দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

চ্যাম্পিয়ন্স লিগে নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে বার্সেলোনাকে ৪-২ গোলে হারিয়েছে প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)। দুই দলের লড়াইয়ে ব্যবধানটা বড় হলেও বার্সেলোনার জন্য সবচেয়ে বড় দুশ্চিন্তার জায়গা হয়ে উঠেছে রক্ষণভাগের দুর্বলতা। সামনে এল ক্লাসিকোর মতো গুরুত্বপূর্ণ ম্যাচ থাকায় এই হার কাতালানদের আত্মবিশ্বাসেও বড় ধাক্কা দিতে পারে।
চলতি মৌসুমে প্রথম ১১ ম্যাচে ৪৯ গোল করেছিল বার্সেলোনা। সব ম্যাচেই জয় পেয়েছিল দলটি। তবে আক্রমণে দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের আড়ালে রক্ষণভাগের দুর্বলতা ক্রমেই স্পষ্ট হচ্ছিল। শুরুর চার ম্যাচে তিনটি ক্লিন শিট রাখা বার্সেলোনা পরের সাত ম্যাচে মাত্র একবার প্রতিপক্ষকে গোল করা থেকে বিরত রাখতে পেরেছে। এই সাত ম্যাচে তাদের জালে বল ঢুকেছে ১১ বার।
রিয়াল বেতিসের বিপক্ষে সবশেষ ম্যাচেও বার্সেলোনার রক্ষণে দুর্বলতা দেখা গিয়েছিল। ভালেন্তিন গোমেজ ও আবদে এজাজুলিরা বারবার রক্ষণ ভেঙে আক্রমণে উঠেছেন। সেই দুর্বলতারই আরও বড় পরীক্ষা নিয়েছে পিএসজি।
দুই দলই চোটের সমস্যায় ভুগেছে। বার্সেলোনা পায়নি এরিক গার্সিয়া ও জুল কুন্দের মতো ডিফেন্ডারদের। অন্যদিকে, পিএসজি হারিয়েছে নুনো মেন্দেজকে। ম্যাচ চলাকালে চোটের কারণে উসমান দেম্বেলে, কভিচা কভারাৎসখেলিয়া ও মারকিনিয়োসকেও মাঠ ছাড়তে হয়েছে। এরপরও পিএসজির খেলায় খুব একটা ছন্দপতন ঘটেনি।
ম্যাচের ৩৮ মিনিটে বক্সের ভেতর থেকে গোল করে পিএসজিকে এগিয়ে দেন দেজিরে দুয়ে। এর আগে একাধিক সুযোগ পেয়েও কাজে লাগাতে পারেনি বার্সেলোনা। দানি ওলমো ও ফেরমিন লোপেজের মতো খেলোয়াড়েরা সুযোগ নষ্ট করেন।
তবে প্রথমার্ধে বার্সেলোনাকে সমতায় ফেরান শাভি এসপার্ত। ফেরমিন লোপেজের পাস থেকে গোল করেন এই রাইটব্যাক। রক্ষণ সামলানোর পাশাপাশি আক্রমণেও তাঁর অবদান ছিল উল্লেখযোগ্য।
এরপর আবারও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেয় পিএসজি। দ্বিতীয়ার্ধে ফেররান তোরেসের একটি শট ক্রসবারে লেগে ফিরে আসে। তবে কর্নার থেকে লুকাস এর্নান্দেজের হেডে আবারও এগিয়ে যায় প্যারিসের দলটি।
৭৯ মিনিটে লামিন ইয়ামালের দারুণ গোলে সমতায় ফেরে বার্সেলোনা। বদলি ডিফেন্ডার ওয়ারেন জাইরে-এমেরিকে কাটিয়ে পায়ের বাইরের অংশ দিয়ে বল জালে পাঠান তিনি। তখন মনে হচ্ছিল, অন্তত এক পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়তে পারবে কাতালানরা।
কিন্তু গোল করার পরপরই মনোযোগ হারানোর পুরোনো সমস্যায় পড়ে বার্সেলোনা। ভিতিনিয়ার দুর্দান্ত শটে আবারও এগিয়ে যায় পিএসজি। এরপর আশরাফ হাকিমির ক্রস থেকে বল পেয়ে গোল করেন ফাবিয়ান রুইজ। তাতে ৪-২ ব্যবধানের জয় নিশ্চিত হয় প্যারিসের ক্লাবটির।
চলতি মৌসুমে বার্সেলোনার হজম করা ১১ গোলের চারটিই এসেছে নিজেদের গোল করার প্রায় পাঁচ মিনিটের মধ্যে। গোল করার পর রক্ষণে মনোযোগ কমে যাওয়ার এই প্রবণতা দলটির জন্য বড় দুর্বলতা হয়ে উঠছে।
পিএসজির বিপক্ষে হার তাই শুধু তিন পয়েন্ট হারানোর ঘটনা নয়; বরং বার্সেলোনার রক্ষণভাগের সীমাবদ্ধতাও সামনে এনেছে। বিশেষ করে দুই দলের শক্তির ভারসাম্য বিবেচনায় ৪-২ ব্যবধানের হার কাতালানদের জন্য হতাশার।
বার্সেলোনার সামনে এখন কঠিন পরীক্ষা। পরের ম্যাচেই চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী রিয়াল মাদ্রিদের মুখোমুখি হবে তারা। প্যারিসে হারের ধাক্কা সামলে এল ক্লাসিকোর আগে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাওয়া এবং রক্ষণভাগের দুর্বলতা কাটিয়ে ওঠাই এখন দলটির প্রধান চ্যালেঞ্জ।
এমএস/