দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

রাজধানীর মোহাম্মদপুরে বাসার পেছনের গ্রিল কেটে ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ও প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার চুরির ঘটনায় জড়িত চক্রের তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
গ্রেপ্তাররা হলেন- সুমন, রাসেল ও সানি। চুরির টাকায় কেনা একটি নতুন অটোরিকশাও উদ্ধার করা হয়েছে।
সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মোহাম্মদপুর জোনের সহকারী পুলিশ কমিশনার (এসি) আব্দুল্লাহ আল মামুন এসব তথ্য জানান।
তিনি জানান, গত ২৪ জুলাই রাত ১১টা থেকে ২৫ জুলাই ভোর ৫টার মধ্যে মোহাম্মদপুরের চানমিয়া হাউজিংয়ের একটি বাসার নিচতলায় চুরির ঘটনা ঘটে। চোরেরা বাসার পেছনের গ্রিল কেটে ভেতরে প্রবেশ করে গৃহকর্তা গোলাম মোস্তফার নগদ ১৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা এবং প্রায় ৫ লাখ টাকা মূল্যের স্বর্ণালংকার নিয়ে যায়।
চুরি যাওয়া স্বর্ণালংকারের মধ্যে ছিল দুটি সোনার চেন, দুটি আংটি, দুটি কানের দুল এবং দুটি বালা।
এসি আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ঘটনার পর পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে এক জোড়া কালো রঙের টাইপযুক্ত স্যান্ডেল উদ্ধার করে। চোরেরা বাসার পেছনের পথ ব্যবহার করায় প্রাথমিকভাবে সিসিটিভি ফুটেজ থেকে গুরুত্বপূর্ণ কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি।
তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, চুরির পরদিন সকালে সানি, রাসেল ও সুমনকে প্রচুর নতুন টাকা নিয়ে ঘোরাফেরা এবং স্থানীয় দোকানে খরচ করতে দেখা যায়। তাদের একজন দোকানদারের কাছে বন্ধক রাখা মোবাইল ৫০০ ও ২০০ টাকার নতুন নোট দিয়ে ছাড়িয়ে নেয় এবং বকশিসও দেয়।
এরপর ঢাকা, বরিশাল ও ভোলাসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালায় পুলিশ। গত ১৯ সেপ্টেম্বর সুমনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আদালতে সোপর্দ করা হলে তিনি স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ জানতে পারে, মানিক নামে একজনকে মাস্টারমাইন্ড দাবি করে তারা চারজন- সুমন, রাসেল, সানি ও মানিক মিলে চুরিটি করে।
মানিক বর্তমানে অন্য একটি মামলায় কারাগারে। তাকে এই মামলায় শোন অ্যারেস্ট দেখানোর জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে।
সুমনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে রোববার রাতে কেরানীগঞ্জ এলাকা থেকে রাসেল ও সানিকে গ্রেপ্তার করা হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা চুরির ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছেন। চুরি করা টাকা চারজনের মধ্যে সাড়ে চার লাখ টাকা করে ভাগ করে নেওয়া হয়। পরে ওই টাকা দিয়ে আসবাবপত্র কেনা, জুয়া খেলা ও মাদক সেবনে ব্যয় করা হয়।
আব্দুল্লাহ আল মামুন আরও বলেন, রাসেল চুরির টাকায় একটি নতুন অটোরিকশা তৈরি করে। অটোরিকশাটি পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। চুরি হওয়া স্বর্ণালংকার কোথায় বিক্রি করা হয়েছে ও এর সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না এবং বাকি মালামাল কোথায় রয়েছে এসব বিষয়ে জানতে গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ ও অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
কে