দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পাবনা সদর উপজেলার কুলোনিয়ায় স্কুলশিক্ষার্থী কামরুন্নাহার কলি (১০) হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদঘাটনের দাবি করেছে পুলিশ। পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, হত্যার আগে শিশুটিকে ধর্ষণ করা হয়। পরে তাকে হত্যা করে লাশ ঘরে রেখে পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে কলিকে খুঁজছিলেন অভিযুক্তরা।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় পাবনা পুলিশ সুপার কার্যালয়ের সম্মেলন কক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ।
পুলিশ সুপার জানান, এ ঘটনায় প্রথমে সন্দেহভাজন হিসেবে মোস্তফা প্রামাণিক (৫৫) ও তার ভাড়াটিয়া ইয়াছিনকে আটক করা হয়। জিজ্ঞাসাবাদে তারা হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন বলে দাবি পুলিশের।
পুলিশের ভাষ্য, মোস্তফার বিরুদ্ধে নারীদের ছবি গোপনে ধারণ করে রাখার অভিযোগ রয়েছে। কলি তার দোকানে কেনাকাটা করতে গেলে তারও একাধিক ছবি মোস্তফা মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন বলে জানানো হয়।
পুলিশ সুপার বলেন, ঘটনার দিন মোস্তফা ও ইয়াছিন কলিকে ঘরে নিয়ে ধর্ষণ করেন বলে জিজ্ঞাসাবাদে জানিয়েছেন। পরে তারা দুজন মিলে কলিকে হত্যা করে লাশ বস্তাবন্দি করে ওই ঘরেই রেখে দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পুলিশ সুপার আরও জানান, কলি নিখোঁজ হওয়ার পর মানববন্ধন ও পরিবারের সদস্যদের খোঁজাখুঁজির কারণে এবং ঘরে দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ায় অভিযুক্তরা লাশটি বাইরে ফেলে দেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে তাদের কুকুর তাড়া করলে পাশের ঝোপে লাশটি ফেলে দেন বলে পুলিশ জানিয়েছে। পরে লাশ রাখা ঘরটি স্যাভলন দিয়ে পরিষ্কার করা হয়।
ঘটনার দিন বিভিন্ন স্থানের মতো অভিযুক্তদের ঘরেও ডিবি পুলিশ তল্লাশি চালায়। একপর্যায়ে স্যাভলনের গন্ধ ও মোস্তফার আচরণে সন্দেহ হলে তাকে ও ইয়াছিনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয় বলে জানান পুলিশ সুপার।
পুলিশ সুপার আবু আশ্রাফ জানান, অভিযুক্তদের বৃহস্পতিবার আদালতে পাঠানো হবে। তাদের আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ দিনের রিমান্ড চাওয়া হবে।
উল্লেখ্য, ৯ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যার পর বাড়ি থেকে বের হওয়ার পর নিখোঁজ হয় কামরুন্নাহার কলি। নিখোঁজের সাত দিন পর বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকালে পাবনা সদর উপজেলার দোগাছী ইউনিয়নের কুলোনিয়ায় তার বাসার পাশের একটি ডোবা থেকে বস্তাবন্দি মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এমএম/