দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার ফুটপাত এবং সড়ক দখলমুক্ত করতে আজ থেকে অভিযান শুরু করছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
ডিএমপি জানিয়েছে, বিভিন্ন এলাকায় সড়কের পাশের রেস্তোরাঁ, যানবাহন মেরামতের গ্যারেজ, ওয়েল্ডিং ওয়ার্কশপ, পোশাক ও আসবাবের দোকানগুলো তাদের নিজস্ব সীমানার বাইরে অবৈধভাবে ফুটপাত ও রাস্তায় ব্যবসা সম্প্রসারণ করেছে। রেস্তোরাঁর রান্নার চুলা, গ্রিল বা কাবাব তৈরির যন্ত্র, ওয়ার্কশপের পুরোনো টায়ার ও যন্ত্রপাতি ফুটপাতে ফেলে রাখা হচ্ছে। এমনকি মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপগুলো প্রায়ই রাস্তার এক লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করছে। এতে ফুটপাত দিয়ে পথচারীদের হাঁটার সুযোগ থাকছে না। বাধ্য হয়ে মূল সড়ক দিয়ে হাঁটতে গিয়ে পথচারীদের নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। তেমনি সড়কে তৈরি হচ্ছে যানজট।
বুধবার (১ এপ্রিল) সকাল ১০টা থেকে শুরু হওয়া এই অভিযানে ট্রাফিক পুলিশের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট থানা-পুলিশ, পাবলিক অর্ডার ম্যানেজমেন্ট (পিওএম) ফোর্স এবং সিটি করপোরেশনের কর্মীরা অংশ নেবেন। উচ্ছেদকাজে ব্যবহারের জন্য ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের বড় ট্রাক, রেকার, হাতুড়ি, শাবলসহ প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা হয়েছে।
ডিএমপির ট্রাফিক গুলশান বিভাগ জানায়, পুলিশের পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী, আজ সকাল ১০টায় কাকলী আউটগোয়িং এবং এর ফুটপাতে থাকা খাবারের হোটেলের বর্ধিত অংশ, আসবাবের দোকানের বর্ধিত অংশসহ আশপাশের এলাকায় অভিযান চালানো হবে। এরপর আগামীকাল ২ এপ্রিল গুলশান-১ ডিএনসিসি মার্কেট ও গুলশান-২ সিটি করপোরেশন মার্কেট সংলগ্ন ফুটপাতে উচ্ছেদ অভিযান চলবে। ৪ এপ্রিল মহাখালী কাঁচাবাজার এলাকার কস্তুরী রেস্তোরাঁসহ আশপাশের অবৈধ দোকানপাট এবং ৫ এপ্রিল মহাখালী আমতলী সংলগ্ন আজলান মোটরস, কাঁচাবাজার সংলগ্ন ফুটপাত ও পুলিশ প্লাজা এলাকায় অভিযান চালাবে ভ্রাম্যমাণ আদালত।
রাজধানী ঢাকার ফুটপাত ও সড়ক দখলমুক্ত করে পথচারীদের চলাচল নির্বিঘ্ন করতে এবং কৃত্রিম যানজট নিরসনে ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ এই কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ।
মূলত সড়কের পাশে ফুটপাত দখল করে গড়ে ওঠা অবৈধ রেস্টুরেন্ট, যানবাহনের ওয়ার্কশপ এবং স্থায়ী স্থাপনাগুলো উচ্ছেদ করাই এই অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। ডিএমপির স্পেশাল মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেটের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত এই কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, রাজধানীর মগবাজার থেকে বাংলামোটর, ফুলবাড়িয়া, বকশিবাজার থেকে চানখাঁরপুল, নাইটেংগেল মোড় থেকে আরামবাগ, ধোলাইপাড় থেকে যাত্রাবাড়ী, গ্রিন রোড, আনন্দ সিনেমা হল, বসুন্ধরা ও কারওয়ান বাজার এলাকা।
অন্যদিকে, মিরপুরের কাজীপাড়া, শেওড়াপাড়া ও তালতলা। উত্তরার বিএনসিসি সেন্টার থেকে হাউজিং বিল্ডিং। গুলশান এলাকার কাকলী আউটগোয়িং এলাকায়ও অভিযান চলবে। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযান চলবে ১ এপ্রিল থেকে ৫ এপ্রিল পর্যন্ত।
ডিএমপির ট্রাফিক বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. আনিছুর রহমান বলেন, দোকানের সীমানা পেরিয়ে ফুটপাত বা মূল সড়কে রেস্টুরেন্টের কিচেন, গ্রিল-কাবাবের মেশিন, আসবাবপত্র কিংবা ওয়ার্কশপের টায়ার ও যন্ত্রপাতি রেখে জনপথ আগলে রেখেছেন তাদের বিরুদ্ধে অভিযান। যেসব ব্যবসা প্রতিষ্ঠান তাদের বৈধ জায়গার বাইরে অতিরিক্ত জায়গা দখল করে জনগণ চলাচলে বিঘ্ন ঘটাচ্ছে, তাদের কোনো ছাড় দেওয়া হবে না।
এর আগে গত ২৩ মার্চ ডিএমপির পক্ষ থেকে একটি গণবিজ্ঞপ্তি জারি করা হয়েছিল। সেখানে জানানো হয়, অনেক রেস্টুরেন্ট ও দোকান তাদের ব্যবসায়িক সরঞ্জাম ফুটপাতে রেখে পথচারীদের মূল রাস্তা দিয়ে হাঁটতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে মোটরগাড়ির ওয়ার্কশপগুলো সড়কের একটি লেন দখল করে গাড়ি মেরামত করার ফলে তীব্র যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। বিজ্ঞপ্তিতে ব্যবসায়ীদের নিজ উদ্যোগে অবৈধ মালামাল সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। যারা এই নির্দেশ অমান্য করেছেন, তাদের বিরুদ্ধেই আজ থেকে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উচ্ছেদ অভিযানের পাশাপাশি হকারদের পুনর্বাসনের বিষয়েও ইতিবাচক ইঙ্গিত দিয়েছে ডিএমপি। ট্রাফিক বিভাগ জানিয়েছে, হকারদের জন্য নির্ধারিত এলাকায় শিগগিরই ‘হলিডে মার্কেট’ ও ‘নাইট মার্কেট’ চালুর প্রস্তুতি চলছে। এর ফলে হকাররা যেমন নির্দিষ্ট সময়ে তাদের ব্যবসা পরিচালনা করতে পারবেন, তেমনি সাধারণ মানুষও নির্বিঘ্নে ফুটপাত ব্যবহারের সুযোগ পাবেন।
কে