দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহের ভয়াবহ ভূমিকম্পে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে হারিয়েছেন আর্জেন্টাইন ফুটবলার লুকাস ত্রেহো। তিনি ভেনেজুয়েলার দ্বিতীয় বিভাগের ক্লাব স্পোর্ট মারিতিমো লা গুইরার হয়ে খেলেন।
ভূমিকম্পের পর টানা তিন দিন ধ্বংসস্তূপে স্ত্রী ইয়ানিনা এবং দুই সন্তান—আরন ও আইনোহার সন্ধান চালান ৩৮ বছর বয়সী এই ফুটবলার।
লুকাস ত্রেহোর শ্যালক রিকার্দো আরদিলেস সিএনএন এন এসপানিওলকে বলেন, ‘লুকাস মানসিকভাবে সম্পূর্ণ ভেঙে পড়েছেন। সমুদ্রতীরবর্তী তাদের বাড়িটির আর কিছুই অবশিষ্ট নেই।’
রোববার ভেনেজুয়েলার কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, শক্তিশালী ওই ভূমিকম্পে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়া হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
ভূমিকম্পের সময় ত্রেহো রাজধানী কারাকাসে দলের অনুশীলন ক্যাম্পে ছিলেন। খবর পেয়ে দ্রুত লা গুইরায় নিজের বাসায় ছুটে যান। সেখানে গিয়ে তিনি শুধু ধ্বংসস্তূপ দেখতে পান।
শ্যালক রিকার্দো আরদিলেস বলেন, ‘ভবনটির কোনো অস্তিত্বই আর ছিল না। আমাদের একমাত্র আশা ছিল, তারা হয়তো তখন ভবনের ভেতরে ছিলেন না।’
পরিবারের সন্ধানে ধ্বংসস্তূপে অনুসন্ধান চালানোর পাশাপাশি ভারী যন্ত্রপাতির সহায়তাও চান ত্রেহো। তার সতীর্থ ও বন্ধুরাও উদ্ধারকাজে আরও যন্ত্রপাতি পাঠানোর আবেদন জানিয়ে একটি ভিডিও প্রকাশ করেন।
ভেনেজুয়েলার ক্লাব মেট্রোপলিতানোস এফসির ফুটবলার রবার্ট গারসেস বলেন, ‘এখন আমাদের কাছে মাত্র একটি যন্ত্র আছে, যা মোটেও যথেষ্ট নয়।’
তবে শেষ পর্যন্ত সব আশার অবসান ঘটে। রোববার স্পোর্ট মারিতিমো লা গুইরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক শোকবার্তায় ত্রেহোর স্ত্রী ও দুই সন্তানের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে।
ক্লাবটি জানায়, ‘লুকাসের পরিবারের অপূরণীয় এই ক্ষতিতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। লুকাস, তুমি একা নও। মারিতিমো লা গুইরা পরিবার সবসময় তোমার পাশে আছে।’
এই ভূমিকম্পে ভেনেজুয়েলার ফুটবল অঙ্গনেও নেমে এসেছে শোকের ছায়া। দেশটির ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছে, অনূর্ধ্ব-১৭ বিশ্বকাপে খেলা ১৮ বছর বয়সী উদীয়মান ফুটবলার ইয়িমভার্ত বেরোতেরানও নিহত হয়েছেন।
এছাড়া তরুণ ফুটবলার ভিক্টর পালাসিওস ও রাজান সিজারও প্রাণ হারিয়েছেন। আরেক ফুটবলার হেক্টর বেলো জানিয়েছেন, নিজের শিশুকন্যাকে রক্ষা করতে গিয়ে নিহত হয়েছেন তার জীবনসঙ্গী।
এদিকে চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, এই দুর্যোগে আটজন চীনা নাগরিকও নিহত হয়েছেন। স্পেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, অন্তত নয়জন স্প্যানিশ নাগরিকের মৃত্যু হয়েছে এবং শতাধিক এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
উদ্ধারকাজ ইতোমধ্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ৭২ ঘণ্টা অতিক্রম করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, এই সময়ের পর জীবিত উদ্ধার হওয়ার সম্ভাবনা দ্রুত কমে যায়, যদিও অনেক ক্ষেত্রে পাঁচ থেকে ছয় দিন পর্যন্তও জীবিত উদ্ধার হওয়ার নজির রয়েছে।
সূত্র: সিএনএন
এমএস/