দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্বকাপে ইরানের প্রথম ম্যাচকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলেসে বিক্ষোভ ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। একদিকে কেউ জাতীয় দলকে সমর্থন জানাতে মাঠে এসেছেন, অন্যদিকে অনেকে ইরান সরকারের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে স্টেডিয়ামের বাইরে জড়ো হয়েছেন।
সোমবার (১৫ জুন) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় ‘জি’ গ্রুপে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে মাঠে নামার আগে লস অ্যাঞ্জেলেসের স্টেডিয়ামে ভিড় করতে শুরু করেন ইরানি বংশোদ্ভূত সমর্থকেরা। এর কয়েক ঘণ্টা আগেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে একটি সমঝোতার ঘোষণা আসে।
লস অ্যাঞ্জেলেসে ইরানের বাইরে সবচেয়ে বড় ইরানি সম্প্রদায়ের বসবাস। ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের পর দেশ ছেড়ে আসা বহু মানুষ সেখানে স্থায়ী হয়েছেন। ফলে জাতীয় দলের বিশ্বকাপ অংশগ্রহণকে ঘিরে সম্প্রদায়টির মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
স্থানীয় সময় বিকেল ৪টার দিকে স্টেডিয়ামের বাইরে প্রায় ৩০০ থেকে ৫০০ বিক্ষোভকারী জড়ো হন। তারা সরকারবিরোধী প্ল্যাকার্ড ও পতাকা প্রদর্শন করেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ মনে করেন, ম্যাচে উপস্থিত হওয়া মানেই ইরান সরকারের প্রতি সমর্থন দেখানো।
আবার অনেক সমর্থক জানান, তারা মাঠে গিয়ে প্রতিবাদের প্রতীক বহনের চেষ্টা করবেন। এর মধ্যে রয়েছে বিপ্লব-পূর্ব ইরানের পতাকা, যা বর্তমান জাতীয় পতাকার মতো একই রঙের হলেও এতে সিংহ ও সূর্যের ভিন্ন প্রতীক রয়েছে।
ইরান আগে সতর্ক করে জানিয়েছিল, অনানুষ্ঠানিক পতাকা প্রদর্শন বা স্লোগান দেওয়া হলে তারা ম্যাচ বর্জনের মতো পদক্ষেপ বিবেচনা করতে পারে।
এ বিষয়ে আন্তর্জাতিক ফুটবল নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফিফা জানিয়েছে, রাজনৈতিক বার্তাবাহী পতাকা বা পোশাকের অনুমতি নেই। তবে ইরানের বিপ্লব-পূর্ব পতাকা নিয়ে তারা কোনো নির্দিষ্ট মন্তব্য করেনি।
সংবাদ সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অনেক সমর্থককে ওই পতাকা বহন কিংবা তার প্রতীকযুক্ত পোশাক পরে নিরাপত্তা তল্লাশি পার হতে দেখা গেছে।
৪২ বছর বয়সী কামরন নামের এক ব্যক্তি বলেন, ‘আমি ম্যাচে এসেছি, কিন্তু ইরানকে সমর্থন করতে নয়। বরং আমি ইরানের বিপক্ষে দুয়ো দেব।’
অন্যদিকে অনেক সমর্থক সরকারি জাতীয় পতাকা জড়িয়ে মাঠে আসেন। তাদের অভিযোগ, বিক্ষোভকারীদের কাছ থেকে বিদ্রূপের শিকার হতে হয়েছে। তারা রাজনীতি ভুলে শুধু ফুটবলের দিকে মনোযোগ দিতে চান।
৫৭ বছর বয়সী মেহদি জাফারি বলেন, ‘আমি ইরানকে সমর্থন করতে এসেছি। আমরা এই ম্যাচ জিতব। আমরা আমাদের দেশ নিয়ে গর্বিত। রাজনীতি ভুলে সবাইকে জাতীয় দলকে সমর্থন করা উচিত।’
ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে এবারের বিশ্বকাপে ইরানের অংশগ্রহণ শুরু থেকেই বিতর্কের মধ্যে রয়েছে। এর আগে জানুয়ারিতে দেশটিতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে সহিংস অভিযানে হাজারো মানুষ নিহত হওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরান দল তাদের প্রস্তুতি শিবির অ্যারিজোনা থেকে মেক্সিকোতে সরিয়ে নেয়। একই সঙ্গে ইরান ফুটবল ফেডারেশন অভিযোগ করে, তাদের সব কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা পাননি এবং সমর্থকদের জন্য বরাদ্দ কিছু টিকিটও বাতিল করা হয়েছে।
এমন পরিস্থিতির মধ্যেই নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করেছে ইরান। তবে মাঠের লড়াইয়ের পাশাপাশি মাঠের বাইরের রাজনৈতিক বাস্তবতাও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
/অ