দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) ক্যাম্পাসের বিভিন্ন স্থানে সাতটি ককটেল বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন তিনজনকে আটক করে শাহবাগ থানা-পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা।
রোববার (৮ নভেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে টিএসসি, মুক্তি ও গণতন্ত্র তোরণ, ভিসি চত্বর, ইউল্যাব স্কুলসংলগ্ন এলাকা, জগন্নাথ হলের গেট ও সিনেট ভবনের সামনে এসব বিস্ফোরণ ঘটে। এতে ক্যাম্পাসজুড়ে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে।
পুলিশের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, আটক তিনজন হলেন নাটোরের রেজাউল করিম (৪২), রাজশাহীর সোহেল রানা (৩৩) ও গোপালগঞ্জের নাজমুস সাদ (৩৩)।
প্রত্যক্ষদর্শী ও ছাত্রদলের বিজয় একাত্তর হল শাখার সিনিয়র যুগ্ম আহ্বায়ক সাজ্জাদুর রহমান জানান, প্রথমে বিশ্ববিদ্যালয়ের সোহরাওয়ার্দী উদ্যানের দিকে একটি ককটেল বিস্ফোরিত হয়। কিছুক্ষণ পর মেট্রোরেল স্টেশনসংলগ্ন টিএসসি গেটে আরেকটি বিস্ফোরণ ঘটে। এ সময় কয়েকজনকে দ্রুত পালিয়ে যেতে দেখে তাদের ধাওয়া করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে সেখান থেকে দুজনকে আটক করা হয়। এ ছাড়া জগন্নাথ হলের সামনে থেকে আরও একজনকে আটক করা হয়।
আটক ব্যক্তিদের মারধর করে শাহবাগ থানায় নিয়ে যাওয়া হয় জানিয়ে সাজ্জাদুর রহমান বলেন, আটক এক যুবক নিজেকে বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেন। নিজের পরিচয় যাচাই করতে উপস্থিত ব্যক্তিদের স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদের এক সদস্যের সঙ্গে যোগাযোগ করার অনুরোধও জানান তিনি।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক মো. ইসরাফিল প্রাং বলেন, টিএসসিতে ককটেল বিস্ফোরণের পর শিক্ষার্থীরা দুজনকে আটক করে প্রক্টরিয়াল টিমের কাছে সোপর্দ করেন। পরে তাদের পুলিশের কাছে হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়। এ ঘটনায় শাহবাগ থানা-পুলিশকে খবর দেওয়া হয়েছে। সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে ঘটনার বিষয়ে জানার চেষ্টা চলছে।
ধারাবাহিক বিস্ফোরণের ঘটনায় ক্যাম্পাসে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়লে প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল করেন ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা। পরে তারা শাহবাগ থানার সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাহিদুজ্জামান শিপন অভিযোগ করেন, ৫ আগস্টের পর থেকে ক্যাম্পাসে শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করতে ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা চোরাগোপ্তা ককটেল হামলা চালিয়ে আসছে। জুলাই-আগস্ট গণ-অভ্যুত্থানে দুই হাজার ছাত্র, শ্রমিক ও জনতাকে হত্যার অভিযোগে পলাতক গোষ্ঠী আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে বলে দাবি করেন তিনি।
নাহিদুজ্জামান বলেন, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বাভাবিক শিক্ষার পরিবেশ নষ্ট করতেই এ হামলা চালানো হয়েছে। সাধারণ শিক্ষার্থী ও জনগণ তিনজনকে আটক করে পুলিশের কাছে সোপর্দ করেছেন। এ ধরনের হামলার বিরুদ্ধে তারা আগেও রাজপথে লড়াই করেছেন, ভবিষ্যতেও প্রতিরোধ গড়ে তুলবেন।
যে আই