দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

শাহবাগ মোড় থেকে একটু সামনে এগোলেই ব্যারিকেড, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র-ছাত্রী এবং গণমাধ্যমকর্মী বাদে জনসাধরণের প্রবেশ নিষেধ। অথচ সেখানেই ভিড় শত-শত মানুষের। সবারই একটাই দাবি — তারা টিএসসিতে খেলা দেখবেন জায়ান্ট স্কিনে। কিছু সময় আটকে রাখা গেলেও, মানুষের ঢল সামলানো কঠিন হয় পড়ে। একটা পযার্যে জনসাধরণের অনুমতি মেলে টিএসসি খেলা উপভোগ করার।
রাজু ভাস্কর্যের সামনে সাইরেন, ভুভুজেলার অনবরত শব্দ, বেলুন, পতাকা, জার্সি বিক্রেতাদের হাঁকডাক। টিএসসি রূপ নেয় এক উৎসবমুখর পরিবেশ। এটি অবশ্য নতুন কিছু নয়, গত প্রায় মাস ধরেই এখানে এমন পরিবেশের দেখা মিলেছে বিশ্বকাপের ম্যাচ ঘিরে।
আজকের আবহটা কিছুটা ভিন্ন। ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনাল বলে কথা। যেখানে বাবা-মায়ের সঙ্গে আছে তিন-চার বছরের শিশু, পঞ্চাশোর্ধ বৃদ্ধ। সবাই একসঙ্গে উপভোগ করবেন ফাইনাল। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ম্যাচ শুরু হতে ঘন্টা দেড়েক বাকি, কিন্তু দেশের ফুটবল সমর্থকদের এই উল্লাস শুরু হয়েছে তো সেই সন্ধা থেকেই।
রাজু ভাস্কর্যের ঠিক পশ্চিম পাশে রঙ-তুলি হাতে ব্যস্ত সময় পার করছেন মিরপুর থেকে আগত মোহাম্মদ অন্তর নামের এক ফেইস পেইন্টার। যদিও তিনি পড়ছেন মিরপুরের একটি পলিটেকনিকে। তবে আঁকাআকিটা শখের বশে করেন।
তাঁকে ঘিরেই সমর্থকদের ভিড়। কারও মুখে আঁকা চাই আর্জেন্টিনার পতাকার আলপনা, কারও চাই স্পেন। কেউ একে নিচ্ছেন প্রিয় তারকার ছবি। কারও চাই কেবল তারকার জার্সি নম্বর। কাজটা যে কেবল টাকার জন্যই করছেন তা নয়, সেটা কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে জানাও হয়ে গেল। কারও সঙ্গে দামাদামি করছেন না, তাঁর এক কথা— 'খুশি হয়ে যেটা দেবেন খুশি।'
অন্তরের সঙ্গে কথা হলে জানান, ক্যামেরার সামনে কথা বলতে ইতস্থবোধ করেন তিনি। জানালেন, 'আসলে আঁকাআকিটা আমার খুব শখের, তাই এটা করি। আর আনন্দের কথা কি বলব, আমি নিজেও একজন ফুটবল ভক্ত। বিশ্বকাপের এই আমেজে ঘরে বসে থাকতে পারিনি। মানুষকে একে দিয়ে আমি আনন্দ পাই।'
মানুষের ঢল রাজু ভাস্কর্য চত্তর ছাড়িয়ে পশ্চিম দিকে চলে আসে রোকেয়া হল পর্যন্ত। নীলক্ষেতগামী এই রাস্তায় মানুষের আসা-যাওয়া ছিল উল্লেখ করার মতোই। খেলা বাকি মাত্র ঘন্টা দেড়েক, এই শেষ সময়েও আর্জেন্টিনার জার্সি বিক্রি চলছে পুরোদমে। একটা অনলাইন পেজে জার্সি, টিশার্ট বিক্রি করেন সৈকত। শেষ সময়েও রোকেয়া হলের সামনের কোনায় দাড়িয়ে ৩০০ ও ৬০০ টাকায় একদরে বিক্রি করছেন আর্জেন্টিনার জার্সি। জানতে বলেন বেচাবিক্রি মন্দ হচ্ছে না।
কে