দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চলতি বিশ্বকাপে ফ্রান্সকে অন্যতম শক্তিশালী দল হিসেবে দেখা হচ্ছে। দুর্দান্ত আক্রমণভাগ, ধারাবাহিক জয় এবং কিলিয়ান এমবাপ্পের দুর্দান্ত ফর্মের কারণে দিদিয়ে দেশমের দলকে শিরোপার প্রধান দাবিদার মনে করছেন অনেক ফুটবল বিশ্লেষক। তবে বিবিসির বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, অপরাজেয় নয় ফ্রান্স; নির্দিষ্ট পরিকল্পনা থাকলে তাদের হারানো সম্ভব।
বিশ্বকাপে এখন পর্যন্ত পাঁচ ম্যাচ খেলে পাঁচটিতেই জয় পেয়েছে ফ্রান্স। করেছে ১৪ গোল, হজম করেছে মাত্র দুটি। কেবল এক ম্যাচে তারা তিন বা তার বেশি গোল করতে পারেনি। এমবাপ্পের পাশাপাশি মাইকেল ওলিসে, উসমান দেম্বেলে ও ব্র্যাডলি বারকোলার আক্রমণভাগ প্রতিপক্ষের জন্য বড় হুমকি হয়ে উঠেছে।
বিবিসির ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, ফ্রান্সের শক্তি অনেক হলেও তাদের কিছু দুর্বলতাও রয়েছে।
বিবিসি রেডিও ফাইভ লাইভের জ্যেষ্ঠ ফুটবল প্রতিবেদক ইয়ান ডেনিস মনে করেন, ফ্রান্সের চেয়ে স্পেন এই মুহূর্তে বেশি নিয়ন্ত্রিত দল। তার মতে, স্পেনের রক্ষণভাগ আরও দৃঢ় এবং তারা প্রতিপক্ষকে খুব বেশি সুযোগ দেয় না। ফ্রান্সের বিপক্ষে সেনেগাল ও নরওয়ে কিছু সময় ভালো সুযোগ তৈরি করেছিল বলেও তিনি উল্লেখ করেন। তার বিশ্বাস, মরক্কোও ফ্রান্সকে সমস্যায় ফেলতে পারে।
বিবিসি স্পোর্টসের প্রধান ফুটবল লেখক ফিল ম্যাকনাল্টি বলেন, আক্রমণভাগের কারণে ফ্রান্স এখন পর্যন্ত বিশ্বকাপের সবচেয়ে প্রভাবশালী দলগুলোর একটি। তবে তাদের হারানো অসম্ভব নয়। সম্ভাব্য সেমিফাইনালে ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে তাদের বড় পরীক্ষার মুখোমুখি হতে হবে বলে মনে করেন তিনি।
ফিল ম্যাকনাল্টির মতে, স্পেন দীর্ঘ ৩৫ ম্যাচ ধরে অপরাজিত রয়েছে এবং কঠিন পরিস্থিতিতেও জয়ের পথ খুঁজে নিতে জানে। তাই ফ্রান্সের বিপক্ষে তারাও আত্মবিশ্বাসী থাকবে।
বিবিসির সাংবাদিক এলিজাবেথ কনওয়ের মতে, স্পেনের ফ্রান্সকে হারানোর যথেষ্ট সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি বলেন, স্পেনের শক্তি হলো তাদের সুসংগঠিত কৌশল। তরুণ পাও কুবারসি ও অভিজ্ঞ আইমেরিক লাপোর্তের রক্ষণ জুটি এখনো দলকে গোল হজম করতে দেয়নি।
তিনি আরও বলেন, মাঝমাঠে রদ্রি ও পেদ্রি খেলার গতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারেন এবং অতীতের দুই ম্যাচেও স্পেন ফ্রান্সকে হারিয়েছে।
বিবিসির ধারাভাষ্যকার জন মারে মনে করেন, ইতিহাসে অনেক আক্রমণাত্মক ও আকর্ষণীয় ফুটবল খেলা দল বিশ্বকাপে শেষ পর্যন্ত সফল হতে পারেনি। তাই ফ্রান্স যতই শক্তিশালী হোক, তাদের পথেও বাধা আসতে পারে।
অন্যদিকে বিবিসির সাংবাদিক নিল জনস্টনের মতে, ফ্রান্সের সবচেয়ে বড় ভয়ের বিষয় প্রতিপক্ষ নয়, বরং তাদের নিজেদের আরও ভালো করার সামর্থ্য। তার মতে, এখনো বিশ্বকাপে ফ্রান্সের সেরা রূপ দেখা যায়নি।
তবে ইংল্যান্ডের প্রতিবেদক অ্যালেক্স হাওয়েল মনে করেন, শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডই ফ্রান্সকে থামাতে পারে। তার মতে, ইংল্যান্ডের মাঝমাঠে ডেকলান রাইস, এলিয়ট অ্যান্ডারসন ও জুড বেলিংহামের শারীরিক সক্ষমতা ফ্রান্সের বিপক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের জন বেনেট মনে করেন, ফ্রান্সের আক্রমণাত্মক শক্তিই কখনো কখনো দুর্বলতায় পরিণত হতে পারে। বিশেষ করে মাইকেল ওলিসে আক্রমণে বেশি মনোযোগী থাকলে মাঝমাঠে প্রতিপক্ষ সুযোগ নিতে পারে।
এদিকে মরক্কোকেও হালকাভাবে দেখছেন না বিশেষজ্ঞরা। বিবিসির গ্যারি রোজ বলেন, মরক্কো চার বছর আগে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছিল এবং বর্তমান দল আরও শক্তিশালী হয়েছে। তাদের রক্ষণভাগ দৃঢ় এবং প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার ক্ষমতা রয়েছে।
ফ্রান্স-মরক্কো কোয়ার্টার ফাইনালের আগে তাই প্রশ্ন একটাই—ফ্রান্স কি সত্যিই অপ্রতিরোধ্য, নাকি সঠিক কৌশলে তাদের থামানো সম্ভব? উত্তর মিলবে মাঠের লড়াইয়ে।
তথ্যসূত্র: বিবিসি
/অ