দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা মেডিকেল এলাকায় ছয় প্রতিষ্ঠানকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করেছে ডিএমপির ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় একজনকে আটক করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) সড়ক, ফুটপাত ও মার্কেটের অবৈধ দোকানপাটের বর্ধিতাংশ উচ্ছেদে দ্বিতীয় দিনের অভিযানে ডিএমপি এই জরিমানা করে। ঢাকা মেডিকেল কলেজ, ফুলবাড়িয়া, মিরপুরসহ আটটি স্থানে এই অভিযান চলছে।
প্রথম দিনে বেশিরভাগ জায়গা সতর্ক করলেও বৃহস্পতিবার দ্বিতীয় দিনে কঠোর অবস্থানে রয়েছে ভ্রাম্যমাণ আদালত। মাইকিং করে নির্দেশনা দেয়া হচ্ছে। সড়ক ও ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান, হোটেলসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বর্ধিতাংশ পেলেই ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। অস্থায়ী দোকান জব্দ করে পিকআপে করে সরিয়ে ফেলা হচ্ছে।
রমনা ট্রাফিক বিভাগ এদিন ঢাকা মেডিকেল কলেজের বহির্বিভাগের সামনে থেকে শুরু করে অভিযান শেষ করে গোলাপ শাহ মাজার পর্যন্ত। এ সময় ছয়টি প্রতিষ্ঠানকে বিশ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। অভিযানের নামে বাড়াবাড়ির অভিযোগ করেছেন কয়েকজন দোকানি।
তারা বলেন, বর্ধিতাংশ দোকানের অংশ নয়, এটি কাস্টমারদের জন্য করা। কাস্টমাররা যাতে বৃষ্টিতে না ভিজে সে কারণে এই শেড দেয়া হয়েছে। আমরা দোকানের বাইরে কিছু রাখিনি। এই শেডের জন্য জরিমানা করা হচ্ছে।
পুলিশ ও ম্যাজিস্ট্রেট জানায়, কোন অনিয়ম বরদাস্ত করা হচ্ছে না। যাদের বিরুদ্ধে রাস্তা ফুটপাত দখলের প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে তাদেরকে বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হচ্ছে। উচ্ছেদের পর আবারো কেউ দোকানপাট বসাতে না পারে সেজন্য একই জায়গায় একাধিকবার অভিযান চলছে।
ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ইমরান হাসান বলেন, দোকানের চুলা বাইরে রাখা হয়েছে। থালা-বাসন রাস্তায় ধোয়া হচ্ছে। রাস্তার পিচ উঠে যাচ্ছে। বর্ধিতাংশের কথা দোকানিরাও স্বীকার করে নিয়েছে। তাদের কাউকে জরিমানা ছাড়া কঠোর শাস্তি দেয়া হয়নি। দোকানের ভিতরে থেকে ব্যবসা করতে হবে। দোকানের বাইরে কোনো টেবিল, চুলা রেখে কেউ ব্যবসা করতে পারবে না। ডিএমপি এ ব্যাপারে গণ বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ভাসমান কোনো দোকান ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় বসতে পারবে না।
এ ধরনের অভিযান অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন ডিএমপির ট্রাফিক রমনা বিভাগের অতিরিক্ত উপকমিশনার কাজী রোমানা নাসরিন।
তিনি বলেন, ঢাকা শহরে যে কেউ এসে রুটি-কলার দোকান, ফ্লেক্সিলোডের দোকান দিয়ে বসবে এটা কোনো কথা না। ঢাকা শহরের এক্সিট-এন্ট্রি নিয়ন্ত্রণ করা উচিত। কারণ এটি ওভার বার্ডেন সিটি হয়ে গেছে অলরেডি। আরেকটি টিম অভিযানে যায় চানখারপুল থেকে বকশিবাজার পর্যন্ত। চানখারপুলের সড়কটি অবৈধ দোকানে ভরপুর থাকে। পাশের এই মার্কেটটির দোকানদাররাও ফুটপাত দখল করে ব্যবসা করে। অভিযানের কথা শুনে সবাই সটকে পড়ে। দেখে বোঝার উপায় নাই এখানে অবৈধভাবে সড়ক ও ফুটপাত দখল হয়।
এরপরেও কিছু দোকান খোলা পাওয়া যায়। তাৎক্ষণিকভাবে জব্দ করা হয় এসব দোকানের মালামাল। অনেকে আবার দোকান খোলা রেখেই পালিয়ে যায়। ফুটপাত দখল করা এম্বুলেন্সের বিরুদ্ধে মামলা করার কথা জানান ম্যাজিস্ট্রেট।
সড়ক ও ফুটপাত মুক্ত করতে মিরপুর ১০ থেকে ১২ পর্যন্ত সড়কেও অভিযান হয়েছে। বেশ কিছু দোকানের মালামাল জব্দ করে গাড়িতে তোলে আভিযানিক দল। এ সময় পুনর্বাসনের দাবি করেন দোকানিরা। কয়েকটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা ও বাকিদের সড়ক থেকে মালামাল সরাতে শুক্রবার পর্যন্ত সময় বেঁধে দেন ম্যাজিস্ট্রেট।
কে