দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ইংল্যান্ড, নাইজেরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্র—তিন দেশের মধ্য থেকে জাতীয় দল বেছে নেওয়ার সুযোগ ছিল ফোলারিন বালোগুনের সামনে। শেষ পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্রের জার্সি গায়ে তোলার সিদ্ধান্ত নেওয়া এই ফরোয়ার্ড বিশ্বকাপে নিজের অভিষেক ম্যাচেই ইতিহাস গড়েছেন।
শনিবার ভোরে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে জোড়া গোল করে যুক্তরাষ্ট্রকে ৪-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন বালোগুন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো কোনো ম্যাচে চার গোল করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
এর আগে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে চার ম্যাচ মিলিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের মোট গোল ছিল মাত্র তিনটি। এছাড়া বিশ্বকাপের কোনো ম্যাচে এর আগে কখনো তিন গোলের বেশি করতে পারেনি মার্কিনরা।
বিশ্বকাপের আয়োজকদের বড় জয়ের দিনে সবচেয়ে বেশি আলো কেড়েছেন ২৪ বছর বয়সী স্ট্রাইকার বালোগুন। ক্যালিফোর্নিয়ার সোফি স্টেডিয়ামে ৭০ হাজার ৪৯২ দর্শকের সামনে দুর্দান্ত পারফরম্যান্স উপহার দেন তিনি।
নিউইয়র্কের ব্রুকলিনে নাইজেরীয় বাবা-মায়ের ঘরে জন্ম নেওয়া বালোগুন জন্মের এক মাস পর পরিবারের সঙ্গে ইংল্যান্ডে চলে যান। লন্ডনে বেড়ে ওঠা এই ফুটবলার মাত্র আট বছর বয়সে আর্সেনালের একাডেমিতে যোগ দেন।
তিনি ইংল্যান্ডের বিভিন্ন বয়সভিত্তিক দলের হয়ে খেলেছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের অনূর্ধ্ব-১৮ দলেও প্রতিনিধিত্ব করেছেন। তবে জাতীয় দলের পর্যায়ে যুক্তরাষ্ট্রকেই বেছে নেন তিনি।
ইংল্যান্ড জাতীয় দলে তারকাদের তীব্র প্রতিযোগিতা এবং নাইজেরিয়ার এবারের বিশ্বকাপে জায়গা না পাওয়াও তার সিদ্ধান্তে ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করা হয়।
প্যারাগুয়ের বিপক্ষে ম্যাচে অধিনায়ক ক্রিস্টিয়ান পুলিসিচের পাস থেকে প্রথম গোল করেন বালোগুন। প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে বক্সের ভেতর থেকে নেওয়া দারুণ এক শটে নিজের দ্বিতীয় গোলও করেন তিনি।
হ্যাটট্রিকের সম্ভাবনাও জাগিয়েছিলেন এই ফরোয়ার্ড। তবে তার আরেকটি গোল অফসাইডের কারণে বাতিল হয়।
এই জোড়া গোলের মাধ্যমে বালোগুন ইতিহাসে নাম লেখান। ১৯৩০ সালের পর প্রথম মার্কিন ফুটবলার হিসেবে বিশ্বকাপের এক ম্যাচে একাধিক গোল করলেন তিনি।
এর আগে ১৯৩০ সালের বিশ্বকাপের উদ্বোধনী আসরে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের ৩-০ ব্যবধানের জয়ে হ্যাটট্রিক করেছিলেন বার্ট প্যাটেনাউড। সেটিই ছিল বিশ্বকাপ ইতিহাসের প্রথম হ্যাটট্রিক।
এমএস/