দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপে প্রত্যাশার সঙ্গে বাস্তবতার ব্যবধান ছিল আকাশ-পাতাল। এশিয়ার অন্যতম সফল ফুটবল শক্তি হিসেবে যে দক্ষিণ কোরিয়াকে নিয়ে সমর্থকদের স্বপ্ন ছিল বড় কিছু করার, সেই দলই গ্রুপ পর্বের গণ্ডি পেরোতে ব্যর্থ হয়েছে। আর সেই ব্যর্থতার পর দেশজুড়ে শুরু হয়েছে তীব্র সমালোচনা, যার কেন্দ্রবিন্দুতে জাতীয় দলের প্রধান কোচ হং মিউং-বো।
মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার কাছে টানা দুই পরাজয়ে ‘এ’ গ্রুপে তৃতীয় স্থানে থেকেই বিশ্বকাপ শেষ করতে হয়েছে কোরিয়ানদের। ফলে সেরা তৃতীয় স্থানধারী দলগুলোর তালিকায় জায়গা করে নেওয়ার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে যায়।
দলের এমন হতাশাজনক পারফরম্যান্সের পর সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি জানান, এই বিদায়ে তিনি শুধু বিস্মিত নন, পুরোপুরি হতভম্ব। একই সঙ্গে দল নির্বাচন ও কোচ নিয়োগে স্বজনপ্রীতির অভিযোগ তুলে পুরো প্রক্রিয়ার তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।
প্রেসিডেন্টের ভাষ্য, যোগ্যতার বদলে ব্যক্তিগত সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দিয়ে নেতৃত্ব নির্বাচন করা হলে তার ফল কখনোই ইতিবাচক হতে পারে না। তাঁর মতে, জাতীয় দলের সাম্প্রতিক ব্যর্থতা সেই বাস্তবতারই প্রতিফলন।
এই ঘটনার পুঙ্খানুপুঙ্খ তদন্তের জন্য সংস্কৃতি, ক্রীড়া ও পর্যটন মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট লি। পাশাপাশি ভবিষ্যতে যেন এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সে জন্য দল গঠন ও পরিচালনা ব্যবস্থার দুর্বলতাগুলো চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সংস্কারেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
হং মিউং-বোকে দ্বিতীয় মেয়াদে জাতীয় দলের দায়িত্ব দেওয়ার পর থেকেই নিয়োগ প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন উঠেছিল দেশটির গণমাধ্যমে। অভিযোগ ছিল, পুরো প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতার অভাব ছিল এবং স্বজনপ্রীতি প্রভাব ফেলেছে। যদিও শুরু থেকেই এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছিলেন এই সাবেক অধিনায়ক।
বিশ্বকাপ ব্যর্থতার পর সেই বিতর্ক আরও তীব্র হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার কোচকে বরখাস্তের দাবিতে দক্ষিণ কোরিয়ার জাতীয় সংসদের ওয়েবসাইটে একটি গণস্বাক্ষর অভিযান শুরু হয়। অল্প সময়েই প্রয়োজনীয় সমর্থন পেয়ে যায় সেই আবেদন। একই সময়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ে। বিভিন্ন দোকান ও প্রতিষ্ঠানের সামনে ‘কোচ হংয়ের প্রবেশ নিষেধ’ লেখা পোস্টার ও সাইনবোর্ড টাঙানোর ছবিও ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়ে।
দেশজুড়ে সৃষ্টি হওয়া এই প্রতিক্রিয়া স্পষ্ট করে দিচ্ছে, দক্ষিণ কোরিয়ার ফুটবলপ্রেমীরা শুধু বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নয়, দল পরিচালনার পুরো কাঠামো নিয়েই এখন নতুন করে প্রশ্ন তুলতে শুরু করেছেন।
কেএম