দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য, পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ ও জনসম্পৃক্ততা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে সমাজকল্যাণ এবং মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেছেন, “ঐক্যতেই শক্তি। মানুষের পাশে থাকলে জনগণও পাশে থাকবে।”
শনিবার (১৯ সেপ্টেম্বর) দুপুরে দিনাজপুরের নবাবগঞ্জ উপজেলার ৯ নম্বর কুঁচদহ ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের সঙ্গে সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার ও দলকে আরও সুসংগঠিত করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়। মন্ত্রী হিসেবে ডা. জাহিদ হোসেনের বর্তমান দায়িত্বের বিষয়টি সরকারি সূত্রেও নিশ্চিত করা হয়েছে।
ডা. জাহিদ হোসেন বলেন, “একটি লাঠি সবাই ভেঙে ফেলতে পারে, কিন্তু দশটি লাঠি একসঙ্গে বাঁধা থাকলে তা ভাঙা কঠিন। ঠিক তেমনি আমরা সবাই যদি ঐক্যবদ্ধ থাকি, তাহলে কোনো শক্তিই আমাদের দুর্বল করতে পারবে না।”
তিনি নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, শুধু মঞ্চে উপস্থিত মানুষের সঙ্গে নয়, সমাজের প্রতিটি শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়াতে হবে। বিশেষ করে যেসব মা-বোন এখনো দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন, তাদের আস্থা অর্জনের চেষ্টা করতে হবে। কথাবার্তা, আচরণ ও ব্যবহারের মাধ্যমে মানুষের মন জয় করতে পারলে জনগণও পাশে থাকবে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
নেতাকর্মীদের নিজেদের মধ্যে বিভেদ ও দ্বন্দ্ব পরিহারের আহ্বান জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, নিজেদের মধ্যে বিভেদ তৈরি হলে জনগণের আস্থা কমে যেতে পারে। তাই ভুল-ত্রুটি সংশোধন করে মানুষের সুখে-দুঃখে পাশে দাঁড়াতে হবে। মানুষের কষ্টের সময়ে সহযোগিতা করলে তারাও সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দেবে।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে তিনি বলেন, আদিবাসী, হিন্দু, মুসলমান, খ্রিস্টান কিংবা সাঁওতাল—আমরা সবাই মানুষ। সবার রক্তের রং একই। তাই ভেদাভেদ নয়, পারস্পরিক সম্মান ও সহমর্মিতার ভিত্তিতে সমাজ গড়ে তুলতে হবে। শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
শিক্ষার মানোন্নয়নে স্থানীয় জনগণের ভূমিকার কথাও তুলে ধরেন ডা. জাহিদ হোসেন। তিনি বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছেন কি না এবং শিক্ষার্থীরা যথাযথভাবে পাঠদান পাচ্ছে কি না, তা দেখার দায়িত্ব শুধু প্রশাসনের নয়; সমাজেরও রয়েছে। স্কুল পরিচালনা কমিটি, অভিভাবক ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের এ বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সন্তানরা নিয়মিত বিদ্যালয়ে যাচ্ছে কি না এবং ভালোভাবে পড়াশোনা করছে কি না, তা নিশ্চিত করা পরিবার ও সমাজের সম্মিলিত দায়িত্ব। শিক্ষিত ও সচেতন প্রজন্ম গড়ে তুলতে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
সভায় বিএনপির স্থানীয় ও ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন। এ সময় সাংগঠনিক কার্যক্রম জোরদার, দলীয় ঐক্য বজায় রাখা এবং জনগণের সঙ্গে সম্পর্ক আরও সুদৃঢ় করার বিষয়ে আলোচনা হয়।
উল্লেখ্য, গত ১২ সেপ্টেম্বরও নবাবগঞ্জের জয়পুর ইউনিয়ন বিএনপির কর্মী সম্মেলন ও মতবিনিময় সভায় ডা. জাহিদ হোসেন স্থানীয় পর্যায়ে শান্তিপূর্ণ পরিবেশ, ঐক্য ও সামাজিক সচেতনতার ওপর গুরুত্বারোপ করেছিলেন।
কেএম