায় ব্যাপক তল্লাশি ও অভিযান চালানো হয়।
রাত সাড়ে ১১টার দিকে একটি বটগাছের নিচে লুকিয়ে রাখা বস্তার সন্ধান পায় পুলিশ। পরে বস্তাটি তল্লাশি করে ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি ও দেশীয় অস্ত্র উদ্ধার করা হয়। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ওই এলাকায় একটি নৌকাবাইচও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশের দাবি, হাদল এলাকায় এর আগেও কয়েক দফা গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া ওই এলাকায় হত্যা ও গুমের ঘটনাও ঘটেছে। এসব ঘটনায় ফরিদপুর থানায় অস্ত্র ও হত্যা মামলাসহ একাধিক মামলা রয়েছে।
উদ্ধার করা সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে চায়না রাইফেলের ১৫ রাউন্ড তাজা গুলি, একটি চাপাতি, একটি বাট ও একটি ছুরি এবং বিভিন্ন আকারের তিনটি ধারালো দা।
প্রেস ব্রিফিংয়ে ফরিদপুর থানার এসআই আরিফুল ইসলাম, আশরাফুল ইসলামসহ পুলিশের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন।
এমএস/