দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ভারতে অনুষ্ঠেয় টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে সৃষ্ট অচলাবস্থা নিরসনের লক্ষ্যে ঢাকায় বাংলাদেশের সঙ্গে বৈঠক করেছেন আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিলের (আইসিসি) দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা। তবে অচলাবস্থা এখনো কাটেনি। বাংলাদেশ এখনো তাদের সিদ্ধান্তে অনড়। এটি নিয়ে দ্রুতই সিদ্ধান্ত জানাবে আইসিসি।
বৈঠক শেষে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, ২০২৬ আইসিসি পুরুষ টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশের অংশগ্রহণ সংক্রান্ত বিষয়ে আলোচনার জন্য বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ড (বিসিবি) আন্তর্জাতিক ক্রিকেট কাউন্সিল (আইসিসি) প্রতিনিধিদের সঙ্গে একটি সভা করেছে।
আলোচনাকালে বিসিবি বাংলাদেশের ম্যাচগুলো শ্রীলঙ্কায় সরিয়ে নেওয়ার জন্য আইসিসির কাছে তাদের আনুষ্ঠানিক অনুরোধ পুনর্ব্যক্ত করেছে। বোর্ড একইসঙ্গে দল, বাংলাদেশি সমর্থক, গণমাধ্যম এবং অন্যান্য স্টেকহোল্ডারদের নিরাপত্তা ও সুরক্ষা বিষয়ে বাংলাদেশ সরকারের মতামত ও উদ্বেগের কথা আইসিসিকে জানিয়েছে।
আলোচনাটি অত্যন্ত গঠনমূলক, আন্তরিক এবং পেশাদার পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে, যেখানে উভয় পক্ষই সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো নিয়ে খোলামেলা আলোচনা করেছে। অন্যান্য পয়েন্টগুলোর পাশাপাশি, ন্যূনতম লজিস্টিক পরিবর্তনের মাধ্যমে বিষয়টি সহজতর করার লক্ষ্যে বাংলাদেশকে অন্য একটি গ্রুপে স্থানান্তর করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা করা হয়েছে।
আইসিসি প্রতিনিধি দলের পক্ষ থেকে উপস্থিত ছিলেন ইভেন্টস এবং কর্পোরেট কমিউনিকেশনসের জেনারেল ম্যানেজার গৌরব সাক্সেনা এবং ইনটেগ্রিটি ইউনিটের জেনারেল ম্যানেজার অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ। গৌরব সাক্সেনা যথাসময়ে ভিসা না পাওয়ায় সশরীরে উপস্থিত হতে পারেননি এবং ভার্চুয়ালি আলোচনায় যুক্ত হন। অ্যান্ড্রু এফগ্রেভ সশরীরে সভায় উপস্থিত ছিলেন।
বিসিবির পক্ষে উপস্থিত ছিলেন সভাপতি মো. আমিনুল ইসলাম, সহ-সভাপতি মো. সাখাওয়াত হোসেন ও ফারুক আহমেদ, পরিচালক ও ক্রিকেট অপারেশন্স কমিটির চেয়ারম্যান নাজমুল আবেদীন এবং প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা নিজাম উদ্দিন চৌধুরী। বিসিবি এবং আইসিসি এই বিষয়ে গঠনমূলক সংলাপ অব্যাহত রাখতে সম্মত হয়েছে।
এর আগেও টি–টোয়েন্টি বিশ্বকাপে নিজেদের ম্যাচ অন্য দেশে সরিয়ে নেয়ার দাবি জানিয়ে অনড় অবস্থান জানিয়ে দেয় বিসিবি। আইসিসির একাধিক অনুরোধ সত্ত্বেও সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনায় রাজি হয়নি বোর্ড। ফলে বিষয়টি সমাধানে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ নিয়েছিল ক্রিকেটের সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রক সংস্থা। তাতেও সমাধান আসেনি।
এর আগে গত বুধবার দু’পক্ষের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সে আলোচনা প্রায় অচলাবস্থায় পৌঁছায় বলে জানা যায়। ওই বৈঠকে বিসিবি সভাপতি আমিনুল ইসলাম বুলবুল অসন্তোষ প্রকাশ করলে আলোচনা ভেস্তে যাওয়ার উপক্রম হয়। এরপরও সমঝোতার চেষ্টা চালিয়ে যেতে বিসিবির সঙ্গে পুনরায় যোগাযোগ করে আইসিসি।
এই সংকটের মূল দুটি কারণ হলো- ভারতে বাংলাদেশ দলের নিরাপত্তা শঙ্কা এবং মুস্তাফিজুর রহমানকে ঘিরে তৈরি হওয়া বিতর্ক। আইসিসির নিরাপত্তা মূল্যায়নে ভারতে হুমকির মাত্রা কম থেকে মাঝারি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে, যা সংস্থাটির মতে অস্বাভাবিক নয়। বরং মূল্যায়নে বলা হয়েছে, বাংলাদেশেই খেলোয়াড়দের জন্য ঝুঁকির মাত্রা তুলনামূলক বেশি।
বিসিবির পক্ষ থেকে নিরাপত্তা প্রতিবেদনের একটি অংশ তুলে ধরে বলা হয়েছে, কোনো কাল্পনিক পরিস্থিতিতে ভারতে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ছড়িয়ে পড়লে বাংলাদেশ দলের খেলোয়াড়রা ঝুঁকিতে পড়তে পারেন। মুস্তাফিজুর রহমানের নিরাপত্তা নিয়েও একই ধরনের আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়। বৈঠকে বিজেপি ও শিব সেনার কয়েকজন নেতার মন্তব্যের বিষয়ও আলোচনায় উঠে আসে। তবে আইসিসি ও বিসিসিআই জানিয়েছে, হুমকির মাত্রা বাড়লে সেই অনুযায়ী নিরাপত্তা ব্যবস্থাও জোরদার করা হবে।
আইসিসির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, কেবল অনুমান বা কাল্পনিক পরিস্থিতির ভিত্তিতে কোনো দল টুর্নামেন্ট থেকে সরে দাঁড়াতে পারে না। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়, প্যারিসে ফিলিস্তিনপন্থী সমাবেশ হওয়া মানেই ফ্রান্স কোনো ক্রীড়া আয়োজনের জন্য অনিরাপদ হয়ে যায় না। উল্লেখযোগ্যভাবে, বিসিবি এখনো তাদের নিজস্ব নিরাপত্তা প্রতিবেদন আইসিসি বা বিসিসিআইয়ের সঙ্গে আনুষ্ঠানিকভাবে ভাগাভাগি করেনি।
এর আগে আইপিএলের নিলামে ৯ কোটি ২০ লাখ রুপিতে মুস্তাফিজুর রহমানকে দলে নেয় কলকাতা নাইট রাইডার্স। তবে বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগ ঘিরে সৃষ্ট বিতর্কের জেরে বিসিসিআইয়ের নির্দেশে তাকে স্কোয়াড থেকে বাদ দেয় ফ্র্যাঞ্চাইজিটি। এ ঘটনার পরই ভারতে বিশ্বকাপ খেলাকে ঘিরে নিরাপত্তা শঙ্কার কথা প্রকাশ্যে আনে বিসিবি।
যুব ও ক্রীড়া উপদেষ্টা আসিফ নজরুলের নির্দেশে নিরাপত্তা উদ্বেগ জানিয়ে আইসিসিকে চিঠি দেয় বিসিবি। পরে ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ভিডিও ও প্রতিবেদন যুক্ত করে দ্বিতীয় দফায় চিঠি পাঠানো হয়। আইসিসি জানায়, এটি ভেন্যু পরিবর্তন সংক্রান্ত কোনো আনুষ্ঠানিক চিঠি নয়, বরং ঝুঁকি মূল্যায়ন সংক্রান্ত একটি অভ্যন্তরীণ নোট।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপে বাংলাদেশ তাদের চারটি গ্রুপ ম্যাচের মধ্যে তিনটি খেলবে কলকাতায় ৭, ৯ ও ১৪ ফেব্রুয়ারি ওয়েস্ট ইন্ডিজ, ইতালি ও ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। শেষ গ্রুপ ম্যাচটি তারা খেলবে মুম্বাইয়ে নেপালের বিপক্ষে।
কে