দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপ ফাইনালে আর্জেন্টিনার হয়ে লাল কার্ড দেখার প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর প্রথমবারের মতো সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন মিডফিল্ডার এনজো ফার্নান্দেজ। তবে বহুল আলোচিত লাল কার্ডের ঘটনা নিয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে ম্যাচের দ্বিতীয়ার্ধে রেফারির সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ করায় প্রথম হলুদ কার্ড দেখেন চেলসি তারকা। পরে স্পেনের ডিফেন্ডার পাও কুবারসির ওপর বেপরোয়া ট্যাকলের কারণে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড পেয়ে মাঠ ছাড়তে বাধ্য হন।
ফার্নান্দেজের বিদায়ের পর অতিরিক্ত সময়ের পুরো ৩০ মিনিট ১০ জন নিয়ে খেলতে হয় আর্জেন্টিনাকে। সংখ্যাগত সুবিধা কাজে লাগিয়ে দ্বিতীয় অতিরিক্ত সময়ে ফেরান তোরেসের দুর্দান্ত ভলিতে একমাত্র গোলটি করে ১-০ ব্যবধানে বিশ্বকাপের শিরোপা জিতে নেয় স্পেন।
ফাইনালের আগে পুরো টুর্নামেন্টে আর্জেন্টিনার অন্যতম সেরা খেলোয়াড় ছিলেন ফার্নান্দেজ। তিনি মিশরের বিপক্ষে জয়সূচক গোল করেন এবং ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ২-১ ব্যবধানে জেতা ম্যাচে সমতাসূচক গোল করে দলকে ম্যাচে ফেরান।
ম্যাচের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া বার্তায় ফার্নান্দেজ লেখেন, "সময় যত যায়, ততই উপলব্ধি করি যে একটি ফলাফলের চেয়েও অনেক বড় কিছু রয়েছে। বহু বছর ধরে এই দলটি আমাদের সর্বোচ্চভাবে প্রতিনিধিত্ব করেছে। এটি আমাদের শিখিয়েছে যে প্রতিদ্বন্দ্বিতা শুধু জয় পাওয়ার বিষয় নয়; বরং জার্সির জন্য নিজের সর্বস্ব উজাড় করে দেওয়া এবং কখনো হাল না ছাড়া।"
তিনি আরও লেখেন, "এমন একটি দলের অংশ হতে পারা আমার জন্য গর্বের। যারা সব সময় নিজেদের সেরাটা দিয়েছে, সর্বোচ্চ পর্যায়ে লড়াই করেছে এবং গর্ব, বিনয় ও অঙ্গীকারের সঙ্গে এই জার্সির মর্যাদা রক্ষা করেছে। প্রতিটি ম্যাচে আমাদের পাশে থাকার জন্য এবং নিঃশর্ত সমর্থনের জন্য সব আর্জেন্টাইন সমর্থককে ধন্যবাদ।"
সবশেষে তিনি বলেন, "দেশের জার্সি গায়ে চাপানো আমার ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় সম্মান। ভবিষ্যতেও যখনই এই জার্সি পরে মাঠে নামার সুযোগ পাব, সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করব।"
বিশ্বকাপে সাত ম্যাচে দুটি গোল করেন ফার্নান্দেজ। ফাইনালে লাল কার্ড দেখার আগ পর্যন্ত কোচ লিওনেল স্কালোনির দলের হয়ে প্রতিটি ম্যাচের প্রতিটি মিনিট খেলেছিলেন তিনি।
তবে ফাইনালে তার পারফরম্যান্স ও লাল কার্ড নিয়ে সমালোচনার ঝড় উঠেছে। অনেক বিশ্লেষকের মতে, রেফারি স্লাভকো ভিনচিচের সঙ্গে অপ্রয়োজনীয় তর্ক করে প্রথম হলুদ কার্ড দেখা এবং পরে কুবারসির ওপর বিপজ্জনক ট্যাকল ম্যাচের অন্যতম টার্নিং পয়েন্ট ছিল। কেউ কেউ মনে করছেন, ওই ট্যাকলের জন্য তিনি সরাসরি লাল কার্ডও দেখতে পারতেন।
ম্যাচ শেষে আর্জেন্টিনার সংবাদমাধ্যমও তার কড়া সমালোচনা করেছে। লা নাসিওন ও ওলে তাকে ১০-এর মধ্যে ৪ এবং ক্লারিন ৫ রেটিং দিয়েছে। ক্লারিনের মূল্যায়নে বলা হয়েছে, “লাল কার্ড পাওয়ার মধ্য দিয়েই টুর্নামেন্টে তার সবচেয়ে বাজে পারফরম্যান্সের সমাপ্তি হয়েছে।”
এমএস/