দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

যশোরের চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গত ৪৮ ঘণ্টায় ১৭ শিশুর স্বাভাবিক প্রসব হয়েছে। প্রসূতি মা ও শিশুরা সবাই সুস্থ আছেন। তারা হাসপাতাল থেকে বাড়িতেও চলে গেছেন।
বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রসূতি ওয়ার্ডে এসব প্রসূতি মায়েরা স্বাভাবিকভাবে তাদের সন্তান প্রসব করেন। এসময় হাসপাতালের প্রসূতি ওয়ার্ডে কর্তব্যরত নার্স ও মিডওয়াইফ, স্বেচ্ছাসেবীরা এসব প্রসবে সহায়তা করেন। জন্ম নেওয়া শিশুদের মধ্যে ৯ জন মেয়ে ও ৮ জন ছেলে।
চিকিৎসা কর্মকর্তারা বলছেন, প্রসব পূর্ববর্তী চিকিৎসার সময় স্বাভাবিক প্রসবের জন্য প্রসূতি মায়েদের কাউন্সিলিং করানো এবং হাসপাতালে চিকিৎসক ও সেবিকাদের সমন্বয়ে টিম ওয়ার্কের ফলেই হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসূতি বেড়েছে।
প্রসূতি স্বাস্থ্যসেবায় উপজেলা পর্যায়ে দেশসেরা হাসপাতালটি বরাবরই স্বাভাবিক প্রসবেও (নরমাল ভ্যাজাইনাল ডেলিভারি) দেশসেরা। ২০০৪ সাল থেকে হাসপাতালটি মোট ১৩ বার প্রসূতি সেবায় উপজেলা পর্যায়ে দেশসেরার স্বীকৃতিস্বরূপ রাষ্ট্রীয় পদক পেয়েছে।
জানা যায়, চলতি সেপ্টেম্বর মাসের ১৬ তারিখ পর্যন্ত স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে স্বাভাবিক প্রসব (নরমাল ভ্যাজাইনাল ডেলিভারি) হয়েছে ৭৩ জন প্রসূতির। এরমধ্যে বৃহস্পতিবার (১৪ সেপ্টেম্বর) রাত থেকে শনিবার (১৬ সেপ্টেম্বর) সকাল পর্যন্ত ৪৮ ঘণ্টায় স্বাভাবিক ডেলিভারি হয়েছে ১৭ জন প্রসূতির। হাসপাতালটিতে সেপ্টেম্বরের ২ থেকে ১৬ তারিখ পর্যন্ত সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে ৪১ জন প্রসূতির। আর বৃহস্পতি ও শনিবার সিজারিয়ান ডেলিভারি হয়েছে ৯ প্রসূতি মায়ের। হাসপাতাল সূত্রে আরও জানা গেছে, আগস্ট মাসে হাসপাতালটিতে নরমাল ভ্যাজাইনাল ডেলিভারি হয় ১২৩ জন এবং সিজারিয়ান ডেলিভারি হয় ৮৮ জন প্রসূতির।

এ বিষয়ে হাসপাতালের প্রসূতি বিভাগে কর্তব্যরত মিডওয়াইফ মোসা. তামান্না আক্তার বলেন, আমরা প্রসূতিদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা ও তাদের প্রসবের জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত করার কারণেই হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসূতি বেড়েছে।
হাসপাতালের আবাসিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. আল এমরান বলেন, আমাদের মিডওয়াইফরা হাসপাতালে কোনো প্রসূতি এলে তাদেরকে শারিরিক পরীক্ষার পাশাপাশি মানসিকভাবে প্রস্তুত করে তোলেন। তাদেরকে স্বাভাবিক প্রসবের জন্য উৎসাহিত করেন। এজন্য হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসব বেড়েছে।
চৌগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মোছা. লুৎফুন্নাহার বলেন, ‘গত কিছুদিন যাবৎ দেখছিলাম হাসপাতালে স্বাভাবিক প্রসবের পরিমাণ কিছুটা কমে যাচ্ছিল। বিষয়টি নিয়ে আমার চিকিৎসক, সেবিকা, মিডওয়াইফ ও স্বেচ্ছাসেবীদের নিয়ে মিটিং করে এ বিষয়ে প্রসূতিদের কাউন্সিলিং করানোর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়। আমাদের এএনসি কর্নারে (প্রসব পূর্ববর্তী সেবাকেন্দ্র) হাসপাতালে সেবা নিতে আসা সব প্রসূতির মোবাইল ফোন নম্বর রাখা হয়। প্রসবের দিনের ২৪ ঘণ্টা আগে তারা হাসপাতালে না এলে তাদের ফোন করে হাসপাতালে আনা হয়। মূলত আমাদের টিম ওয়ার্কের ফসল ৪৮ ঘণ্টায় এই ১৭ শিশুর স্বাভাবিক প্রসব।
তিনি বলেন, সব শিশু এবং প্রসূতি সুস্থ আছেন। তারা নিজেদের বাড়িতে চলে গেছেন।
এইউ