দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিল ও নরওয়ের লড়াই ঘিরে তৈরি হয়েছে বাড়তি উত্তেজনা, কারণ এটি শুধু দুই দলের লড়াই নয়—এটি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে জমে ওঠা আর্লিং হালান্ড ও গ্যাব্রিয়েলের ব্যক্তিগত দ্বৈরথের বৈশ্বিক রূপ।
রোববার নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে মুখোমুখি হবে ব্রাজিল ও নরওয়ে। এই ম্যাচে নরওয়ের ম্যানচেস্টার সিটি তারকা হালান্ড এবং ব্রাজিলের আর্সেনাল ডিফেন্ডার গ্যাব্রিয়েলের মুখোমুখি লড়াই আলাদা করে নজর কাড়ছে বিশ্ব ফুটবলের।
দুই খেলোয়াড়ের মধ্যে উত্তেজনার সম্পর্ক বহুদিন ধরেই আলোচনায়। সাবেক ইংল্যান্ড স্ট্রাইকার ক্রিস সাটন বলেন, ‘বিশ্ব ফুটবলে বড় তারকাদের মধ্যে ব্যক্তিগত দ্বৈরথ খুব বেশি দেখা যায় না। এবার আমাদের কাছে সেটিই আছে। এটি এবারের বিশ্বকাপের সবচেয়ে বড় ব্যক্তিগত লড়াই।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই লড়াই ম্যাচের ফল নির্ধারণে বড় প্রভাব ফেলতে পারে। দুইজনের মধ্যে যে বিরোধ রয়েছে, সেটি তাদের আচরণেই স্পষ্ট।’
সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান শিয়েরারও এই প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে উচ্ছ্বসিত। তার ভাষায়, ‘তাদের মধ্যে স্পষ্টই কিছুটা উত্তেজনা আছে। তারা একে অপরকে পছন্দ করে না—এটাই এই লড়াইকে আকর্ষণীয় করে তুলেছে।’
এই দ্বৈরথের শুরু ২০২৪ সালের ২২ সেপ্টেম্বর, ম্যানচেস্টার সিটি ও আর্সেনালের ম্যাচ থেকে। সেই ম্যাচে যোগ করা সময়ে জোড়া গোলের পর হালান্ড বল উদ্ধার করে গ্যাব্রিয়েলের মাথার পেছনে জোরে ছুড়ে মারেন, যিনি তখন হতাশায় নিজের জার্সি দিয়ে বল ঢেকে রেখেছিলেন।
ম্যাচ শেষে হালান্ড আর্সেনাল কোচ মিকেল আর্তেতার দিকে তাকিয়ে ‘স্টে হিউমল’ মন্তব্য করেন, যা পরবর্তীতে বিশ্বজুড়ে আলোচনার জন্ম দেয়।
হালান্ড পরবর্তীতে বলেন, ‘ফুটবল মাঠে যা ঘটে, সেখানেই থাকে। এটি একটি যুদ্ধের মতো ম্যাচ। তাই এমন ঘটনা স্বাভাবিক।’
এরপর ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে আর্সেনাল ৫-১ ব্যবধানে ম্যানচেস্টার সিটিকে হারালে গ্যাব্রিয়েল হালান্ডের সামনে গিয়ে গোল উদযাপন করে প্রতিশোধ নেন। সেই ম্যাচে গোলের পর তিনি সরাসরি হালান্ডের সামনে গিয়ে চিৎকার করেন।
গ্যাব্রিয়েল পরে স্বীকার করেন, ‘সে আমাকে উসকানি দিয়েছিল, তাই আমিও একইভাবে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছি।’
এর কিছুদিন পর এপ্রিলের ম্যাচে সিটির ২-১ জয়ে জয়সূচক গোল করার পর হালান্ড ক্যামেরার সামনে গানের অংশ গেয়ে উদযাপন করেন। সেই ম্যাচেও দুইজনের মধ্যে উত্তেজনা ছড়ায়, এমনকি গ্যাব্রিয়েল হালান্ডের দিকে মাথা দিয়ে আঘাত করার চেষ্টা করেন, যদিও তিনি কার্ড এড়ান।
পরবর্তীতে ২০২৫ সালের মে মাসে আর্সেনাল লিগ শিরোপা জয়ের পর গ্যাব্রিয়েল সোশ্যাল মিডিয়ায় হালান্ডকে উদ্দেশ্য করে একই গান ব্যবহার করে উদযাপন করেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ক্লাব পর্যায়ে ১১ ম্যাচে হালান্ড ৬ গোল করেছেন গ্যাব্রিয়েলের বিপক্ষে। ম্যানচেস্টার সিটি জিতেছে ৫টি ম্যাচ, আর্সেনাল জিতেছে ২টি, আর ৪টি ম্যাচ ড্র হয়েছে।
এবার বিশ্বকাপে নরওয়ের হয়ে দুর্দান্ত ফর্মে আছেন হালান্ড, যিনি এখন পর্যন্ত ৫ গোল করেছেন এবং গোল্ডেন বুট দৌড়ে আছেন। অন্যদিকে ব্রাজিলের রক্ষণভাগের মূল ভরসা গ্যাব্রিয়েল।
ফুটবল বিশ্লেষকদের মতে, এই ব্যক্তিগত দ্বৈরথই ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে। এখন অপেক্ষা নিউইয়র্ক নিউ জার্সি স্টেডিয়ামে আরেকটি উত্তপ্ত অধ্যায়ের—যেখানে একটি ম্যাচ নয়, লড়াই হবে ব্যক্তিগত অহংকারেরও।
সূত্র: বিবিসি
/অ