দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চৈত্রের অলস দুপুর। আকাশ কিছুটা মেঘাচ্ছন্ন, মাঝেমধ্যে ঝরছে গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি। প্রকৃতির এই সিক্ত আবহে খাঁচার ভেতর আড়মোড়া ভেঙে বাঘ দম্পতির খুনসুটি যেন বন্যতার এক জীবন্ত রূপ। আর এই দৃশ্য দেখতেই মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানায় উপচে পড়ছে হাজারো দর্শনার্থী।
ঈদের লম্বা ছুটিতে রাজধানীর বিনোদন কেন্দ্রগুলোর মধ্যে বরাবরের মতোই আকর্ষণের কেন্দ্রে রয়েছে মিরপুর জাতীয় চিড়িয়াখানা।
শনিবার (২১ মার্চ) বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বেড়েছে মানুষের ভিড়। ১৩৪ প্রজাতির তিন হাজারেরও বেশি পশুপাখির এই রাজ্যে ছোট-বড় সব বয়সি মানুষের উপস্থিতি ছিল চোখে পড়ার মতো। কেউ বানরের চপলতা দেখছেন, কেউ আবার মায়াবী হরিণের খাঁচার সামনে ভিড় জমাচ্ছেন।
বনশ্রী থেকে আসা দর্শনার্থী লাবিবা হাসান উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে বলেন, ‘ঈদের ছুটিতে পরিবার নিয়ে একটু খোলা জায়গায় আসতে চেয়েছিলাম। একসঙ্গে বাঘ, সিংহ আর এত রকমের পাখি দেখে বাচ্চারা খুব খুশি। খাঁচার ভেতরে পশুপাখিগুলোও আজ বেশ চনমনে মনে হচ্ছে। বৃষ্টির জন্য আবহাওয়াটাও বেশ চমৎকার।’ তবে আনন্দের এই ভিড়ে কিছু অস্বস্তির চিত্রও ফুটে উঠেছে। পর্যাপ্ত নিরাপত্তা ব্যবস্থার অভাব এবং ভেতরের খাবারের দাম নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন অনেক দর্শনার্থী। বিশেষ করে অতিরিক্ত ভিড়ের মাঝে শৃঙ্খলা রক্ষায় কর্তৃপক্ষের আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন বলে মনে করছেন তারা।
দর্শনার্থী আসসান হাবিব অভিযোগ করে বলেন, ‘মানুষের অনেক ভিড়, কিন্তু সেই তুলনায় নিরাপত্তারক্ষী কম দেখা যাচ্ছে। পকেটমার বা অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটার ভয় থাকে। সবচেয়ে বড় সমস্যা খাবারের দাম। বাইরে যে পানির বোতল বা চিপস পাওয়া যায় ১৫-২০ টাকায়, এখানে তা দ্বিগুণ দামে বিক্রি হচ্ছে। সাধারণ মানুষের জন্য এটা খুব কষ্টকর।’
বর্তমানে জাতীয় চিড়িয়াখানাটি নতুন রূপে সাজানোর পরিকল্পনা চলছে। ১৩৪ প্রজাতির বিশাল এই সংগ্রহশালায় বাঘ, সিংহ, জলহস্তী থেকে শুরু করে দেশি-বিদেশি নানা বিরল প্রজাতির পাখি রয়েছে। কর্তৃপক্ষ জানায়, দর্শনার্থীদের চাপ সামলাতে তারা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছেন।
কে