দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

পরিকল্পনা মন্ত্রী এম এ মান্নান বলেছেন, নাগরিকদের তথ্য জানার অধিকার আছে। একজন নাগরিকের কোনো কিছু জানার অধিকার এবং প্রয়োজন দুটোই আছে। তবে আমাদের দেশে অনেক ঘাটতি আছে। অন্যায় হচ্ছে। কিন্তু সবকিছু ছাপিয়ে দেশে ইতিবাচক পরিবর্তন হচ্ছে।
শুক্রবার (২৫ আগস্ট) সকালে জাতীয় প্রেসক্লাবের তফাজ্জল হোসেন মানিক মিয়া মিলনায়তনে ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলা সাংবাদিক সমিতি আয়োজিত সমিতির প্রয়াত সাধারণ সম্পাদক কার্টুনিস্ট এম. এ. কুদ্দুসের সম্মানে স্মরণসভা ও ‘বাংলাদেশের অর্থনীতি-রাজনীতিতে কার্টুনের ভূমিকা’ শীর্ষক আলোচনা অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে এম এ মান্নান বলেন, একটা ছবি অনেক শব্দ প্রকাশ করে থাকে ঠিক তেমনি একটা কার্টুনও মিলিয়ন ওয়ার্ড প্রকাশ করে।
তিনি বলেন, আমাদের সবার উচিত কুদ্দুসের পরিবারের পাশে দাঁড়ানো। আমি তার স্ত্রীর একটা চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাব। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব একটা ব্যবস্থা করা হবে।
সাংবাদিকদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি বলেন, আপনাদের (সাংবাদিক) ওয়েজ বোর্ডের ব্যাপারে মাঝে মধ্যে শুনি। এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট না হওয়ার কারণে আমার গভীর জ্ঞান নেই, তবে এটাও জানি ওয়েজবোর্ড ঘোষণা হয়, কিন্তু বাস্তবায়ন হয় না। এটাও মাঝে মধ্যে পড়ি, ওয়েজবোর্ড ঘোষণা হয়, কেউ এটা মানে, কেউ মানে না। ওয়েজবোর্ড যেহেতু সবার সঙ্গে আলোচনা করেই হয়েছে, তাহলে মানবে না কেন? না মানার স্কোপ কোথায়? সাংবাদিকতা পেশায় নিরাপত্তার জন্য ওয়েজবোর্ডের প্রয়োজনীয়তা আছে, এটা আমি বুঝতে পারি। আমি নিজেও সরকারি চাকরি করেছি, আমরা যেমন নিরাপত্তা পাই, আপনারা সাংবাদিকরা তেমনটা পান না। আবার কেউ কেউ নানা শর্টকাট উপায়ে অনেক দূর চলে যান। কিন্তু যারা মূলধারার সাংবাদিকতা করে তাদের জীবন অনেক ঝড়-ঝাপটার। আমার ছোটবেলার অনেক সাংবাদিক বন্ধুদের দেখেছি ঢাকায় তারা অনেক কষ্ট করেছে।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলা সাংবাদিক সমিতির সভাপতি নুরে আলম সিদ্দিকী হক।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব আব্দুল লতিফ মোল্লা বলেন, কুদ্দুস ছিলেন বাংলাদেশ কার্টুন জগতের একজন বিখ্যাত ব্যক্তি। তার সম্পর্কে বলতে গেলে আমি আবেগপ্রবণ হয়ে যাই।
তিনি আরও বলেন, একজন কুদ্দুস একদিনে তৈরি হয়নি। তিনি ছোটবেলা থেকে পড়াশোনার পাশাপাশি আর্ট করতেন। সে ছিল অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক কার্টুনিস্ট। প্রচার বিমুখের কারণে তার কার্টুন বেশি প্রচার হয়নি। প্রচার করা হলে তিনি আন্তর্জাতিক পর্যায়ে পৌঁছে যেতেন। তিনি ছিলেন একজন দেশপ্রেমিক কার্টুনিস্ট।
সভাপতির বক্তব্যে নূরে আলম সিদ্দিকী হক বলেন, রাজবাড়ীর মানুষ কুদ্দুসকে কিভাবে চেনে আমি জানি না তবে তার কার্টুন সারা বাংলাদেশে ছেয়ে গেছে। কুদ্দুসরা শুধু রাজবাড়ীর সম্পদ নয়, সারা বিশ্বের সম্পদ। সংগঠনের পক্ষে আমি আমার ব্যক্তিগত তহবিল থেকে কুদ্দুসের পরিবারকে আগে ৫০ হাজার টাকা সহায়তা করেছি। এখন আরও ১ লাখ টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি। আমরা যেন কুদ্দুসের সব কার্টুন নিয়ে একটি প্রদর্শনী অনুষ্ঠান করতে পারি সে বিষয়ে আপনারা সবাই সাহায্য করবেন।
কুদ্দুসের স্ত্রী তানিয়া সুলতানা বলেন, কুদ্দুস ছিলেন খুবই বিনয়ী। তিনি অল্পতেই তুষ্ট থাকতেন এবং খুশি হলে শিশুদের মতো একটি হাসি দিতেন। তার অকাল প্রয়াণ যাওয়া আমাদের জন্য বিশেষ করে আমার জন্য অত্যন্ত বেদনার।
অনুষ্ঠানে কুদ্দুসের বর্ণাঢ্য কর্মময় জীবন নিয়ে স্মৃতিচারণ করেন দৈনিক সংবাদের সাব এডিটর ওবায়েদ আকাশ, নয়া দিগন্তের চিফ রিপোর্টার ও সমিতির অর্থ সম্পাদক আশরাফুল ইসলাম, বাংলাদেশ প্রতিদিনের পান্থ আফজাল, সমিতির সাংগঠনিক সম্পাদক অরন্য গফুর, সাংস্কৃতিক সম্পাদক চন্দন সান্যাল।
সংগঠনের ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক রিমন রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন কাজী রওনাক হোসেন, সম্পাদক, মাসিক সরগম ও উপদেষ্টা, ঢাকাস্থ রাজবাড়ী জেলা সাংবাদিক সমিতি, দেশবরেণ্য সাংবাদিক ও সমালোচক গোলাম মুর্তজা জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক ও উপদেষ্টা, রাজবাড়ী জেলা সাংবাদিক সমিতি, মানিক লাল সহসভাপতি, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের গণিত বিভাগের সহকারী অধ্যাপক ড. ফারহানা রশীদ, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক আকতার হোসেন, ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়নের সাবেক সহসভাপতি ও সমিতির সহসভাপতি শাহীন হাসনাত। দপ্তর সম্পাদক শামীম মোল্লা, প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক নাহিদুর রহমান হিমেল, ক্রীড়া সম্পাদক শাহেদ আলী ইরশাদ, কল্যাণ ও প্রশিক্ষণ সম্পাদক শামস সোহাগসহ আরও অনেকে।
জেডএ