দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সুনামগঞ্জের ছাতকের আলোচিত আওয়ামী লীগ নেতা হাজী স্বপন মিয়াকে ঢাকার রমনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এর একদিন আগে স্থানীয়দের হাতে আটকের পর হাসপাতালে নেওয়ার সময় তার অবস্থান নিয়ে তৈরি হয়েছিল ধোঁয়াশা। ওই ঘটনায় ছাতক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমানের অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভও করেন স্থানীয় বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
পুলিশের ভাষ্য, সোমবার রাতে ঢাকার রমনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তাকে ছাতক থানার একটি মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
মঙ্গলবার তাকে সুনামগঞ্জে আদালতে হাজির করা হলে ছাতক জোনের আমলি আদালতের বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
স্বপন মিয়া দোয়ারাবাজার উপজেলার নরসিংপুর ইউনিয়নের শারপিন নগর গ্রামের মৃত আব্দুল মন্নানের ছেলে। তিনি ছাতক পৌর শহরের লেবারপাড়া এলাকায় থাকেন।
পুলিশ জানিয়েছে, ছাতক থানার ২০২৫ সালের ২২ জুলাইয়ের ২৮ নম্বর মামলায় তার বিরুদ্ধে দ্য স্পেশাল পাওয়ার অ্যাক্ট, ১৯৯৪-এর ১৫(৩) ও ২৫-ডি ধারায় অভিযোগ রয়েছে।
জনতার হাতে আটকের পর হাসপাতালে
রোববার রাতে ছাতক পৌর শহরের তাহের প্লাজার সামনে স্বপন মিয়াকে আটক করে স্থানীয় লোকজন। পরে তাকে পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, রাত সাড়ে ১১টার দিকে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে সেখানে পৌঁছালে শতাধিক মানুষ তাকে আটক করেন। এ সময় তাকে মারধর করা হয় বলেও তারা দাবি করেন।
খবর পেয়ে ওসি মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপন মিয়াকে হেফাজতে নেয়। পরে তাকে ছাতক উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হয়।
সেখানে চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য পুলিশি পাহারায় অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয় বলে স্থানীয়দের দাবি।
এরপর তার অবস্থান নিয়ে প্রশ্ন দেখা দেয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সিলেটে নেওয়ার পথে বা পরে পুলিশ তাকে ছেড়ে দেয়। তবে পুলিশ এ বিষয়ে পরিষ্কার কোনো তথ্য দেয়নি বলে তাদের অভিযোগ। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে পুলিশ সদস্যদের সহযোগিতায় স্বপন মিয়াকে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে বের করে অ্যাম্বুলেন্সে তোলার দৃশ্যও দেখা যায়। ছবিটির সময় ও পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ অবশ্য স্বাধীনভাবে যাচাই করা যায়নি।
ওসির অপসারণ দাবিতে বিক্ষোভ
স্বপন মিয়ার অবস্থান নিয়ে প্রশ্নের মধ্যেই সোমবার সন্ধ্যায় ছাতক পৌর শহরে বিক্ষোভ করেন বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।
বিক্ষোভ থেকে ওসি মিজানুর রহমানকে প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়। ২৪ ঘণ্টার মধ্যে দাবি মানা না হলে আরও কঠোর কর্মসূচির ঘোষণাও দেওয়া হয়।
বিক্ষোভকারীদের অভিযোগ, স্বপন মিয়ার বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটানো, বিরোধী দলের নেতাকর্মীদের হয়রানি, জমি ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান দখল, চাঁদাবাজি, সীমান্তে চোরাচালান, টেন্ডারবাজি এবং অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের মতো বিভিন্ন অভিযোগ রয়েছে।
তাদের দাবি, এসব বিষয়ে থানায় একাধিকবার জানানো হলেও ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
তবে এসব অভিযোগের স্বাধীন কোনো প্রমাণ তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি। অভিযোগগুলোর বিষয়ে স্বপন মিয়ার বক্তব্যও পাওয়া যায়নি।
একদিন পর ঢাকায় গ্রেপ্তার
বিক্ষোভের পরদিনই স্বপন মিয়ার ঢাকার রমনা এলাকা থেকে গ্রেপ্তারের কথা জানায় পুলিশ।
ছাতক থানার ওসি মিজানুর রহমান বলেন, রমনা এলাকায় অভিযান চালিয়ে স্বপন মিয়াকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পরে তাকে ছাতক থানার মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতে পাঠানো হয়।
মঙ্গলবার বিকেলে তাকে সুনামগঞ্জ আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
সদর থানায় রাখার বিষয়ে পরিষ্কার নয়
স্বপন মিয়াকে আদালতে পাঠানোর প্রক্রিয়ায় সুনামগঞ্জ সদর মডেল থানার নামও আসে। তাকে সদর থানায় রাখা হয়েছিল কি না এবং কীভাবে সেখানে নেওয়া হলো—এ বিষয়ে জানতে চাইলে থানার ওসি রতন শেখ বিস্তারিত বলতে রাজি হননি।
তিনি বলেন, বিষয়টি পুলিশ সুপারের সঙ্গে কথা বললে জানা যাবে। শুধু তিনি জানান, আসামিকে আদালতে পাঠানো হচ্ছে। ছাতক থানার ফরওয়ার্ডিং আসতে দেরি হয়েছিল বলে ধারণা করা যেতে পারে।
কোর্ট ইন্সপেক্টর অজয় চন্দ্র দেব বলেন, মঙ্গলবার বিকেলে ছাতক জোনের আমলি আদালতের বিচারক হাজী স্বপন মিয়াকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
জনতার হাতে আটকের পর পুলিশের হেফাজতে নেওয়া, হাসপাতালে পাঠানো, এরপর তার অবস্থান নিয়ে তৈরি হওয়া ধোঁয়াশা এবং একদিন পর ঢাকার রমনা থেকে গ্রেপ্তার পুরো ঘটনাপ্রবাহ নিয়ে এখন স্থানীয়দের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনাটির বিস্তারিত ব্যাখ্যা এবং প্রয়োজন হলে তদন্তের মাধ্যমে পুরো বিষয়টি পরিষ্কার করার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
যে আই