দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বিশ্ব ফুটবলের দুই মহাতারকার লড়াইটা সাধারণত মাঠেই দেখা যায়। তবে এবার দৃশ্যপট ছিল একেবারেই ভিন্ন। মাঠের বাইরে, গুগল সার্চে মুখোমুখি হলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ও লিওনেল মেসি। আর সেই লড়াইয়ের মঞ্চ তৈরি হলো প্রায় একই সময়ে ঘটে যাওয়া দুটি বড় ঘটনায়।
পর্তুগালের জাতীয় দলের কোচ জর্জ জেসুসের সঙ্গে নিজের বিরোধ নিয়ে প্রকাশ্যে মুখ খুলে বিস্ফোরক বক্তব্য দেন রোনালদো। এতদিন নীরব থাকার পর পর্তুগাল শিবিরের ভেতরের নানা বিষয় সামনে আনেন তিনি। তার বক্তব্য প্রকাশ্যে আসতেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয় ব্যাপক আলোচনা। পর্তুগাল দলের অধিনায়কত্ব ও জাতীয় দলের সঙ্গে তার সম্পর্ক নিয়েও নতুন করে আলোচনা শুরু হয়।
ঠিক সেই সময় অন্য এক বাস্তবতায় ছিলেন মেসি। আর্জেন্টিনার জার্সিতে নিজের শেষ ম্যাচ খেলে আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের ঘোষণা দেন এই আর্জেন্টাইন তারকা। জাতীয় দলের হয়ে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সাফল্যের নেতৃত্ব দেওয়া মেসির সেই বিদায়ও হয়ে ওঠে বিশ্বজুড়ে আলোচিত ঘটনা।
একদিকে রোনালদোর বিস্ফোরক বক্তব্য, অন্যদিকে মেসির ঐতিহাসিক বিদায়। দুই তারকার নামেই হঠাৎ বেড়ে গেল মানুষের আগ্রহ। এরপর শুরু হলো মাঠের বাইরের আরেক লড়াই, এবার যার হিসাব হবে সংখ্যায়।
গত ২৪ ঘণ্টায় গুগল ট্রেন্ডসে ‘লিওনেল মেসি’ ও ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো’ শব্দ দুটি তুলনা করে দেখা গেছে, বিশ্বব্যাপী সার্চে অনেকটাই এগিয়ে মেসি। রোনালদোর বক্তব্য ঘিরে ব্যাপক আলোচনা হলেও অনলাইনে মানুষের আগ্রহে শেষ পর্যন্ত মেসিই ছিলেন এগিয়ে।
আর্জেন্টিনায় অবশ্য মেসির দাপট ছিল প্রত্যাশিতই। পর্তুগালেও রোনালদো ছিলেন সার্চে এগিয়ে। কিন্তু এই দুই দেশ বাদ দিলে বিশ্বের অনেক দেশেই মেসির নাম বেশি খোঁজা হয়েছে।
ব্রাজিল, স্পেন, ফ্রান্স, ইংল্যান্ড ও জার্মানির মতো বড় ফুটবল বাজারেও দুই তারকার নামের তুলনায় মেসিই এগিয়ে ছিলেন। ইউরোপ ও দক্ষিণ আমেরিকার বাইরেও বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ফুটবলপ্রধান দেশে একই চিত্র দেখা গেছে।
অর্থাৎ, পর্তুগালে রোনালদোর বক্তব্য হয়তো মুহূর্তের আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল। কিন্তু বিশ্বব্যাপী অনলাইন আগ্রহের হিসাব বলছে, আর্জেন্টিনার জার্সিতে মেসির শেষ ম্যাচই মানুষের নজর কেড়েছে বেশি।
রোনালদোর বক্তব্যের সময় নিয়েও তৈরি হয়েছে নানা আলোচনা। মেসির আন্তর্জাতিক ফুটবল থেকে বিদায়ের কয়েক ঘণ্টা আগে রোনালদো ইচ্ছাকৃতভাবেই বক্তব্য দিয়েছেন কি না, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। এমনটা হয়ে থাকলে, মেসির ঐতিহাসিক বিদায়কে ছাপিয়ে যাওয়ার সেই প্রচেষ্টা সফল হয়নি বলেই সার্চের পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করছে।
মাঠের প্রতিদ্বন্দ্বিতা বহু আগেই ফুটবল ইতিহাসের অন্যতম আলোচিত দ্বৈরথে পরিণত হয়েছে। এবার মাঠের বাইরে গুগল সার্চের হিসাবেও দেখা গেল সেই পুরোনো লড়াইয়ের নতুন এক অধ্যায়। আর এই পর্বে বিশ্বজুড়ে মানুষের সার্চে রোনালদোকে পেছনে ফেলে দিয়েছেন মেসি।
/অ