দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফিফা বিশ্বকাপ মানেই ফুটবল বিশ্বের সবচেয়ে বড় মঞ্চ। যেখানে শিরোপার লড়াইয়ের পাশাপাশি জন্ম নেয় অসংখ্য নাটকীয়তা, বিস্ময় আর অবিশ্বাস্য অঘটনের গল্প। ফুটবল পরাশক্তিদের হারিয়ে অপেক্ষাকৃত দুর্বল দলের ইতিহাস গড়া কিংবা ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায়—সব মিলিয়ে বিশ্বকাপ বরাবরই রোমাঞ্চে ভরপুর। ২০২৬ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে আবারও আলোচনায় উঠে এসেছে বিশ্বকাপ ইতিহাসের সেরা কিছু অঘটন।
১৯৫০ বিশ্বকাপে ইংল্যান্ডকে ১-০ গোলে হারিয়ে ফুটবল বিশ্বকে স্তব্ধ করে দেয় যুক্তরাষ্ট্র। টম ফিনি ও বিলি রাইটদের নিয়ে শক্তিশালী ইংল্যান্ড ছিল শিরোপার দাবিদার। অন্যদিকে অপেশাদার খেলোয়াড়ে গড়া মার্কিন দলটি মাত্র একদিন অনুশীলন করে ব্রাজিলে পৌঁছায়। ম্যাচের ৩৮ মিনিটে জো গ্যাটজেন্সের হেডেই ইতিহাস গড়ে যুক্তরাষ্ট্র।
১৯৫৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে ফেরেঙ্ক পুসকাসের দুর্দান্ত হাঙ্গেরিকে ৩-২ গোলে হারিয়ে শিরোপা জেতে পশ্চিম জার্মানি। প্রথমার্ধেই ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়েও জার্মানদের অবিশ্বাস্য প্রত্যাবর্তন ইতিহাসে ‘দ্য মিরাকেল অব বার্ন’ নামে পরিচিত।
১৯৬৬ বিশ্বকাপে উত্তর কোরিয়ার কাছে ১-০ গোলে হেরে বিদায় নেয় দুইবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ইতালি। পাক দু ইকের সেই ঐতিহাসিক গোল বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটন হিসেবে বিবেচিত হয়।
১৯৮২ বিশ্বকাপে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়ন পশ্চিম জার্মানিকে ২-১ গোলে হারিয়ে আলোচনায় আসে আলজেরিয়া। রাবাহ মাদজের ও লাখদার বেলোমির গোলে তারকাখচিত জার্মান দলকে হতবাক করে দেয় আফ্রিকার দলটি।
১৯৯০ বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে ডিয়েগো ম্যারাডোনার আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে হারিয়ে দেয় ক্যামেরুন। ফ্রাঁসোয়া ওমাম-বিয়িকের হেডে পাওয়া সেই জয় আফ্রিকান ফুটবলের অন্যতম বড় অর্জন হিসেবে বিবেচিত হয়।
২০০২ বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন ফ্রান্সকে ১-০ গোলে হারিয়ে চমক দেখায় নবাগত সেনেগাল। পাপা বুবা দিওপের একমাত্র গোলে জয় পায় আফ্রিকান দলটি। সেই ধাক্কা সামলাতে না পেরে ফ্রান্স গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
২০১৪ বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে স্বাগতিক ব্রাজিলকে ৭-১ গোলে বিধ্বস্ত করে জার্মানি। নেইমারের অনুপস্থিতিতে ভেঙে পড়ে ব্রাজিল। মাত্র ৬ মিনিটে ৪ গোল হজম করে তারা। ‘মিনেইরাও ট্র্যাজেডি’ নামে পরিচিত সেই ম্যাচ এখনও ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে বেদনাদায়ক অধ্যায়গুলোর একটি।
একই বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন স্পেনকে ৫-১ গোলে উড়িয়ে দেয় নেদারল্যান্ডস। রবিন ফন পার্সির অবিশ্বাস্য ডাইভিং হেড ছিল ম্যাচটির সবচেয়ে স্মরণীয় মুহূর্ত। পরে স্পেন গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয়।
২০১৮ বিশ্বকাপে দক্ষিণ কোরিয়ার কাছে ২-০ গোলে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই বিদায় নেয় ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন জার্মানি। ইনজুরি টাইমে দুই গোল হজম করে ১৯৩৮ সালের পর প্রথমবারের মতো প্রথম রাউন্ড থেকেই বিদায় নিতে হয় জার্মানদের।
সবশেষে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপে সৌদি আরব ২-১ গোলে হারায় আর্জেন্টিনাকে। লিওনেল মেসির দল টানা ৩৬ ম্যাচ অপরাজিত থেকে মাঠে নেমেছিল। কিন্তু সালেহ আল-শেহরি ও সালেম আল-দাওসারির গোলে বিশ্বকাপ ইতিহাসের অন্যতম বড় অঘটনের জন্ম দেয় সৌদি আরব। যদিও শেষ পর্যন্ত আর্জেন্টিনাই বিশ্বকাপ জিতে নেয়, তবুও সৌদিদের সেই জয় বিশ্বকাপ ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে।
এমএস/