দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

বর্জ্য, ধুলাবালি, অপরিচ্ছন্নতা, কলকারখানার ধোঁয়াসহ বিভিন্ন কারণে বায়ু দূষণ হয়। দূষিত বায়ুতে বিপর্যস্ত গোটা বিশ্ব। এর থেকে বাদ যায়নি থাইল্যান্ডও। শুধুমাত্র গত বছর অর্থাৎ, ২০২৩ সালে দেশটির এক কোটি মানুষ দূষণ সম্পর্কিত রোগে আক্রান্ত হয়ে চিকিৎসা চেয়েছে। থাই কর্তৃপক্ষের বরাতে বুধবার (৬ মার্চ) এ তথ্য জানিয়েছে বিবিসি।
প্রতিবেদনে ব্রিটিশ গণমাধ্যমটি জানিয়েছে, দীর্ঘদিন ধরেই থাইল্যান্ডের বাতাসের মান খারাপ হচ্ছে। এরই মধ্যে একটি পরিসংখ্যান প্রকাশ করেছে দেশটির দ্য ন্যাশনাল ইকোনোমিক অ্যান্ড সোশ্যাল ডেভেলপমেন্ট কাউন্সিল (এনইএসডিসি)। যেখানে দূষণ সম্পর্কিত রোগে আক্রান্ত তাই নাগরিকদের চিকিৎসার তথ্য জানানো হয়েছে।
সাত কোটি ২০ লাখ মানুষের বাস থাইল্যান্ডে। প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, সমুদ্রসৈকত ও দ্বীপের জন্য বিখ্যাত দেশটি। প্রতি বছর লাখ লাখ পর্যটক ভিড় করে দেশটিতে। তবে, বায়ু দূষণের জেরে দীর্ঘদিন ধরেই ভুগছে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশটি। ক্রমাগতভাবে থাইল্যান্ডে দূষণ বেড়েই চলছে।
ফরাসি সংবাদ সংস্থা এএফপির তথ্যমতে, ২০২৩ সালের প্রথম ৯ সপ্তাহে থাইল্যান্ডের ১৩ লাখ নাগরিক দূষণ সম্পর্কিত রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন। ২০২৪ সালের প্রথম ৯ সপ্তাহে এই সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে ১৬ লাখে। দূষণের জেরে ফুসফুসের ক্যান্সার, ব্রঙ্কাইটিস, হাঁপানি ও হৃদরোগের মতো দীর্ঘস্থায়ী রোগে আক্রান্ত হচ্ছে দেশটির বাসিন্দারা।
এনইএসডিসি বলছে, অতিক্ষুদ্র বস্তুকণা বা পিএম ২.৫ দূষণের প্রধান উৎস। এটি জনস্বাস্থ্যে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে। এ নিয়ে সরকারের চিন্তা করা উচিত।
পিএম ২.৫ মূলত ধূলিকণা ও ২.৫ মাইক্রোমিটারের ছোট পদার্থকে বোঝায়, যা স্বাস্থ্যের জন্য সবচেয়ে বিপজ্জনক। ওই কণাগুলো ফুসফুস ও রক্তপ্রবাহে প্রবেশ করে থাকে। এই ধূলিকণা বা ছোট পদার্থের জেরে মানুষের চোখ ও ত্বকে জ্বালাপোড়া এবং চুলকানি হতে পারে।
দূষণের দিক থেকে থাইল্যান্ডে সবচেয়ে বেশি এগিয়ে রয়েছে দেশটির উত্তরাঞ্চলের শহরগুলো। এর মধ্যে দূষণের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে রয়েছে চিয়াং মাই, চিয়াং রাই ও ল্যামপাং শহর। এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্সের (একিউআই) তথ্যমতে, শহরগুলোর বায়ুর মান অস্বাস্থ্যকর।
বিবিসি জানিয়েছে, থাইল্যান্ডের শুষ্ক মৌসুম শুরু হয় নভেম্বরে। শেষ হয় মার্চে। এ সময়ে থাইল্যান্ডের বায়ু দূষণ অতিরিক্ত হারে বেড়ে যায়। এর মূলে রয়েছে কৃষকেরা ওই মাসগুলোতে আখ ও ধানের আগাছা পুড়িয়ে জমিকে কৃষিযোগ্য করে তুলে।
ক্ষমতায় এসই চলতি বছরের শুরুতে থাই প্রধানমন্ত্রী স্রেথা থাভিসিন বায়ুর মান উন্নত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। এই সমস্যা মোকাবিলায় একটি বিলে সমর্থন দিয়েছেন দেশটির আইনপ্রণেতারা।
এম