দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

করপোরেট ই-মেইল, কফি মগ— সব মিলিয়ে অফিস-জীবন সাধারণত হিসেবি। তবে কখনো একটি কথাই সব কিছু বদলে দেয়। ঠিক তেমনি ঘটেছে ভারতের একটি বেসরকারি ব্যাংকে। এক নারী কর্মী তার গুরুতর অসুস্থ মায়ের দেখাশোনার জন্য ছুটি না পাওয়ায় ছেড়ে দিয়েছেন চাকরি।
কর্মীর অভিযোগ, ছুটি চাওয়ায় ম্যানেজার তাকে বলেন তার মা যদি ‘অসুস্থ হন, তাহলে তাকে কোনো মেডিকেল বা শেল্টার হোমে রেখে অফিসে চলে আসুন।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে করা একটি পোস্টে তিনি এ কথা লেখেন। ম্যানেজারের এই মন্তব্য ব্যাপক ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে, একই সঙ্গে করপোরেটের কঠিন কর্মপরিবেশ ও ব্যক্তিগত জীবনের ‘ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্স’ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছে।
পোস্টে আরও বলেন, ভুল ওষুধের কারণে তার মা গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে, তিনি কয়েক দিনের ছুটি চেয়েছিলেন। তবে বসের কথা অমান্য করে অফিসে না গিয়ে থাকে মায়ের পাশে থাকেন তিনি। তাই কোম্পানিতে তিনি বহু বছর কাজ করলেও ছুটি না দেওয়ায় তাকে পদত্যাগ পথ বেছে নিতে হয়।
পোস্টে তিনি আরও বলেন, “এমন কর্মক্ষেত্রে ‘সঠিক’ প্রতিক্রিয়া আসলে কী হওয়া উচিত, সেটাই বুঝতে পারছি না, সে জন্যই আমি এখানে পোস্ট করছি।”
সামাজিক মাধ্যম ব্যবহারকারীদের কাছে তিনি একটি প্রশ্ন রাখেন, ‘আপনি হলে কী করতেন?’
পোস্টটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম রেডিটে দ্রুতই ছড়িয়ে পরে, ৬০০-এর বেশি আপভোট এবং অসংখ্য মন্তব্য, সব মিলিয়ে আলোচনার কেন্দ্রে উঠে আসে করপোরেট সংস্কৃতি, ছুটি নীতি আর ওয়ার্ক লাইফ ব্যালান্স আদৌ কতটা বাস্তব।
একজন ব্যবহারকারী লেখেন, ‘এই প্রস্তাবটি যদি লিখিতভাবে চাইলে দেখতেন, কীভাবে তার সুর বদলে যায়।’
আরেকজন মন্তব্য করেন, ‘এটা শুধু অসংবেদনশীল নয় বরং নিষ্ঠুরও। তার ভেতর দিয়ে কী কষ্ট গেছে, আমি তা বুঝতে পারছি। এ ধরনের অমানবিক শোষণের বিরুদ্ধে আইনি সুরক্ষা থাকা উচিত।’
অন্য আরেকজন লেখেন, ‘এটা সত্যিই দুর্ভাগ্যজনক। কিন্তু তাকে কেন পদত্যাগ করতে হলো? বরং কোম্পানি ছাঁটাই করা পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত ছিল।’ সূত্র : এনডিটিভি।
আরএ