দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে উজানের পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে আকস্মিক বন্যার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। ইতোমধ্যে সিলেট, সুনামগঞ্জ, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ ও নেত্রকোনা জেলার নদ-নদীতে পানি দ্রুত বাড়ছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তথ্যমতে, বর্তমানে চারটি প্রধান নদীর পানি বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্র জানিয়েছে, সুরমা, কুশিয়ারা, খোয়াই এবং জুড়ী নদীর পানি বিভিন্ন পয়েন্টে বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। বিশেষ করে মৌলভীবাজারের জুড়ী পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ১১৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে বইছে। এছাড়া সিলেটের কানাইঘাট ও সুনামগঞ্জ পয়েন্টে সুরমা নদীর পানি ক্রমাগত বাড়ছে।
বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী পার্থ প্রতীম বড়ুয়া গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, মৌলভীবাজার, নেত্রকোনা, সিলেট, হবিগঞ্জ ও সুনামগঞ্জ জেলার নিম্নাঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। এর মধ্যে মৌলভীবাজার ও নেত্রকোনার নিচু এলাকায় এরই মধ্যে পানি ঢুকতে শুরু করেছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে টানা ভারি বৃষ্টিপাতের কারণেই এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে।
এর আগে আবহাওয়া অধিদফতর গত মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দেশের আট বিভাগের বিভিন্ন এলাকায় পরবর্তী ৯৬ ঘণ্টায় ভারি থেকে অতিভারি বৃষ্টির পূর্বাভাস দিয়েছিল।
গত রাত থেকেই দেশের নানা প্রান্তে বৃষ্টিপাত বেড়েছে। রাজধানীতেও আজ সকাল থেকে টানা বৃষ্টি হচ্ছে। আবহাওয়া অধিদফতরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সবচেয়ে বেশি বৃষ্টি হয়েছে কিশোরগঞ্জের নিকলীতে; ১৬১ মিলিমিটার। এছাড়া ভোলায় ১৫১ মিলিমিটার এবং ফেনীতে ১৪৮ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এদিকে, দেশের চারটি নদীর পানি এরই মধ্যে বিপৎসীমার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, ভুগাই কংস, মনু, সোমেশ্বরী ও মগরা নদীর পানি বিপৎসীমা অতিক্রম করেছে। এর মধ্যে মনু নদী ছাড়া বাকি তিনটি নদী নেত্রকোনার ওপর দিয়ে প্রবাহিত।
পানি উন্নয়ন বোর্ড তথ্যমতে, গত চব্বিশ ঘণ্টায় নেত্রকোনার দুর্গাপুর ৬০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। টানা বৃষ্টি ও পাহাড়ি ঢলে ভুগাই কংস নদীর পানি বিপদসীমার ৮২ সে.মি ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে।
এছাড়া সুরমা ও কুশিয়ারা নদীর পানিও এক থেকে দেড় মিটারের বেশি বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। এসব নদী তুলনামূলক ছোট হওয়ায় ভারী বৃষ্টিতে দ্রুত পানি বাড়ে। তবে বৃষ্টিপাত কমে এলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে।
কে