দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

ফরিদপুর সদর উপজেলার চাঁদপুর মল্লিকপাড়া গ্রামে ১০০ বছরের বেশি সময় ধরে বাঁশ দিয়ে ঝুড়ি বানানো হয়। এলাকার শতাধিক পরিবার এই কাজ করে সংসার / জীবন চালায়।
স্থানীয় সুত্রে জানা যায়, চাঁদপুর মল্লিকপাড়া গ্রামের পূর্ব দিকে বটতলা থেকে পশ্চিম দিকে আজিজ মাস্টারের মসজিদ পর্যন্ত প্রায় দেড় কিলোমিটার এলাকায় যেসব পরিবার বসবাস করে, তারা সবাই ঝুড়ি বানানোর সঙ্গে সম্পৃক্ত। যুগের পর যুগ ধরে তারা এই কাজ চালিয়ে আসছে।
চাঁদপুর - মল্লিকপাড়া গ্রামে গিয়ে দেখা যায়, রাস্তার পাশে, বাড়ির উঠানে, বারান্দায়, দোকানের সামনে বসে ঝুড়ি তৈরি করছেন বলেন বিভিন্ন বয়সের এলাকাবাসী । গ্রামের রাস্তায় বিক্রির জন্য ভ্যানে করে বাঁশ নিয়ে এসেছেন বাঁশ ব্যবসায়ী। বিভিন্ন বাড়ি ঘুরে ঘুরে ঝুড়ি কিনতে দেখা যাচ্ছে বাইরে থেকে আসা ব্যবসায়ীদের।

মাদারীপুরের রাজৈর উপজেলার টেকেরহাট এলাকার আতিয়ার খালাসী জানান, প্রতি সপ্তাহে এই গ্রাম থেকে এক হাজার থেকে দেড় হাজার ঝুড়ি সংগ্রহ করেন তিনি। এরপর এগুলো মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গোপালগঞ্জ, বরিশালসহ বিভিন্ন জেলায় বিক্রি করেন। প্রতিটি ঝুড়িতে সব খরচ বাদে তিনি ১৫ থেকে ২০ টাকা লাভ করেন। এখানকার ঝুড়ির মান ভালো। তাই বিভিন্ন জেলায় এর কদর আছে।
স্থানীয় কয়েকজনের সাথে কথা বললে জানা যায়, ছোটবেলায় তার বাবার কাছ থেকে এই ঝুড়ি তৈরির কাজ শিখেছিলেন। এই ঝুড়ি তৈরি করেই তাঁর সংসার চলে। তিনি ও তাঁর স্ত্রী মিলে প্রতি সপ্তাহে ছোট-বড় মিলে ৬০ থেকে ৭০টি ঝুড়ি তৈরি করতে পারেন। সব খরচ বাদ দিয়ে প্রতি সপ্তাহে তাঁদের আয় হয় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা।
এলাকার বাসিন্দা আবদুল মান্নান মল্লিক জানান, তার কিছু কৃষিজমি আছে। তিনি জমিতে চাষাবাদের পাশাপাশি ঝুড়ি তৈরির কাজ করেন। ঝুড়ি বানিয়ে সপ্তাহে তার আড়াই থেকে তিন হাজার টাকা আয় হয়। সারা বছর ধরে এই কাজ চললেও বছরের অক্টোবর থেকে এপ্রিল মাস পর্যন্ত বাঁশের ঝুড়ির চাহিদা থাকে বেশি। ওই সময় ব্যবসায়ীদের চাহিদামতো ঝুড়ি সরবরাহ করতে তাঁদের রীতিমতো হিমশিম খেতে হয়।
বাঁশ দিয়ে ঝুড়ি তৈরির কারিগর স্থানীয় গৃহবধূ ফরিদা বেগম জানান, ঝুড়ি তৈরি করার জন্য যে বাঁশ ব্যবহার করা হয়, তা স্থানীয়ভাবে ‘তল্লা বাঁশ’ নামে পরিচিত। প্রতিটি বাঁশ ১২০ থেকে ১৩০ টাকায় বিক্রি হয়। একটি বাঁশ থেকে আকারভেদে এক থেকে চারটি ঝুড়ি তৈরি করা যায়। আকারভেদে প্রতিটি ঝুড়ি ৯০ টাকা থেকে ৩০০ টাকায় বিক্রি করা হয়।
ফরিদপুরের ঈশানগোপালপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান নূরুজ্জামান চৌধুরী জানান, চাঁদপুর মল্লিকপাড়া গ্রামে বানানো বাঁশের ঝুড়ি এই এলাকার একটি পুরানো ঐতিহ্য। তাদের এ শৈল্পিক ক কারণে গ্রামের সুনাম ছড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন জেলায় ও উপজেলায়। এজন্য জনগণ ওই গ্রামকে ‘ঝুড়ির গ্রাম’ বলে।
কে