দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

টেকনাফ উপজেলার লেদা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান চালিয়ে অস্ত্র, গোলাবারুদ, বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিভিন্ন সরঞ্জামসহ তিন রোহিঙ্গা নাগরিককে আটক করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এ সময় অস্ত্র পরিবহনে ব্যবহৃত একটি ইজিবাইকও জব্দ করা হয়।
রোববার (২৭ সেপ্টেম্বর) সকালে হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার এলাকায় এ অভিযান পরিচালনা করে টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি)।
বিজিবি জানায়, নিজস্ব গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে তারা জানতে পারে, হ্নীলা ইউনিয়নের লেদা বাজার হয়ে ভারী অস্ত্রের একটি চালান রোহিঙ্গা ক্যাম্পে অবস্থানরত একটি সশস্ত্র ডাকাত দলের কাছে হস্তান্তর করা হবে। এ তথ্যের ভিত্তিতে টেকনাফ ব্যাটালিয়নের অধিনায়কের নির্দেশনায় লেদা বাজার এলাকায় বিশেষ অভিযান পরিচালনার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
পরিকল্পনা অনুযায়ী বিজিবির একটি আভিযানিক দল সকাল ১০টার দিকে লেদা বাজার এলাকায় কৌশলগত অবস্থান নেয়। পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে একটি ইজিবাইকে তিনজনকে সন্দেহজনকভাবে ওই এলাকা দিয়ে যেতে দেখে বিজিবি সদস্যরা থামার সংকেত দেন।
বিজিবি জানায়, মেটাল ডিটেক্টরের সাহায্যে ইজিবাইকে থাকা বস্তার ভেতরে ধাতব পদার্থের উপস্থিতি শনাক্ত করা হয়। পরে অধিকতর তল্লাশির জন্য ইজিবাইকসহ তিনজনকে লেদা বিওপিতে নেওয়া হয়। সেখানে তল্লাশি চালিয়ে আলুর বস্তার ভেতর লুকানো অবস্থায় অস্ত্র, গোলাবারুদ, টেজার, বিস্ফোরক দ্রব্য ও বিভিন্ন সরঞ্জাম জব্দ করা হয়।
জব্দ করা মালামালের মধ্যে রয়েছে দুটি জি-৩ রাইফেল, একটি বড় দেশীয় একনলা বন্দুক, একটি ছোট দেশীয় একনলা বন্দুক, ৪২ রাউন্ড গুলি, তিনটি টেজার, ছয়টি ওয়াকিটকি সেট, একটি ম্যাগাজিন, চার কেজি বিস্ফোরক দ্রব্য, ২৫টি জর্দার কৌটা, ২৫টি লাল স্কচটেপ, একটি ইজিবাইক, দুটি অ্যান্ড্রয়েড মোবাইল ফোন ও একটি বাটন মোবাইল।
আটক তিনজন হলেন মো. উসমান বেলাল, মো. মুসলিম ও মো. আনসার আলী। বিজিবি জানিয়েছে, উসমান বেলাল ও আনসার আলী ১ নম্বর কুতুপালং এফডিএমএন ক্যাম্পের এবং মো. মুসলিম ২৬ নম্বর মোচনি এফডিএমএন ক্যাম্পের বাসিন্দা।
টেকনাফ ব্যাটালিয়ন (২ বিজিবি) অধিনায়ক বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় অস্ত্র ও বিস্ফোরক দ্রব্য চোরাচালানসহ সব ধরনের সংঘবদ্ধ অপরাধ প্রতিরোধে বিজিবি সতর্ক ও তৎপর রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের চালান প্রতিহত ও জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে গোয়েন্দা নজরদারি, নিয়মিত টহল এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বিত অভিযান অব্যাহত থাকবে।
এমএস/