দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

কক্সবাজারে উখিয়ার রোহিঙ্গা ক্যাম্পে সাবেক স্ত্রীর সন্তানকে তুলে নিয়ে দুই দফায় বিক্রির অভিযোগে জড়িত ৫ জনকে গ্রেপ্তার এবং ভুক্তভোগী শিশুকে উদ্ধার করেছে এপিবিএন পুলিশ।
বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গণমাধ্যমে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান, রোহিঙ্গা ক্যাম্পের নিরাপত্তায় নিয়োজিত ১৪ আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক অতিরিক্ত উপ-মহাপরিদর্শক ( এডিআইজি ) মোহাম্মদ সিরাজ আমীন।
গ্রেপ্তাররা হলেন- উখিয়া উপজেলার রত্নাপালং ইউনিয়নের গয়ালমারা এলাকার মৃত সুলতান আহমেদের ছেলে মো. রশিদ আহমেদ (৩২) ও তার স্ত্রী রুজিনা আক্তার (২৮), একই এলাকার আহমদ শরীফের স্ত্রী তসলিমা আক্তার (২৫) এবং হলদিয়াপালং ইউনিয়নের পশ্চিম মরিচ্যা এলাকার আশরাফ আলীর ছেলে নুরুল আমিন (৩৮) ও তার স্ত্রী মায়মুনা আক্তার (২৯)।
পুলিশ জানিয়েছে, গ্রেপ্তার মো. রশিদ আহমেদ ভুক্তভোগী শিশুর মায়ের সাবেক স্বামী।
মামলার এজাহারের বরাতে এডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন বলেন, গত ৬ সেপ্টেম্বর সন্ধ্যায় উখিয়া উপজেলার কুতুপালং ২-ওয়েস্ট নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বি-২ ব্লকের বাসিন্দা মোহাম্মদ আমিনের স্ত্রী তৈয়বা বেগম দুগ্ধপোষ্য ৮ মাস বয়সী শিশু পুত্র ও ভাগনি রেহেনাকে (৭) নিয়ে স্থানীয় স্টেশনের ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বের হন। এক পর্যায়ে কুতুপালং বাজারস্থ ফার্মেসির সামনে পৌঁছালে তার সাবেক স্বামী রশিদ আহমেদ কোলে থাকা শিশুটিকে তৈয়বার কাছ থেকে ছিনিয়ে নিয়ে যায়। পরে রশিদ আহমেদ মোবাইল ফোনে কল দিয়ে সন্তানকে ফেরত দিতে ৭০ হাজার টাকা দাবি করে। এসময় চাহিদা মতো টাকা না পেলে শিশুটিকে অন্য লোকজনের কাছে বিক্রিরও হুমকি দেওয়া হয়।
পরবর্তীতে সন্তানকে ফেরত পেতে অভিযুক্ত রশিদ আহমেদকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পের বসতঘরে ডেকে আনেন তৈয়বা বেগম। এসময় তারা স্বামী-স্ত্রী মিলে প্রতিবেশী জনৈক তসলিমা আক্তারের কাছে ১৫ হাজার টাকায় শিশুটিকে বিক্রি করা হয়েছে বলে জানানো হয়। পরে রশিদের মাধ্যমে স্বজনরা কৌশলে রুজিনা ও তসলিমাকে ডেকে এনে ধরে ফেলে। এসময় স্বজনরা বিষয়টি ক্যাম্প ইনচার্জ কার্যালয়ে অবহিত করলে পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থলে পৌঁছে অভিযুক্তদের গ্রেপ্তার করেছে।
এপিবিএন পুলিশের এ কর্মকর্তা বলেন, পরে আটকরা জিজ্ঞাসাবাদে জানায়, ১৫ হাজার টাকায় কেনা শিশুটিকে ৩০ হাজার টাকায় উখিয়ার পশ্চিম মরিচ্যা এলাকার জনৈক নুরুল আমিন ও তার স্ত্রীর নিকট বিক্রি করা হয়েছে এবং শিশুটি তাদের হেফাজতে রয়েছে। পরে এপিবিএন পুলিশ অভিযান চালিয়ে পশ্চিম মরিচ্যা এলাকা থেকে শিশুটিকে উদ্ধার এবং অভিযুক্ত দম্পতিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে সংশ্লিষ্ট আইনে উখিয়া থানায় মামলা করা হয়েছে বলে জানান, এডিআইজি মোহাম্মদ সিরাজ আমিন।
/অ