দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুর থেকে শাহজাদপুর পর্যন্ত যমুনা নদীর তীরবর্তী ২৯ কিলোমিটার কাঁচা সড়কটি দুই উপজেলা ও পাশের পাবনার বেড়া উপজেলার লক্ষাধিক মানুষের দুর্ভোগের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ছয় বছর আগে বিপুল ব্যয়ে নদী রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হলেও এর ওপরের সড়ক এখনো পাকা হয়নি। ফলে সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কজুড়ে হাঁটুপানি ও কাদার সৃষ্টি হচ্ছে, তৈরি হচ্ছে বড় বড় খানাখন্দ। এতে শিক্ষার্থীদের যাতায়াত ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি স্থবির হয়ে পড়েছে দেশের অন্যতম বৃহৎ কাপড়ের মোকাম এনায়েতপুরের ঐতিহ্যবাহী তাঁতের হাট।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্য অনুযায়ী, নদীভাঙন ঠেকাতে ছয় বছর আগে প্রায় ১৩৫ কোটি টাকা ব্যয়ে সিরাজগঞ্জের এনায়েতপুরের মন্ডলপাড়া থেকে শাহজাদপুরের আহমেদপুর পর্যন্ত ২৯ কিলোমিটার দীর্ঘ রক্ষা বাঁধ নির্মাণ করা হয়। তবে দীর্ঘদিনেও বাঁধের ওপরের অংশের সড়কটি পাকাকরণ করা হয়নি। ফলে সৈয়দপুর, পাঁচিল, রূপসী ও খোকশাবাড়ীসহ বিভিন্ন এলাকায় সৃষ্টি হয়েছে বড় বড় গর্ত।
স্থানীয়রা জানান, বর্ষা মৌসুমে কিংবা সামান্য বৃষ্টি হলেই সড়কটি কাদাপানিতে একাকার হয়ে যায়। এতে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, ভ্যান ও মোটরসাইকেল চলাচলও কঠিন হয়ে পড়ে। অনেক স্থানে সাধারণ মানুষের পায়ে হেঁটে চলাচলও দুঃসাধ্য হয়ে যায়।
প্রতিদিন এ সড়ক দিয়ে স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসায় যাতায়াত করা শত শত শিক্ষার্থী দুর্ভোগে পড়ছে। কাদামাটি মাড়িয়ে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে গিয়ে প্রায়ই দুর্ঘটনা ঘটছে। নষ্ট হচ্ছে জামাকাপড় ও বইখাতা। ফলে অনেকে বাধ্য হয়ে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া বন্ধ রাখছে বলে জানান স্থানীয়রা।
এ ছাড়া কোনো মুমূর্ষু রোগীকে জরুরি ভিত্তিতে হাসপাতালে নেওয়ার প্রয়োজন হলে অ্যাম্বুলেন্সসহ জরুরি যানবাহন চলাচল করতে পারছে না। এতে সময়মতো চিকিৎসা না পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের অনেকেই ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে পড়ছেন।
স্থানীয় ব্যবসায়ী শফিকুল ইসলাম বলেন, দেশের অন্যতম প্রধান কাপড়ের কেন্দ্র এনায়েতপুর হাট। সড়কটি চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়ায় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পাইকার ও ব্যবসায়ীরা হাটে আসতে পারছেন না। একই সঙ্গে এ অঞ্চলে উৎপাদিত শাড়ি, লুঙ্গি ও গামছাসহ বিভিন্ন তাঁতপণ্য সময়মতো পরিবহন করা সম্ভব হচ্ছে না। পরিবহনব্যবস্থা ভেঙে পড়ায় হাটের শত শত ক্ষুদ্র ও পাইকারি ব্যবসায়ী ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
সিরাজগঞ্জ সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী ইমরান ফারহান সুমেল জানান, সড়কটিকে আধুনিক আঞ্চলিক মহাসড়কে রূপান্তরের একটি বড় পরিকল্পনা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। সয়দাবাদ-এনায়েতপুর হয়ে পাবনা পর্যন্ত মহাসড়ক নির্মাণের একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা তৈরি করা হয়েছে। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে দ্রুত নির্মাণকাজ শুরু হবে।
তিনি আরও জানান, গুরুত্বপূর্ণ এই ২৯ কিলোমিটার সড়কটি পাকা ও প্রশস্ত করা হলে প্রতিদিন অন্তত ৪০ হাজার মানুষের নিরাপদ ও নিরবচ্ছিন্ন যাতায়াত নিশ্চিত হবে। পাশাপাশি পাবনা থেকে শাহজাদপুর হয়ে সয়দাবাদ-যমুনা সেতু মহাসড়কে পৌঁছানোর দূরত্ব প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ কিলোমিটার কমে আসবে।
প্রতিদিনের দুর্ভোগ, দুর্ঘটনা ও অর্থনৈতিক ক্ষতি এড়াতে কালক্ষেপণ না করে দ্রুত কাঁচা সড়কটি পাকাকরণের কাজ শুরুর দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগী শিক্ষার্থী, এলাকাবাসী ও স্থানীয় তাঁত ব্যবসায়ীরা।
এমএস/