দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের অন্যতম ব্যস্ত ও জনগুরুত্বপূর্ণ সিএন্ডবি রোডের মাঝখানে নির্মিত ‘শাহান-আরা পার্ক’ অপসারণ কার্যক্রম শুরু করেছে বরিশাল সিটি কর্পোরেশন (বিসিসি)।
বুধবার (১৩ মে) সকাল ১১টায় বিসিসির প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীনের উপস্থিতিতে বুলডোজার দিয়ে পার্কটির বিভিন্ন স্থাপনা ভেঙে উচ্ছেদ অভিযান শুরু করা হয়।
অভিযান চলাকালে উপস্থিত ছিলেন বিসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রেজাউল বারী, সাবেক কাউন্সিলর শাহ আমিনুল ইসলাম আমিন, হাবিবুর রহমান টিপু, আ.ন.ম সাইফুল আহসান আজিম ও ইউনূস হোসেন। এছাড়াও মহানগর বিএনপি নেতা সাজ্জাদ হোসেন, আহমেদ জ্যাকি অনুপম, নওশাদ হোসেন নান্টু, মাজহারুল ইসলাম জাহানসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
উচ্ছেদ অভিযান শুরুর খবর ছড়িয়ে পড়লে স্থানীয় বাসিন্দা ও পথচারীদের মধ্যে ব্যাপক উৎসাহ দেখা যায়। তারা ঘটনাস্থলে জড়ো হয়ে দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ নিরসনে এ উদ্যোগকে স্বাগত জানান এবং দ্রুত পুরো স্থাপনাটি অপসারণের দাবি জানান। তারা জানান, সড়কের মাঝখানে পার্ক থাকায় দীর্ঘদিন ধরে তীব্র যানজট, দুর্ঘটনার ঝুঁকি এবং জনভোগান্তি তৈরি হচ্ছিল। বিশেষ করে ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কে প্রবেশ ও বের হওয়ার সময় যানবাহন চলাচলে মারাত্মক বিঘ্ন ঘটত বলে অভিযোগ করেন তারা। স্কুল-কলেজগামী শিক্ষার্থী, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স ও সাধারণ যাত্রীদের দুর্ভোগ ছিল চরমে।
জানা গেছে, ২০২২ সালে সাবেক মেয়র সেরনিয়াবাত সাদিক আব্দুল্লাহ তার মায়ের নামে নগরীর সিএন্ডবি রোড এলাকায় ‘শাহান-আরা পার্ক’ নির্মাণ করেন। প্রায় ১৪ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই পার্কটি শুরু থেকেই সমালোচনার জন্ম দেয় এবং নগরবাসীর আপত্তি উপেক্ষা করেই নির্মাণ সম্পন্ন হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরবর্তীতে ২০২৪ সালের আগস্টে গণঅভ্যুত্থানের সময় পার্কটির বিভিন্ন অংশ ভাঙচুর হয়। এরপর থেকে স্থাপনাটি অপসারণের দাবি আরও জোরালো হয়ে ওঠে। ২০২৫ সালে সড়ক ও জনপথ বিভাগ পার্কটি উচ্ছেদের জন্য দরপত্র আহ্বান করলেও তা বাস্তবায়ন হয়নি।
বর্তমান প্রশাসক অ্যাডভোকেট বিলকিস আক্তার জাহান শিরীন দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই পার্কটি অপসারণে কার্যকর উদ্যোগ নেন। আজ বুধবার তিনি নিজে ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে উচ্ছেদ কার্যক্রম তদারকি করেন। এ সময় ভারি যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে পার্কের অবকাঠামো গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
বিসিসি সূত্র জানায়, পর্যায়ক্রমে পুরো স্থাপনাটি অপসারণ করে সড়কটিকে যান চলাচলের উপযোগী ও নিরাপদ করা হবে। পাশাপাশি সেখানে সৌন্দর্যবর্ধন ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা উন্নয়নের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
/অ