দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

খরস্রোতা মেঘনার ভাঙনে বরিশালের মেহেন্দিগঞ্জের চরগোপালপুর ইউনিয়নে গত তিন থেকে চার দিনে অর্ধশতাধিক ঘরবাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। একই সময়ে ঢোলের হাট বাজারের ১৫ থেকে ৩০টি দোকানও নদীতে চলে গেছে। ভাঙন ঠেকাতে জিও ব্যাগ ফেলা হলেও তা কাজে আসছে না বলে জানিয়েছেন স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা। এতে লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয়, লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের জনবসতি হুমকির মুখে পড়েছে।
রোববার সকালে ভাঙনকবলিত চরগোপালপুর ও পার্শ্ববর্তী আলিমাবাদ ইউনিয়নের এলাকা সরেজমিনে পরিদর্শন করেছেন বরিশালের বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ খলিল আহমেদ। এ সময় তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা ঘুরে দেখেন এবং নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলে তাঁদের দুর্ভোগ ও সমস্যার কথা শোনেন।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, চরগোপালপুর ইউনিয়নে গত তিন থেকে চার দিনে সৈয়দ মাস্টার বাড়ির পাঁচটি, নীলগাজি বাড়ির আটটি, রাড়ি বাড়ির সাতটি, তালুকদার বাড়ির চারটি, বেপারী বাড়ির তিনটি, ধোপাবাড়ির পানির বরজসহ দুটি, মাধবপুর বাড়ির চারটি এবং গণি রাড়ি বাড়ির আটটি বাড়ি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। শুধু উল্লেখ করা এসব বাড়ির সংখ্যাই ৪১টি। এর বাইরে আরও বাড়িঘর ভাঙনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
একই সময়ে ঢোলের হাট বাজারের প্রায় ১৫ থেকে ৩০টি দোকান নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে। ভাঙন অব্যাহত থাকায় লেঙ্গুটিয়া মুসলিম মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও লেঙ্গুটিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ আশপাশের স্থাপনা ও জনবসতি ঝুঁকির মধ্যে পড়েছে।
বিভাগীয় কমিশনার বিদ্যালয় দুটির সংলগ্ন ভাঙনপ্রবণ এলাকা পরিদর্শন শেষে চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদে জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন। সেখানে চরগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সামসুল বারী মনির, আলিমাবাদ ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এবং দুই ইউনিয়নের ইউপি সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
মতবিনিময়কালে জনপ্রতিনিধিরা জানান, ২০২২-২৩ অর্থবছর থেকে এ এলাকায় প্রায় এক লাখ জিও ব্যাগ ফেলা হয়েছে। কিন্তু এরপরও নদীভাঙন ঠেকানো যায়নি। এখন পর্যন্ত সেখানে কোনো ব্লক স্থাপন করা হয়নি।
বিভাগীয় কমিশনার মোহাম্মদ খলিল আহমেদ বলেন, ভাঙন চলাকালে ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর মূল্যবান সম্পদ দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে হবে। এ জন্য প্রশাসন, জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় জনগণকে স্বেচ্ছাশ্রমের ভিত্তিতে সম্মিলিতভাবে কাজ করতে হবে।
নদীর পানি ও স্রোত কমে পরিস্থিতি শান্ত হলে শুষ্ক মৌসুমে বিদ্যালয়সহ গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা রক্ষায় জরুরি ভিত্তিতে ব্লক স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে বৈশাখ-জ্যৈষ্ঠ মাসে এ কাজ করার ওপর গুরুত্ব দেন বিভাগীয় কমিশনার।
তিনি বলেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন রয়েছে। ইতিমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর মধ্যে চাল, ডাল, তেল, লবণসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে। জেলেদের ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় জালও সরবরাহ করা হয়েছে।
এ ছাড়া চরাঞ্চলের পতিত জমিতে স্থানীয় উদ্যোগে তরমুজসহ উপযোগী ফসল চাষের আহ্বান জানান বিভাগীয় কমিশনার। জমি লিজ না দিয়ে স্থানীয়রা নিজেরা চাষাবাদ করলে তাঁদের আয় ও স্বাবলম্বিতা বাড়বে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
ভাঙনসহ স্থানীয় জনগণের বিভিন্ন সমস্যা মোকাবিলায় প্রশাসন পাশে থাকবে এবং প্রয়োজনীয় সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দেন বিভাগীয় কমিশনার।
পরিদর্শনকালে প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
এমএম/