দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ বাণিজ্য নিয়ে কানাঘুষা থাকলেও জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র যেনো লুটপাট ও নিয়োগ বাণিজ্যের আঁতুড়ঘর। লোক দেখানো নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দিয়ে শেষমেস নেওয়া হয় কর্তৃপক্ষের পছন্দের প্রার্থীকে। যার প্রমাণ এই জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র।
জানা গেছে, নাম্বার টেম্পারিং করে পছন্দের ঘনিষ্ঠ নারী প্রার্থী আফসানা আক্তারকে ৯ম গ্রেডে নিয়োগ প্রদান করা হয়। এছাড়াও সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদ হোসেনের সুপারিশে চাকরি দেয়া হয় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ্য সবল ছাত্রলীগ নেতা রাসেলকে। এ সবই করেছেন তৎকালীন জাতীয় গ্রন্ত্রকেন্দ্রের পরিচালক কবি মিনার মনসুর। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনা স্বেচ্ছায় স্বীকার করেন সে সময়কার নিয়োগ কমিটির সভাপতি অতিরক্ত সচীব অসীম কুমার দে।
আফসানা আক্তারকে নিয়োগ দিতে ২০২২ সালের ৫ এপ্রিল নবম গ্রেডের উপগ্রন্থাগারিক ও ফিল্ড অফিসার পদে নিয়োগ বিজ্ঞপ্তি দেয় জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্র।
অনুসন্ধান বলছে, ময়মনসিংহের নান্দাইলের এমপি আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিনের ঘনিষ্ঠজন ছিলেন আফসানা। তার নির্দেশেই অফসানাকে কেন্দ্র করে সাজানো হয় পুরো নিয়োগ প্রক্রিয়া। নিয়োগ প্রদানের জন্য তৎকালীন সংস্কৃতি সচিব মুনছুর আহমেদ এবং গ্রন্থকেন্দ্রের পরিচালক একুশে পদক প্রাপ্ত কবি মিনার মনসুরের সঙ্গেও ঘনিষ্ঠতা গড়ে তোলেন আফছানা। পুরো প্রক্রিয়াটি গোপনীয়তায় সারেন পরিচালক মিনার মনসুর।
নিয়োগ পরীক্ষায় ভালো করেও নিয়োগ না পাওয়া এক ভুক্তভোগীর সঙ্গে তখনকার নিয়োগ কমিটির সভাপতি সাবেক অতিরিক্ত সচীব অসীমকুমার দের মেসেঞ্জারে কথোপকথন থেকে বেড়িয়ে আসে গোপন তথ্য।
এতে ওই কর্মকর্তা বলেন, আফসানার পরীক্ষার খাতায় অন্যজনের হাতের লেখা পাওয়া গেছে। এখনও কেউ যদি চ্যালেঞ্জ করে বা মিডিয়াতে উঠিয়ে দেয়, ও চাকরি হারাবে।’ ওই ভুক্তভোগী এর প্রমাণ দিতে বললে তখন ওই কর্মকর্তা বলেন, ‘এভিডেন্স তো ওর খাতা। ওই খাতা তো সংরক্ষিত আছে।’ এসময় তিনি খাতা দেওয়া যাবে না বলেও জানান।
অসীমকুমার দের একটি কল রেকর্ডিং দেশটিভির হাতে আসে। সেখানেও আফসানা নাম্বার টেম্পারিং এবং অবৈধ নিয়োগের বিষয়টি স্বীকার করেন। এজন্য দায়ী করেন ততকালীন ময়মনসিংহের নান্দাইলের এমপি আনোয়ারুল আবেদিন খান তুহিন, পরিচালক মিনার মনসুর, সংস্কৃতি সচিবসহ নিজেকে।
দেশ টিভির হাতে আসা অডিও রেকর্ড আফসানা স্বীকার করেন নিয়োগে জন্মতারিখের সঙ্গে মিলিয়ে বিজ্ঞপ্তি দেবার কথাটি।
সরাসরি আফছানাকে এ নিয়ে প্রশ্ন করলে যেনো ভাজা মাছটাও উল্টে খেতে জানেন না এমন ভাব করেন আফছানা। তবে, ছাত্রলীগের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কথা স্বীকার করেন ।
জানা গেছে, আফসানার প্রভাবে চাকরিও ছাড়তে হয়েছে কাউকে।
শুধু আফছানাই নয়, জানা যায় সাবেক জনপ্রশাসন মন্ত্রী ফরহাদের সুপারিশে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সুস্থ সবল ছাত্রলীগ নেতা রাসেল রানাকে প্রতিবন্ধী বিবেচনায় উপগ্রন্থাগারিক পদে চাকরি দেয়া হয় ওই নিয়োগেই। পরিচয় গোপন রেখে যা নিশ্চিত করেন তার সহপাঠি এবং সহকর্মীরা।
এ নিয়ে জানতে চাইলে বর্তমান পরিচালকের দোহাই দিয়ে কথা এড়িয়ে যায় রাসেল।
চাকরি স্থায়ী না হতেই আফছানা এবং রাসেলকে শুদ্ধাচার পুরস্কার দেন কবি মিনার মনসুর ।
কেবল অবৈধ নিয়োগ নয়, গ্রন্থকেন্দ্রের বই পাঠাতেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টার বাসায়। গ্রন্থকেন্দ্রের অনিয়ম দুর্নীতি নিয়ে দুদকে অভিযোগও দায়ের হয়েছে। দুদক পরিচালক বললেন তদন্ত শেষ করে ব্যবস্থা নেবেন।
অন্যদিকে মিনার মনসুরের নিয়োগ বাণিজ্য ও হরিলুটের বিষয়টি নিয়ে জানতে জাতীয় গ্রন্থকেন্দ্রে গেলে এ নিয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি বর্তমান পরিচালক আফসানা বেগম। উলটো অভিযুক্তদের প্রশংসায় ভাসিয়েছেন।
সরকারি দপ্তরগুলোর এমন অনিয়মের ফলে এক দিক বঞ্চিত হচ্ছে মেধাবীরা সেই সঙ্গে লাভবান হচ্ছে এক শ্রেণির অসাধু কর্মকর্তা। ২৪শের গণঅভ্যুথানের পরের বাংলাদেশে এমন অনিয়ম আর দেখতে চাননা সাধারন মানুষ।
কে