দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তাপমাত্রা বৃদ্ধির কারণে বাংলাদেশ এখন শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছে, একইসাথে উৎপাদনশীলতা হ্রাস পেয়ে অর্থনৈতিক ক্ষতির শিকার হচ্ছে বলে বিশ্বব্যাংকের একটি নতুন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
‘একটি অস্থিতিশীল জীবন: বাংলাদেশের স্বাস্থ্য ও অর্থনীতিতে তাপের প্রভাব’ শীর্ষক প্রতিবেদনটি ১৯৭৬–২০২৩ সালের জাতীয় তাপমাত্রা ও আর্দ্রতার প্রবণতা বিশ্লেষণ করেছে এবং ২০২৪ সালে পরিচালিত দুই দফা সমীক্ষার তথ্য ব্যবহার করেছে, যেখানে ১৬ হাজারেরও বেশি মানুষের মতামত নেয়া হয়।
১৯৮০ সাল থেকে বাংলাদেশের সর্বোচ্চ তাপমাত্রা বেড়েছে ১.১ ডিগ্রি সেলসিয়াস, তবে “ফিলস লাইক” বা অনুভূত তাপমাত্রা বেড়েছে ৪.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস। এর ফলে ডায়রিয়া, দীর্ঘস্থায়ী কাশি, শ্বাসযন্ত্রের রোগ ও অবসাদের মতো স্বাস্থ্য সমস্যা বেড়েছে। তীব্র গরম মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যারও কারণ হচ্ছে, যার মধ্যে হতাশা ও উদ্বেগ অন্যতম।
“চরম গরম কেবল মৌসুমি অসুবিধা নয়। এর প্রভাব অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত। আমরা বাংলাদেশে দেখছি তাপমাত্রা বৃদ্ধি স্বাস্থ্য ও উৎপাদনশীলতাকে প্রভাবিত করছে, একইসাথে দেশের সমৃদ্ধিকেও। তবে সুখবর হলো, এটি মোকাবিলা করা সম্ভব—যেমনটি সিঙ্গাপুরসহ অন্যান্য দেশে দেখা গেছে,” বলেন জ্যাঁ পেসমে, বাংলাদেশ ও ভুটানের জন্য বিশ্বব্যাংকের ডিভিশন ডিরেক্টর।
বাংলাদেশ বর্তমানে বিশ্বে উচ্চ তাপমাত্রার প্রভাবে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে। রাজধানী ঢাকার হিট ইনডেক্স বা তাপমাত্রা সূচক জাতীয় গড়ের তুলনায় প্রায় ৬৫ শতাংশ বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে।
অর্থনৈতিক ক্ষতিও ব্যাপক। ২০২৪ সালে তীব্র গরমজনিত শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে ২৫ কোটি কর্মদিবস নষ্ট হয়েছে। এর ফলে অর্থনীতিতে ক্ষতি হয়েছে প্রায় ১.৭৮ বিলিয়ন মার্কিন ডলার—যা ২০২৪ সালের জিডিপির প্রায় ০.৪ শতাংশ।
স্বাস্থ্যঝুঁকি আরও স্পষ্ট। গ্রীষ্মকালে ডায়রিয়া ও দীর্ঘস্থায়ী কাশির সংখ্যা শীতকালের তুলনায় দ্বিগুণ হয়। নারীরা ক্লান্তি ও হিট স্ট্রোকের মতো তীব্র গরমজনিত রোগে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ। গরমের সঙ্গে হতাশা ও উদ্বেগের মাত্রা বাড়ে এবং গ্রীষ্মে তা বেশি দেখা যায়। বয়স বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে হতাশার ঝুঁকি বাড়ে, আর উদ্বেগ সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ৫০–৬৫ বছর বয়সীদের মধ্যে। গ্রীষ্মকালে শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যার কারণে উৎপাদনশীলতার ক্ষতিও শীতের তুলনায় বেশি হয়।
“আমাদের বিশ্লেষণে দেখা গেছে, তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে খারাপ স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও উৎপাদনশীলতার ক্ষতির সরাসরি সম্পর্ক রয়েছে। অনেক দেশের মতো বাংলাদেশও মানবসম্পদ ও উৎপাদনশীলতা হারানোর বাস্তব ঝুঁকিতে রয়েছে,” বলেন ইফফাত মাহমুদ, সিনিয়র অপারেশনস অফিসার, বিশ্বব্যাংক এবং প্রতিবেদনের সহ-লেখক। “তথ্যভিত্তিক নীতি ও লক্ষ্যভিত্তিক বিনিয়োগের মাধ্যমে অভিযোজন ব্যবস্থা উন্নত করলে মানুষের কল্যাণ ও জীবিকা রক্ষা করা সম্ভব, যা একটি সুস্থ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করবে।”
প্রতিবেদনটি মানুষ, জীবিকা ও অর্থনীতিকে ক্রমবর্ধমান তাপঝুঁকি থেকে রক্ষায় জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানিয়েছে। এতে জাতীয় প্রস্তুতি জোরদার করতে বহুখাতভিত্তিক পদ্ধতি গ্রহণ এবং তীব্র গরমজনিত রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে প্রস্তুত রাখার সুপারিশ করা হয়েছে। অভিযোজন ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা যেমন—শহরে সবুজ এলাকা তৈরি, সুনির্দিষ্ট ও নির্ভরযোগ্য আবহাওয়া ও স্বাস্থ্য তথ্য সংগ্রহ—ঝুঁকি কমাতে সহায়ক হবে। এছাড়া বৈশ্বিক উষ্ণতার প্রভাব মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সহায়তা এবং সরকারি-বেসরকারি অর্থায়নও অত্যন্ত জরুরি।
কে