দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি ভঙ্গের অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত হওয়ার পর রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেছে ম্যানচেস্টার সিটি। ক্লাবটি জানিয়েছে, স্বাধীন কমিশনের দেওয়া রায়ে আইন, নীতি ও তথ্যগতভাবে একাধিক গুরুতর ভুল রয়েছে এবং সিদ্ধান্তটি নিরাপদ নয়।
বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় আপিল দায়ের করার কথা জানিয়ে এক বিবৃতিতে ম্যানচেস্টার সিটি বলেছে, নিজেদের অবস্থানের পক্ষে তাদের কাছে বিপুল পরিমাণ অকাট্য প্রমাণ রয়েছে।
গত মঙ্গলবার ম্যানচেস্টার সিটিকে ২০০৯-১০ থেকে ২০১৭-১৮ মৌসুম পর্যন্ত প্রিমিয়ার লিগের আর্থিক বিধি লঙ্ঘনের সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে স্বাধীন কমিশন। প্রায় এক দশক ধরে ক্লাবটি ধারাবাহিকভাবে প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম ভেঙেছে বলে অভিযোগ করেছিল লিগ কর্তৃপক্ষ।
কমিশনের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, গোপন অর্থায়নের পরিমাণ ৮৩ কোটি পাউন্ডের বেশি আড়াল করতে ম্যানচেস্টার সিটি কয়েকটি বাণিজ্যিক অংশীদারের সঙ্গে ভুয়া চুক্তি করেছিল। ক্লাবটি নির্দিষ্ট কিছু দায়ের প্রকৃত পরিমাণ গোপন করতে বিভিন্ন কৌশল ব্যবহার করেছিল বলেও কমিশনের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
তবে সিটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে। আপিলে ক্লাবটি দাবি করবে, গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি স্পনসরশিপ চুক্তির অর্থ এসেছিল আবুধাবি সরকারের কাছ থেকে, ক্লাবের মালিকদের কাছ থেকে নয়। ম্যানচেস্টার সিটির মালিক আবুধাবি ইউনাইটেড গ্রুপ (ADUG) বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর মূল্য বাড়িয়ে দেখানোর মাধ্যমে গোপন অর্থায়ন করেছিল বলে কমিশনে অভিযোগ করা হয়েছিল।
প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান কোনো ক্লাবকে স্পনসর করতে পারে। ম্যানচেস্টার সিটির প্রধান স্পনসর ইতিহাদ এয়ারওয়েজও কমিশনের প্রতিবেদনের কিছু তথ্য প্রকাশের ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, তাদের নাম প্রকাশিত প্রতিবেদনে না থাকলেও এর ফলে ক্ষতিকর প্রভাব পড়েছে এবং তারা প্রিমিয়ার লিগের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে।
ইতিহাদ এয়ারওয়েজ দাবি করেছে, তাদের বিরুদ্ধে কোনো অনিয়ম বা অসংগতিপূর্ণ বাণিজ্যিক চুক্তিতে জড়িত থাকার যে কোনো ইঙ্গিত তারা категорically প্রত্যাখ্যান করে।
এদিকে ইংলিশ ফুটবলের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এফএ) জানিয়েছে, ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে দেওয়া রায়ের খেলাটির অখণ্ডতার ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব রয়েছে। সংস্থাটি সিদ্ধান্তটি ও এর প্রভাব পর্যালোচনা করছে এবং প্রয়োজন হলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানিয়েছে।
এফএর হাতে থাকা ক্ষমতাবলে বিষয়টি নিয়ে তারা নিজস্ব তদন্তও শুরু করতে পারে। সে ক্ষেত্রে ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে অতিরিক্ত শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার সম্ভাবনাও রয়েছে।
ম্যানচেস্টার সিটির আপিল এখন নতুন তিন সদস্যের একটি স্বাধীন কমিশনের সামনে গোপনে শুনানি হবে। সংশ্লিষ্টদের প্রত্যেকের আইন বিষয়ে দীর্ঘ অভিজ্ঞতা রয়েছে।
প্রিমিয়ার লিগের নিয়ম অনুযায়ী, আপিলের শুনানি শুরু হওয়ার পর ১২ সপ্তাহের মধ্যে তা শেষ করার কথা এবং এরপর ৩০ দিনের মধ্যে সিদ্ধান্ত জানানো হবে। তবে প্রয়োজন মনে হলে এই সময়সীমা শিথিল করা যেতে পারে। ফলে পুরো প্রক্রিয়া শেষ হতে ঠিক কত সময় লাগবে, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
আপিলের সিদ্ধান্তের পর ম্যানচেস্টার সিটির বিরুদ্ধে কোনো শাস্তি দেওয়া হলে সেটির বিরুদ্ধেও পরবর্তী সময়ে আপিলের সুযোগ থাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নির্ভর করবে আপিলের ফলাফল ও পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর।
এদিকে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের ট্রেজারি কমিটি জানতে চেয়েছে, কমিশনের প্রতিবেদনে থাকা গোপনীয় বা বাদ দেওয়া নথিগুলো রাজস্ব বিভাগ (HMRC) চেয়েছে কি না। এর আগে এক প্রতিবেদনে সাবেক সিটি কোচ রবার্তো মানচিনির সঙ্গে কথিত ভুয়া চুক্তির মাধ্যমে ক্লাবটি প্রায় ১ কোটি ২০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত কর পরিশোধ এড়িয়ে থাকতে পারে বলে দাবি করা হয়েছিল। এ ক্ষেত্রে জরিমানা যুক্ত হলে দায়ের পরিমাণ ২ কোটি ৪০ লাখ পাউন্ড পর্যন্ত হতে পারে বলেও ওই প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সূত্র: বিবিসি
এমএস/