দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

তুরস্কের বিপক্ষে বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ২-০ গোলের জয়ে অস্ট্রেলিয়ার সবচেয়ে উজ্জ্বল নাম ছিলেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। ম্যাচের প্রথম গোলটি করে তিনি শুধু দলকে গুরুত্বপূর্ণ তিন পয়েন্ট এনে দেননি, বিশ্বকাপের মঞ্চে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবেও ইতিহাস গড়েছেন।
তবে ইরানকুন্ডার এই সাফল্যের গল্প কোনো সাধারণ ফুটবলারের গল্প নয়। শরণার্থী শিবির থেকে শুরু করে বিশ্বকাপের আলো ঝলমলে মঞ্চে পৌঁছানোর পথটি ছিল সংগ্রাম, ত্যাগ ও অদম্য ইচ্ছাশক্তির এক অনন্য উদাহরণ।
২০০৬ সালে তানজানিয়ার একটি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন ইরানকুন্ডা। তার বাবা-মা মূলত বুরুন্ডির নাগরিক। গৃহযুদ্ধের ভয়াবহতা থেকে বাঁচতে তারা নিজ দেশ ছেড়ে তানজানিয়ায় আশ্রয় নেন। পরে পরিবারের সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ায় পাড়ি জমান ইরানকুন্ডা। সেখানেই ফুটবল হয়ে ওঠে তার নতুন জীবনের ভিত্তি।
অস্ট্রেলিয়ার অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের যুব দলে খেলেই নজর কাড়েন তিনি। অসাধারণ গতি, শারীরিক সক্ষমতা এবং পরিণত সিদ্ধান্ত নেওয়ার দক্ষতা তাকে দ্রুত দেশের অন্যতম সম্ভাবনাময় তরুণ ফুটবলার হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করে। ক্লাবটির সিনিয়র দলের হয়ে ১৬ গোল করার পাশাপাশি আরও আটটি গোলে সহায়তা করেন তিনি। এতে ইউরোপের শীর্ষ ক্লাবগুলোর নজরে চলে আসেন এই তরুণ।
এর ধারাবাহিকতায় ২০২৪ সালে জার্মান ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন ইরানকুন্ডা। যদিও মূল দলে খেলার সুযোগ পাননি, তবে বিশ্বমানের ফুটবলারদের সঙ্গে অনুশীলনের অভিজ্ঞতা তার বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণের পথে তাকে কঠিন সিদ্ধান্তও নিতে হয়েছে। নিয়মিত খেলার সুযোগের অভাবে বায়ার্ন ছাড়তে বাধ্য হন তিনি। পরে সুইজারল্যান্ডের গ্রাসহপার ক্লাবে ধারে খেলেন এবং শেষ পর্যন্ত ইংল্যান্ডের ওয়াটফোর্ডে যোগ দেন, যাতে নিয়মিত মাঠে থেকে নিজের উন্নতি অব্যাহত রাখতে পারেন।
দলবদলের পর এক সাক্ষাৎকারে ইরানকুন্ডা বলেছিলেন, ‘এটি সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। তবে আমার প্রধান লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। নিয়মিত ম্যাচ খেলার প্রয়োজন ছিল, আর সেই সুযোগ আমাকে খুঁজে নিতে হয়েছে।’
তার সেই সিদ্ধান্তই শেষ পর্যন্ত সঠিক প্রমাণিত হয়েছে। বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অস্ট্রেলিয়া দলে ডাক পাওয়ার পর দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ফিলিস্তিনের বিপক্ষে গোল করে জাতীয় দলের ইতিহাসে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন তিনি।
এরপর আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ভ্যাঙ্কুভারে তুরস্কের বিপক্ষে ম্যাচের ২৭তম মিনিটে পল ওকোন-ইঙ্গস্টলারের লম্বা পাস ধরে দ্রুত বক্সে ঢুকে ডান পায়ের নিখুঁত শটে বল জালে জড়ান ইরানকুন্ডা।
এই গোলের মাধ্যমে ২০ বছর ১২৫ দিন বয়সে বিশ্বকাপে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখান এই তরুণ তারকা। শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপের মঞ্চে তার এই যাত্রা এখন অনেকের কাছেই অনুপ্রেরণার প্রতীক।
এমএস/