দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ক্রিকেট বোর্ডের উপদেষ্টা পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন সৈয়দ আবিদ হোসেন সামি।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) ফেসবুক পোস্টে তিনি এ দায়িত্ব পালনে অনিচ্ছার কথা জানান।
পোস্টে সৈয়দ আবিদ হোসেন সামি লিখেন, ‘সম্মানিত বিসিবি সভাপতির উপদেষ্টা হিসেবে আমি দায়িত্ব পালন করতে ইচ্ছুক নই৷ যেদিন আমার ব্যাপারে প্রেস রিলিজ হয়, সেদিন থেকেই একটা মহল আমার রেপুটেশন খারাপ করার ব্যাপারে সক্রিয়৷ কেন, কি কারণে তা আমার জানা নেই৷
প্রথমত, আমি নিজে উদ্যোগী হয়ে এই জায়গায় আসিনি৷ সম্মানিত প্রেসিডেন্ট আমাকে চেয়েছেন এ কারণে আমি গেছি।
প্রথমদিনই বলা হয়েছে, এই দায়িত্বটা ভলান্টিয়ারি অর্থাৎ কোনো সম্মানি বা পারিশ্রমিক নেই, এবং প্রেসিডেন্ট শুধু যে সব বিষয়ে আমার সাজেশন চাইবেন আমি সেসব বিষয়ে সাজেশন দিতে পারবো ৷ আমি যেদিন প্রথম যাই সেদিন একটি মিটিং চলছিল অনুর্ধ্ব ১২ ক্রিকেট কার্নিভাল নিয়ে, যা প্রেসিডেন্ট ক্রিকেট ডিসেন্ট্রালাইজেশনের প্রথম পদক্ষেপ হিসেবে নিয়েছিলেন৷ সেই মিটিং এ বিসিবির বিভিন্ন ডিপার্টমেন্টের ইনচার্জরা ছিলেন, ইভেন্ট ম্যানেজমেন্ট প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধি ছিলেন৷ আমি সেখানে ইনপুট দিলাম পেসার হান্ট কম্পিটিশন, প্যারেন্টাল কোচিং গাইডলাইন এবং বাচ্চাদের বাংলাদেশের টেস্ট মুহুর্তের চিত্রাংকন প্রতিযোগিতার ব্যাপারে যা সবাই তখন প্রশংসাও করেছিলেন৷ পেসার হান্টটা কাজেও লেগে গেছে, ১৩৪ কিমি এর বোলার পাওয়া গেছে সিলেট-চট্টগ্রামে৷
এরপর গত ২২ তারিখ থেকে ২৮ তারিখ পর্যন্ত আমি দেশের ৪ টা বিভাগে গেছি, ৩টাতে প্রেসিডেন্টের সঙ্গে গিয়েছি, চট্টগ্রামে নান্নু ভাই-বাশার ভাই এর সঙ্গে গিয়েছি৷ প্রতিটা বিভাগে বিভাগীয় কমিশনারদের সঙ্গে ডিসেন্ট্রালাইজেশন নিয়ে বৈঠক, অবকাঠামোর সমস্যা পরিদর্শন, স্থানীয় খেলোয়াড়-নারী ক্রিকেটার, গ্রাউন্ডসম্যান, জেলা লিগ না হওয়ার কারণ-ইত্যাদি কাগজে কলমে নোট করে সেই অনুযায়ী প্রতিদিন প্রেসিডেন্টসহ স্ব স্ব ডিপার্টমেন্টকে ডে রিপোর্ট জমা দিয়েছি৷ যারা সেই বিভাগগুলোতে ছিলেন, তারা বলতে পারবেন আমার মধ্যে এফোর্টের কোনো কমতি দেখেছেন কি না৷ মাঝে ২৬ তারিখ বাদ দিয়ে ২৫ তারিখ ঢাকায় প্রোগ্রাম ছিল - ৬ দিনে ৪ টা বিভাগে ডিসেন্ট্রালাইজেশনের জন্য ডাটা সংগ্রহ ও কাগজ কলমের কাজ করেছি৷
এর মধ্যে একটা গোষ্ঠী প্রেসিডেন্টকে প্যানিক করা শুরু করলেন আমি কেন সেই বিভাগগুলোতে গিয়ে কন্টেন্ট করছি? এটা কনফ্লিক্ট অফ ইন্টারেস্ট৷
আমি কন্টেন্ট করছি মূল সমস্যা আরো স্বচ্ছভাবে মানুষের সামনে তুলে ধরতে৷ গত এতগুলো বছরে যেগুলো সমস্যা আইডেন্টিফাই করা যায়নি সেগুলো সবার সামনে তুলে ধরলে সমস্যাটা কোথায় আমি জানি না বা আমার এখনো বুঝে আসে নি৷ সেই সঙ্গে বিসিবি যে এগুলোর সমাধানের উদ্যোগ নিতে চায় সেই ব্যাপারটাকেও সবার সামনে তুলে ধরাটা জরুরি বলে আমার মনে হয়েছে৷ রংপুরে আউটার মাঠে মেলা বসে মাঠকে গার্বেজ বানানো, আউটফিল্ডে সমস্যা, রাজশাহী স্টেডিয়ামে কি সংস্কার প্রয়োজন, চট্টগ্রামে জেলা লিগ কেন হচ্ছে না- আমি যদি এই সমস্যা তুলে ধরি তাতে সমস্যা কোথায়? এতে তো আরো ভিজ্যুয়াল ডকুমেন্ট থাকে, স্বচ্ছতা থাকে৷
প্রথমত কন্টেন্ট তৈরি করা আমার প্রফেশন সেটা জেনেই কিন্তু আমাকে এখানে নেওয়া হয়েছে৷ বিসিবির সঙ্গে আমার কোনো আর্থিক চুক্তি হয়নি, উপদেষ্টা পদের কোনো বেতন নেই৷ আর আমার কন্টেন্টের জন্য যে ক্যামেরাম্যান যাচ্ছে তা অন্য সাধারণ মিডিয়ার মতই অনফিল্ড প্রতিষ্ঠান তাদের নিজের খরচে যাচ্ছে৷ আগের দিন ভেন্যুতে অনফিল্ডের ক্যামেরাম্যান এবং রিপোর্টার চলে যাচ্ছে৷
এই ব্যাপারটা নিয়ে প্রতিনিয়ত প্রেসিডেন্টকে প্যানিক করছে একটা মহল, যেটা প্রেসিডেন্টের মত একজন দেশপ্রেমিক মানুষ তার নিজের কাজ থেকে মনযোগ হারাচ্ছেন৷ সারাদিনের একটা সফল কার্যক্রম শেষে তার মুখ থেকে হাসি উড়ে যাচ্ছে৷ এবং সেটা শুধুমাত্র আমাকে নিয়ে একটা মহলের তৈরী করা কৃত্রিম সংকটকে কেন্দ্র করে৷ এরকম একজন এফিশিয়েন্ট প্রেসিডেন্টকে ডিস্ট্র্যাক্ট করা হচ্ছে বারবার৷
এই মহলটা সামনের দিনগুলোতে আরো সমস্যা তৈরী করবে৷ আমার কাছের মানুষজন আমাকে নানাভাবে বোঝানোর চেষ্টা করেছেন এটা তারা Out of jealousy করছেন৷ কিসের জেলাসি, কেন জেলাসি আমি জানি না৷
আমি এটুকু জানি, দেশের তৃণমূল পর্যায়ের ক্রিকেটার, কোচদের সঙ্গে গত ১০ বছর সময় কাটিয়ে যে সমস্যাগুলো দেখেছিলাম সেগুলোকে লাঘব করার জন্য প্রেসিডেন্টকে অ্যাসিস্ট করার এই প্রস্তাবটা নিয়েছিলাম৷ সেই প্রেসিডেন্টই যদি কাজ করতে গিয়ে বাঁধাগ্রস্থ হন, আমার সেখানে থাকার কোনো মানে হয় না৷ বিসিবিতে যে কয়দিন গেছি, আমার পকেট থেকেই উবার ভাড়া গেছে৷ প্রতিটা বিভাগে ভলান্টিয়ারি কাজ করে শেষে আবার রাত ৮ টায় যমুনা টিভিতে নিউজও পড়েছি। এর মধ্যে বিসিবিতে ডে রিপোর্টও দিয়েছি৷ আবার পরদিন ভোরে অন্য বিভাগে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত হয়েছি৷
আমি রাজনীতিবিদও না, আমি বড় ব্যাবসায়ীও না, কোনো বড় ব্যাক আপ ও আমার নেই৷ ডার্টি পলিটিক্স ডিল করা আমার কাজ না, বা এটা ডিল করতেও আমি এখানে আসিনি৷ আমি যেটা পারি তা হল, আপনি আমাকে যে কাজ দেবেন, সেই কাজটা দিনে ১৭-১৮ ঘণ্টা খেটে বেস্ট আউটপুটটা দেওয়ার জন্য৷ এ কারণেই গত ১০ বছরে যমুনা টেলিভিশন থেকে আমার চাকরি যায়নি, সব টিভি চ্যানেলই খেলার প্রি বা পোস্ট শো আমাকে নিয়েই করে৷ কারণ আমার রিসার্চ-হোমওয়ার্ক এবং এফোর্ট ভালো দেখেই তারা আমাকে নেন৷ আমি শুধু কাজটাই করতে পারি৷ তাই অন্যের কাজের ক্ষতির কারণ আমি হতে চাই না৷ আমি আমার ব্যাক্তিত্বের জায়গায় আপোষ করতে পারবো না ভাই৷ আমার জীবনে ওইটাই সব থেকে বড় সম্পদ৷ তবে এই ১০ দিনে ক্রিকেট বোর্ডের পরিচালক যাদের সঙ্গেই কাজ করেছি, আমার জ্ঞানের পাল্লায় সেগুলোকে অর্জন হিসেবে নিচ্ছি৷
বুলবুল ভাই দেশের ক্রিকেটকে বদলে দেয়ার পথ শুরু করবেন, আমি থাকলে তিনি পদে পদে বাঁধাপ্রাপ্ত হবেন, বিতর্কিত হবেন৷ উনার কাজের স্পিরিট থাকবে না৷
একটা বাস্তবতার শিক্ষা আমার স্ত্রী আমাকে বলতো, ‘বাংলাদেশে শুধু মেরিট বা শুধু ট্যালেন্ট দিয়ে কিছু হয় না’-আজ আবার মনে হল, Wife is always right.’
কে