দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে সার বিতরণকে কেন্দ্র করে কৃষি কর্মকর্তাকে লাঞ্ছিত ও সরকারি কাজে বাধা দেওয়ার অভিযোগে করা মামলায় গ্রেপ্তার আতঙ্কে কয়েক গ্রামের কৃষক। মামলার পর অনেকে বাড়ি ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে অবস্থান করছেন বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া দুই কৃষক আট দিন কারাভোগের পর জামিনে মুক্ত হয়েছেন।
কৃষকদের অভিযোগ, চাহিদা অনুযায়ী সার চাইতে গিয়ে তাদের মামলার আসামি হতে হয়েছে। তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার দাবি, সার বিতরণের সময় তাকে ও অন্য কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়েছিল। এ ঘটনায় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
গত ৭ সেপ্টেম্বর সকাল ১১টার দিকে বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়নের শহীদ মোড় এলাকায় বিএডিসি সার ডিলার আমজাদ হোসেনের মেসার্স আফি সার ঘরে সার বিতরণের সময় এ ঘটনা ঘটে। ওই রাতেই উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বার বাদী হয়ে ভূরুঙ্গামারী থানায় মামলা করেন। এতে ১১ জনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতনামা আরও ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করা হয়।
মামলার পর ৮ সেপ্টেম্বর থেকে আত্মগোপনে রয়েছেন গনাইয়েরকুটি মধ্যপাড়া গ্রামের কৃষক সুলতান মোল্লা (৩৮)। তার স্ত্রী শিউলী বেগম বলেন, সার নেওয়ার জন্যই তার স্বামী সেখানে গিয়েছিলেন। এখন তিনি বাড়িতে না থাকায় জমির ফসলেরও ঠিকমতো দেখভাল করা যাচ্ছে না। অর্থের অভাবে জামিনের ব্যবস্থাও করতে পারছেন না বলে জানান তিনি।
এ মামলায় গ্রেপ্তার হওয়া কৃষক আল আমিন মোল্লা (৪৭) আট দিন কারাভোগের পর জামিনে বাড়ি ফিরেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো অপরাধ করিনি। শুধু সার চেয়েছিলাম। সারের জন্য জেল খাটতে হয়েছে।’
আল আমিনের স্ত্রী রওশান আরা বেগম বলেন, স্বামীকে জামিনে ছাড়াতে প্রায় ২০ হাজার টাকা ঋণ করতে হয়েছে। কারাগার থেকে ফেরার পর তার স্বামী মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন বলেও জানান তিনি।
কৃষক সুরুজ মিয়া (৪৫) বলেন, ‘আমরা বিক্ষোভ করেছি, কিন্তু কৃষি কর্মকর্তার গায়ে কেউ হাত দেয়নি। দেশের জন্য ফসল ফলাতে গিয়ে জেল খাটতে হয়েছে।’
স্থানীয় কৃষক কলিম উদ্দিন বলেন, মামলার পর অনেক কৃষক গ্রেপ্তার আতঙ্কে বাড়ি ছেড়েছেন। দিনে মাঠে কাজ করলেও রাতে আত্মীয়ের বাড়িতে থাকছেন তারা।
বঙ্গসোনাহাট ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য জহুরুল ইসলাম বলেন, মামলার পর কয়েকটি গ্রামের কৃষকের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে। অনেকেই বাড়িতে ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না।
সাবেক চেয়ারম্যান শাহজাহান আলী মোল্লা অজ্ঞাতনামা আসামিদের বাদ দিয়ে মামলাটি প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছেন।
তবে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল জব্বারের ভাষ্য, সার বিতরণের সময় উসকানিতে বিক্ষোভ শুরু হয়। একপর্যায়ে তাকে ও অন্য কর্মকর্তাদের অবরুদ্ধ করে মারধর করা হয়। এ ঘটনায় ১১ জনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাতনামা ৫০ থেকে ৬০ জনকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
ভূরুঙ্গামারী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আজিম উদ্দিন বলেন, এ মামলায় দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এরপর আর কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি। ভিডিও ফুটেজ দেখে ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করা হচ্ছে। নিরপরাধ কাউকে গ্রেপ্তার করা হবে না।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অমৃত দেবনাথ বলেন, মামলাটি তদন্তাধীন। যারা ঘটনায় জড়িত নন, তাদের আতঙ্কিত হওয়ার কারণ নেই। উপজেলা প্রশাসন সুষ্ঠুভাবে সার বিতরণ নিশ্চিত করতে কাজ করছে।
যে আই