দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে এবার পুরোনো প্রতিদ্বন্দ্বী আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হচ্ছে ইংল্যান্ড। দীর্ঘ ৬০ বছরের শিরোপা খরা কাটানোর স্বপ্নে এগিয়ে চলা টমাস টুখেলের দলের জন্য এটি হতে যাচ্ছে সবচেয়ে বড় পরীক্ষা।
নরওয়ের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ে ২-১ গোলের জয় তুলে শেষ চারে জায়গা করে নেওয়ার পর ইংল্যান্ডের সামনে এসেছে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা। দুই দলের এই লড়াই বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার নতুন অধ্যায় তৈরি করতে যাচ্ছে।
ইংল্যান্ড শেষ তিন বিশ্বকাপের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো সেমিফাইনালে উঠেছে। ২০১৮ সালের রাশিয়া বিশ্বকাপে অতিরিক্ত সময়ে ক্রোয়েশিয়ার কাছে হেরে শেষ চারে থেমে গিয়েছিল তাদের যাত্রা। একমাত্র ১৯৬৬ সালে নিজেদের মাটিতে বিশ্বকাপ ফাইনালে উঠে শিরোপা জিতেছিল ইংল্যান্ড।
এবার টুখেলের দল তারকা খেলোয়াড়দের দক্ষতা ও লড়াকু মানসিকতার ওপর ভর করে এগিয়ে যাচ্ছে। নকআউট পর্বে দুইবার পিছিয়ে পড়েও ঘুরে দাঁড়িয়ে জয় তুলে নিয়েছে তারা।
টুখেল বলেন, ‘তারা কখনো হাল ছাড়ে না। পরাজয় মেনে নিতে চায় না। তারা প্রতিকূলতা কাটিয়ে ওঠে এবং নিজেদের উজাড় করে দেয়।’
তবে সাফল্যে আত্মতুষ্ট না হয়ে আরও ভালো ফুটবল খেলার প্রয়োজন রয়েছে বলেও মনে করেন ইংল্যান্ড কোচ। তার মতে, কঠিন পরিস্থিতি থেকে জয়ের পথ বের করা বড় অর্জন হলেও দলের আরও উন্নতির সুযোগ রয়েছে।
ইংল্যান্ডের সাফল্যের পেছনে বড় ভূমিকা রাখছেন অধিনায়ক হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যাম। এবারের বিশ্বকাপে দুজনই ছয়টি করে গোল করেছেন। বিশ্বকাপ ইতিহাসে একই দলের দুই সতীর্থের ছয়টি করে গোল করার ঘটনা এটিই প্রথম।
বিশেষ করে বেলিংহ্যাম দুর্দান্ত ফর্মে রয়েছেন। শেষ দুই ম্যাচে চার গোল করেছেন রিয়াল মাদ্রিদের এই তারকা। টুখেল তার পারফরম্যান্সকে ‘বিশ্বমানের খেলোয়াড়ের বড় মুহূর্তে বিশ্বমানের পারফরম্যান্স’ বলে প্রশংসা করেছেন।
তবে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচের আগে ইংল্যান্ডের জন্য অতীত ইতিহাসও বড় চ্যালেঞ্জ। বিশ্বকাপে দুই দল এর আগে পাঁচবার মুখোমুখি হয়েছে। ১৯৬২ ও ১৯৬৬ সালে জয় পেয়েছিল ইংল্যান্ড। এরপর ১৯৮৬ সালে দিয়েগো ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোল ও অসাধারণ একক নৈপুণ্যে আর্জেন্টিনা জয় পায়। ১৯৯৮ সালের শেষ ষোলোতে টাইব্রেকারে আর্জেন্টিনা জিতেছিল। ২০০২ বিশ্বকাপে ডেভিড বেকহ্যামের গোলে ইংল্যান্ড জয় পেয়েছিল।
বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার বিপক্ষে এবার আরও একটি কঠিন পরীক্ষার সামনে ইংল্যান্ড। লিওনেল স্কালোনির দলের বিপক্ষে জয় পেলে ২০২৬ সালের বিশ্বকাপ ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করবে তারা।
টুখেল বলেন, বিশ্বকাপের মতো বড় টুর্নামেন্টের আবেগ ও চাপ ক্লাব ফুটবলের চেয়ে সম্পূর্ণ আলাদা। তবে এমন মুহূর্তেই নিজেকে সবচেয়ে বেশি জীবন্ত মনে করেন তিনি।
হ্যারি কেইন ও জুড বেলিংহ্যামের নেতৃত্বে আত্মবিশ্বাসী ইংল্যান্ড এখন স্বপ্ন দেখছে—আরেকটি জয় তাদের নিয়ে যেতে পারে ১৯৬৬ সালের পর দ্বিতীয় বিশ্বকাপ ফাইনালের পথে।
সূত্র: রয়টার্স
/অ