দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসনে নৌকার প্রার্থী আব্দুল হাই ও শৈলকুপা উপজেলা চেয়ারম্যান মো. আব্দুল হাকিমসহ চারজনের বিরুদ্ধে পৃথক দুটি মামলা হয়েছে। মঙ্গলবার (২ জানুয়ারি) শৈলকুপা উপজেলা নির্বাচন অফিসার মো. তায়জুল ইসলাম বাদী হয়ে শৈলকুপা থানায় এই দুটি মামলা করেন। এরপর থেকেই প্রচার-প্রচারণায় দেখা যাচ্ছে না নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাইসহ এই চারজনকে। এর আগেও আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে আব্দুল হাই ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে আরও দুটি মামলা করে নির্বাচন কমিশন।
মামলার খবর প্রকাশের পর থেকেই শৈলকুপার সাধারণ ভোটারদের মাঝে এক ধরনের স্বস্তি লক্ষ্য করা যাচ্ছে! প্রশাসনের যেকোনো ধরনের নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিপক্ষে ও সুন্দর সুষ্ঠু পরিবেশে ভোটগ্রহণের পক্ষে শক্ত অবস্থান থাকায় এই পরিবেশ সৃষ্টি হচ্ছে বলে জানান ভোটাররা!
আচরণবিধি লঙ্ঘনের মামলায় অপর আসামিরা হলেন- হাকিমপুর ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ইকু শিকদার ও শৈলকুপা উপজেলা যুবলীগের সভাপতি শামীম হোসেন মোল্যা। এদিকে মামলার খবর প্রকাশ্যে আসতেই গ্রেপ্তার আতঙ্কে গা ঢাকা দিয়েছে নির্বাচন কমিশনের দেওয়া মামলার আসামিরা।
শৈলকুপার কয়েকজন ভোটারের সঙ্গে কথা বললে তারা জানান, এমপি আব্দুল হাইসহ প্রভাবশালী চার আওয়ামী নেতার মামলার খবরে এলাকায় শান্তি বিরাজ করছে। ভোটগ্রহণের আগেই যদি প্রশাসন তাদেরকে গ্রেপ্তার করে তাহলে শান্তিপূর্ণভাবে সবাই ভোটকেন্দ্রে যেতে পারবে।
ভোটাররা আরও জানান, শৈলকুপায় নৌকার বিপক্ষে যে ভোটারগণ আছেন তাদেরকে সবসময় নৌকার পক্ষের অনুসারী নেতৃবৃন্দ ও ক্যাডার বাহিনী নৌকার পক্ষে ভোট করতে হুমকি-ধামকি দিয়ে আসছিল। এছাড়া নৌকার অনুসারী ক্যাডার বাহিনীর হামলায় এখন পর্যন্ত প্রায় ১০-১৫ জন গুরুতর আহত হয়ে বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। এমনকি সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ভোটারদেরকে নৌকার বিপক্ষে ভোট করলে এলাকাছাড়া হবে বলেও বিভিন্ন রকম ভয়-ভীতি দেখিয়ে আসছিল। কিন্তু নৌকার প্রার্থী আব্দুল হাই ও তার অনুসারীদের বিরুদ্ধে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে পরপর দুটি মামলা হওয়ায় এবং উক্ত মামলায় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে গ্রেপ্তার অভিযানের ফলে আসামিরা গা ঢাকা দিতে বাধ্য হওয়ায় সব ধরনের সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড থেকে শৈলকুপার সাধারণ ভোটাররা মুক্তি পাবে বলে আশা করছে। ভোট সংশ্লিষ্ট সব সরকারি দপ্তরের শক্ত অবস্থানের কারণেই নিরপেক্ষ ভোট হবে বলে তারা মনে করেন। ভোটারদের চাওয়া কোনো রকমের সহিংসতা বা প্রাণহানির মতো ঘটনা যেন না ঘটে সেটা নিশ্চিত করে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সুন্দর সুস্থ পরিবেশে একটি ভোট শৈলকুপার মানুষের জন্য উপহার দিক।
ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য বীরমুক্তিযোদ্ধা নায়েব আলী জোর্য়াদ্দার জানান, নৌকা প্রতীকের প্রার্থী তাদের ক্যাডার বাহিনী দিয়ে সহিংসতা করে জোর-জবরদস্তি করে ভোট আদায় করতে চাচ্ছিল। তবে নির্বাচন কমিশনের সুষ্ঠু তদারকিতে এবার আর সন্ত্রাসী দিয়ে ভোটের কার্যক্রম সে করতে পারছে না। কমিশন যদি ভোট গণনা পর্যন্ত এটা বলবৎ রাখতে পারে তাহলে ৭ জানুয়ারির নির্বাচনে ভোটাররা নির্বিঘ্নে কেন্দ্রে এসে তাদের পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারবে।
ঝিনাইদহ জেলা পুলিশের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ইমরান জাকারিয়া জানান, আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটিয়ে নির্বাচনের আচরণবিধি যিনিই লঙ্ঘন করবে আইনগতভাবে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। সুন্দর ও সুষ্ঠু পরিবেশে নির্বাচন অনুষ্ঠিত করার লক্ষ্যে আমরা বদ্ধপরিকর। এ বিষয়ে জানতে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আব্দুল হাই এমপির ব্যক্তিগত নম্বরে কল করলে সেটা বন্ধ পাওয়া যায়।
এইউ