দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চার বছর আগে কাতারের লুসাইল স্টেডিয়ামে বিশ্বকাপ জিতে ইতিহাস গড়েছিল আর্জেন্টিনা। এবার লিওনেল মেসির দল আবারও ফাইনালে উঠে টানা দ্বিতীয়বার শিরোপা জয়ের সুযোগ পেয়েছে। সফল হলে ইতালি ও ব্রাজিলের পর তৃতীয় দেশ হিসেবে পরপর দুটি বিশ্বকাপ জয়ের কীর্তি গড়বে তারা। সর্বশেষ ১৯৬২ সালে এই অর্জন করেছিল ব্রাজিল।
তবে ফাইনালের আগে বিশ্লেষকদের বড় অংশই এগিয়ে রাখছেন ইউরোপের চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে। পুরো টুর্নামেন্টে মাত্র একটি গোল হজম করা দলটি সেমিফাইনালে ফ্রান্সকে ২-০ গোলে হারিয়ে নিজেদের শক্তিমত্তার প্রমাণ দিয়েছে।
অন্যদিকে আর্জেন্টিনার ফাইনালে ওঠার পথ ছিল কঠিন। কেপ ভার্দে ও সুইজারল্যান্ডের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময় পর্যন্ত খেলতে হয়েছে তাদের। মিসরের বিপক্ষে দুই গোলে পিছিয়ে থেকেও জয় তুলে নিয়েছে লিওনেল স্কালোনির দল। আর সেমিফাইনালে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ৮৫ মিনিট পর্যন্ত পিছিয়ে থাকার পর শেষ দিকে দুটি গোল করে নাটকীয়ভাবে নিশ্চিত করেছে ফাইনালের টিকিট।
আল জাজিরার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শিরোপা ধরে রাখতে আর্জেন্টিনাকে বিশেষভাবে সফল হতে হবে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ দিক সামলাতে।
প্রথমত, স্পেনের মাঝমাঠের নিয়ন্ত্রণ ভাঙতে হবে। রদ্রি, ফাবিয়ান রুইস ও দানি ওলমোর সমন্বয়ই স্পেনের খেলার মূল শক্তি। এনজো ফার্নান্দেজ, অ্যালেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও লিয়ান্দ্রো পারেদেসকে মাঝমাঠের জায়গা সংকুচিত রেখে রদ্রিকে স্বাভাবিকভাবে বল গ্রহণের সুযোগ না দেওয়াই হবে আর্জেন্টিনার প্রধান লক্ষ্য।
দ্বিতীয়ত, মেসিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে। এই বিশ্বকাপে আট গোল ও চারটি গোলে সহায়তা করা অধিনায়ককে শুধু বল দিলেই হবে না, সামনে ও দুই পাশে সতীর্থদের নিয়মিত দৌড়ে স্পেনের রক্ষণে ফাঁকা জায়গা তৈরি করতে হবে। মেসি নিচে নেমে বল নিলে ফরোয়ার্ডদের একজনকে তার কাছাকাছি থাকতে হবে, যাতে স্পেন একাধিক খেলোয়াড় দিয়ে তাকে ঘিরে ফেলতে না পারে।
তৃতীয়ত, স্পেনের আক্রমণাত্মক ফুলব্যাকদের রেখে যাওয়া ফাঁকা জায়গা কাজে লাগাতে হবে। পেদ্রো পোরো ও মার্ক কুকুরেইয়া আক্রমণে উঠে আসায় পাল্টা আক্রমণের সুযোগ তৈরি হতে পারে। বল কেড়ে দ্রুত মেসি বা ম্যাক অ্যালিস্টারের কাছে পৌঁছাতে পারলে সেই ফাঁকা জায়গায় আঘাত হানার সুযোগ পাবে আর্জেন্টিনা।
চতুর্থ চ্যালেঞ্জ হবে লামিনে ইয়ামালকে নিয়ন্ত্রণে রাখা। বাঁ পায়ে ভেতরে ঢুকে আক্রমণ সাজানোর দক্ষতা রয়েছে স্পেনের এই তরুণ তারকার। তাই আর্জেন্টিনার বাঁ প্রান্তের ডিফেন্ডারকে একা না রেখে প্রয়োজনে একজন মিডফিল্ডারের সহায়তা দিতে হতে পারে। একই সঙ্গে রোমেরো ও লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে অপ্রয়োজনীয়ভাবে রক্ষণ ছেড়ে বেরিয়ে না এসে ধৈর্যের সঙ্গে খেলতে হবে।
সবশেষে, ম্যাচের শুরু থেকেই নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার চেষ্টা করতে হবে আর্জেন্টিনাকে। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে শেষ মুহূর্তের প্রত্যাবর্তন সফল হলেও স্পেনের বিপক্ষে একই কৌশল কার্যকর নাও হতে পারে। রদ্রি ও রুইস বলের দখল ধরে রেখে ম্যাচের গতি নিয়ন্ত্রণে পারদর্শী। তাই সুযোগ পেলে সেট পিস থেকেও সর্বোচ্চ সুবিধা নেওয়ার পাশাপাশি প্রথম গোলটি করার লক্ষ্যেই খেলতে হবে মেসিদের।
ফাইনালটি অনেকের কাছে মেসি ও ইয়ামালের দ্বৈরথ হলেও ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে আরও বড় ভূমিকা রাখতে পারে মাঝমাঠের লড়াই, রক্ষণে শৃঙ্খলা এবং সুযোগ কাজে লাগানোর সক্ষমতা। সেসব পরীক্ষায় যে দল এগিয়ে থাকবে, তার হাতেই উঠতে পারে ২০২৬ বিশ্বকাপের শিরোপা।
যে আই