দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্ব পরিবেশ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে সুন্দরবনের পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ECA) সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান (Nature-based Solutions) বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বক্তারা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) পরিবেশ অধিদপ্তরের সেমিনার কক্ষে পরিবেশ অধিদপ্তর (DoE), সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্স স্টাডিজ (CNRS) এবং বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতির (বেলা) যৌথ উদ্যোগে ‘সুন্দরবনের প্রতিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকার সহনশীলতা বৃদ্ধি: তৃণমূলের কণ্ঠস্বর’ এবং ‘বন ও বৃক্ষ সংরক্ষণ আইন, ২০২৬’ শীর্ষক সেমিনারে এ গুরুত্বারোপ করা হয়।
সেমিনারে সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষক, পরিবেশবিদ, স্থানীয় সরকার প্রতিনিধি, গণমাধ্যমকর্মী ও স্থানীয় জনগণসহ বিভিন্ন অংশীজন অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, বিশ্ব পরিবেশ দিবসের এবারের প্রতিপাদ্য ‘Climate Action: জলবায়ু পরিবর্তন—আজকের পদক্ষেপ, আগামীর নিরাপত্তা’ বাস্তবায়নে বন সংরক্ষণ, পরিবেশগত সুশাসন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।
প্রথম অধিবেশনে বেলার আইনজীবী রুমানা শারমিন শান্তা বন সংরক্ষণ, পরিবেশ আইন কার্যকর বাস্তবায়ন, জীববৈচিত্র্য রক্ষা এবং পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা সংরক্ষণে স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণের প্রয়োজনীয়তার কথা তুলে ধরেন।
দ্বিতীয় অধিবেশনে সিএনআরএসের নির্বাহী পরিচালক ড. এম. মোখলেছুর রহমান সুন্দরবনসংলগ্ন উপকূলীয় এলাকায় বাস্তবায়িত প্রকৃতি-ভিত্তিক অভিযোজন কার্যক্রমের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি খাল পুনঃখনন, মিঠাপানির উৎস পুনরুদ্ধার, বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ এবং অ্যাসিস্টেড ন্যাচারাল রিজেনারেশন (ANR)-এর মাধ্যমে ম্যানগ্রোভ পুনর্বাসনের মতো উদ্যোগের কথা উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, "প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধান জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় টেকসই উন্নয়নের অন্যতম কার্যকর পথ। স্থানীয় জনগণের অংশগ্রহণ ও বিজ্ঞানভিত্তিক উদ্যোগের সমন্বয়েই উপকূলীয় অঞ্চলের দীর্ঘমেয়াদি সহনশীলতা নিশ্চিত করা সম্ভব।"
সুইডেন দূতাবাসের সিনিয়র প্রোগ্রাম অফিসার (ক্লাইমেট অ্যান্ড এনভায়রনমেন্ট) মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, উপকূলীয় জলবায়ু-ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন, জীববৈচিত্র্য সংরক্ষণ এবং জলবায়ু সহনশীলতা বৃদ্ধিতে সুইডেন দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশকে সহযোগিতা করছে। তিনি স্থানীয়ভাবে পরিচালিত অভিযোজন এবং প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
ব্রিটিশ হাই কমিশনের লাইভলিহুড অ্যাডভাইজার এবিএম ফিরোজ আহমেদ বলেন, জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় স্থানীয় জনগণকে সম্পৃক্ত করে প্রকৃতি-নির্ভর উদ্যোগ অব্যাহত রাখতে হবে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মুহাম্মদ সোলায়মান হায়দার বলেন, সুন্দরবন ও দেশের অন্যান্য পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা সংরক্ষণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার। জাতীয় পরিকল্পনায় প্রকৃতি-ভিত্তিক অভিযোজন এবং তৃণমূলের উদ্যোগকে আরও কার্যকরভাবে অন্তর্ভুক্ত করার ওপর তিনি গুরুত্ব দেন।
মুক্ত আলোচনায় বক্তারা জাতীয় ও স্থানীয় উন্নয়ন পরিকল্পনায় প্রকৃতি-ভিত্তিক সমাধানকে অন্তর্ভুক্ত করা, খাল ও জলাশয় পুনরুদ্ধার, স্থানীয় জনগণ, নারী ও যুবসমাজের অংশগ্রহণ বৃদ্ধি, পরিবেশ আইন বাস্তবায়ন এবং জলবায়ু অভিযোজন কার্যক্রমে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান।
সেমিনারে সভাপতিত্ব করেন পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক এ কে এম রফিকুল ইসলাম। সমাপনী বক্তব্যে তিনি উত্থাপিত সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী, গবেষণা প্রতিষ্ঠান, নাগরিক সমাজ ও স্থানীয় জনগণের সমন্বিত উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানান।
এমএস/