দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রথমার্ধে একের পর এক ফাউল আর কদর্য ফুটবল খেলে সার্বিকভাবে ইংল্যান্ডের চেয়ে পিছিয়েই রইল আর্জেন্টিনা। দ্বিতীয়ার্ধেও একই ধারা বজায় থাকলে দশ মিনিটের মধ্যে গোল করে এগিয়ে গেল ইংল্যান্ড। সেখান থেকেই যেন আর্জেন্টিনার টনক নড়ে।
ম্যাচের বাকি সময়ে আর ইংল্যান্ডকে কোনো সুযোগই দিল না আলবিসেলেস্তেরা। গোল হজমের পর রীতিমতো ধ্রুপদী ফুটবল খেলেই কামব্যাকের গল্প লিখলেন লিওনেল মেসি, এনজো ফার্নান্দেজ, লাউতারো মার্তিনেজরা। যার সৌজন্যে পেয়ে গেলেন ফাইনালের টিকিট।
আর্জেন্টিনার এমন পারফরম্যান্সের পর তাই যেন হতবাক ইংল্যান্ডের কোচ টমাস টুখেল। তার মতে, দুই ভাগে ভাগ হয়ে গেছে ম্যাচ। যেখানে ইংল্যান্ডের গোলের আগপর্যন্ত ছিল একরকম আর তাদের গোলের পর হয়ে গেছে অন্যরকম।
অথচ ম্যাচের ৮৪ মিনিট পর্যন্ত ১-০ গোলের ব্যবধানে এগিয়ে ছিল ইংল্যান্ড। ম্যাড়ম্যাড়ে প্রথমার্ধের পর ৫৫ মিনিটে অ্যান্থনি গর্ডনের গোলে লিড নেয় তারা। এরপরই শুরু হয় আর্জেন্টিনার জাদু। দাপুটে ফুটবল খেলে প্রথমে ৮৫ মিনিটে সমতা ফেরান এনজো।
পরে নির্ধারিত ৯০ মিনিট শেষে ইনজুরি টাইমের দ্বিতীয় মিনিটে মেসির মাপা ক্রসে চমৎকার হেডে বল জালে জড়িয়ে আর্জেন্টিনার জয় নিশ্চিত করেন লাউতারো। ম্যাচ শেষে নিজেদের গোলের পরই গতি বদলে যাওয়ার কথা স্বীকার করেন টুখেল।
“আমার মনে হয়, ম্যাচের সেই পর্যায়ে (গর্ডনের গোলের মুহূর্ত) ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যাওয়াটা আমাদের প্রাপ্য ছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্যবশত এবং অদ্ভুতভাবে, সেই মুহূর্তটিই ম্যাচে গতির পুরোপুরি উল্টো দিকে মোড় ঘুরিয়ে দেয়।”
এসময় ইংল্যান্ড কোচ বলেন, মুলত ইংল্যান্ডের গোলের আগে ও পরে যেন ভিন্ন দুই ম্যাচ খেলেছে আর্জেন্টিনা। আর্জেন্টিনা তখন আরও ঝুঁকি নিয়ে খেলেছিল, আরও ছন্দে খেলেছিল; সম্ভবত তারা এমন এক অনুভূতি নিয়ে খেলছিল যে হারানোর আর কিছুই নেই। এই মানসিকতাই তাদের মুক্ত করে দিয়েছিল ও আমাদের পিছু টেনে ধরেছিল। কারণ হঠাৎ করেই এমন এক অনুভূতি নিয়ে খেলছিলাম যে আমাদের অনেক কিছু হারানোর আছে। আমার মনে হয়, গোলটির আগের অংশ এবং পরের অংশ- ম্যাচটি যেন দুটি সম্পূর্ণ ভিন্ন ম্যাচে পরিণত হয়েছিল।
কোচ বলেন, ম্যাচে ইংল্যান্ডের পরাজয়ের পর কাঠগড়ায় তোলা হচ্ছে টুখেলকেই। একমাত্র গোল করা অ্যান্থনি গর্ডন বা মাঝমাঠের চালিকাশক্তি ডেক্লান রাইসকে তুলে নেওয়ায় সমালোচনার মুখে পড়েছেন ইংল্যান্ডের এই জার্মান কোচ। তবে এসব আলোচনায় কান দিচ্ছেন না টুখেল। খেলার ধরনই এমন। হারলেই আপনি সমালোচনার মুখে পড়বেন। বিষয়টা এমনই। হারের পর সবাই সমালোচনা করবে। ভিন্ন সিদ্ধান্ত নিলে কী হতো, তা তো কেউ জানে না। তাই এসব নিয়ে মাথা ঘামিয়ে নিজের শান্ত থাকা নষ্ট করার কোনো মানে হয় না। আমিই সিদ্ধান্তগুলো নিয়েছি, তাই এর দায়িত্ব আমার এবং আমি সেই সমালোচনা মাথা পেতে নিচ্ছি।
কে